September 22, 2018

একই গ্রামে এ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৪০ ব্যক্তি, মারা গেছে ১৮ গরু

জাকিরুল ইসলাম
সিরাজগঞ্জ থেকেঃ   সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলায় এ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত ৫টি গরু জবাই করে মাংস খেয়ে একই গ্রামের ৪০ ব্যক্তি এ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ রোগে আক্রান্তদের বাড়ী উল্লাপাড়ার কয়ড়া সরাতলা গ্রামে। উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক দল এ খবর পেয়ে রোববার দুপুরে কয়ড়া সরাতলা গ্রামে আক্রান্তদের সনাক্ত করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। একই গ্রামে গত কয়েক দিনে ১৮টি গরু ওই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। মৃত গরুগুলোকে গ্রামবাসী মাটির নিচে পুঁতে রেখেছে। ওই এলাকায় এ্যানথ্রাক্স রোগের ভয়াবহতা দেখা দিলেও উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঠ পর্যায়ে তেমন কোন সহযোগীতা ছিলনা। জানা যায়, গত দুই সপ্তাহে উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের সরাতলা গ্রামের  মৃত শুকুর আলীর ছেলে আলী আহমেদ, আব্দুর রহমানের ছেলে শাহেদ আলী, মোকছেদ আলীর ছেলে আকছেদ আলী, মৃত বাছের প্রামানিকের ছেলে হযরত আলী এবং ফজেল প্রামানিকের ৫টি গরু এ্যানথাক্স রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

গ্রামের লোকেরা ওই অসুস্থ গরু জবাই করে তার মাংস ভাগ করে নিয়ে রান্না করে খায়।  এর কয়েকদিন পর থেকে যারা ওই অসুস্থ গরুর মাংস খেয়েছিল তাদের বেশির ভাগই এ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফোঁসকা পড়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। প্রথমে আক্রান্তরা স্থানীয় পল্লী চিৎিসকদের কাছে চিকিৎসা নিলেও তা না সারায় কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়ার জন্য যান। সে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাদের এ্যানথাক্স রোগ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওই গ্রামের এমন আরো অনেক রোগী আছে জানতে পেরে রোববার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একদল চিকিৎসক সরাতলা গ্রামে সরেজমিনে পরির্দশনে যান। এসময় তারা ওই গ্রামে অন্তত ৩৬ জন এ্যানথাক্স আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করেন।

আক্রান্তরা হলেন, সরাতলা গ্রামের গরু মালিক আলী আহম্মদ (৫০), শাহেদ আলী(৫৫), হযরত আলী (৫০), মরম আলী (১৭), মনিজা (৭), বরাত আলী (৩৫), মাছুম (১১), আসমাইল হোসেন (৪৫), সিহাব (১০), আব্দুল কাদের (৬০), আয়শা (১২), কমেলা খাতুন (৪০), আকছেদ আলী ৫৫), ফাহিমা (৫), রবিউল (৩০), কল্পনা (৬), মাজেদা (২৫), বেলাল (১২), রজিনা খাতুন (২৫), মীম (৬), শামীম (১২), সনেকা খাতুন (৬০), জাহের আলী (৮০), হয়দার আলী (৫৫), ছানোয়ার হোসেন (৫৫), রবিউল (১৬), রহিমা খাতুন (৪৫), অলিউল্লাহ(৩), রিপন (২৫), ময়মন খাতুন (৪৫), জাকারিয়া (৮), মনিরুল (২৫), আম্বিয়া খাতুন(৪০), কেফাত আলী (৩৮), নবিরুল (৯)সহ অন্যান্যরা।

এদের মধ্যে গরুর মালিক আলী আহম্মেদের অবস্থা গুরুতর। তার চোখ মুখ অস্বাভাবিক ধরনের ফুলে গেছে। পুরো গ্রামে এ রোগের আতংক বিরাজ করছে। উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. সুকুমার সুর রায় জানান, অসুস্থ গরুর মাংস খেয়ে রোগীগুলো এ্যানথাক্স রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদেরকে প্রাথমিকভাবে ৫ দিনের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এতে তারা সুস্থ হয়ে উঠবে। বাকীদের সনাক্তের কাজ চলছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১৫ মে ২০১৬

Related posts