December 18, 2018

এই বছরেই ‘৯/১১’ দেখতে পারে ইউরোপ !

২০০১ সালের ১ সেপ্টেম্বরের প্রসঙ্গ উঠলে এখনও গায়ে কাঁটা দেয় মার্কিনিদের। স্মরণকালের ভয়ংকরতম সন্ত্রসী হামলা হয়েছিল সেদিন। মৃত্যু হয় ২ হাজার ৯৯৬ জনের। আর আহত হয়েছিলেন ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ। ২০১৬ সালে ইউরোপেও এমন হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

২০১৬ সাল শুরু হয়েছে দশদিনও হয়নি। এরই মধ্যে এ ধরনের আশঙ্কার কারণ হিসেবে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা গত নভেম্বরের প্যারিস হামলা দিকেই আঙ্গুল তুলছেন। সেই সঙ্গে সম্প্রতি প্যারিসের একটি পুলিশ স্টেশনে এক ব্যক্তির হামলার চেষ্টার ঘটনাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

গত ১৩ নভেম্বর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ও এর আশেপাশের ছয়টি এলাকায় পৃথক হামলা চালায় জঙ্গিরা। এসব হামলায় ১৩০ জন নিহত হন। পরে এর দায় স্বীকার করে নেয় জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

আর গত ৭ জানুয়ারি প্যারিসের উত্তরাঞ্চলে বারবেস এলাকায় একটি পুলিশ স্টেশনে ছুরি হাতে হামলার চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। তবে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। তার শরীরে নকল বিস্ফোরক ভেস্ট ছিল বলেও জানিয়েছে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এসব ঘটনা ও জঙ্গিদের তৎপরতা বিশ্লেষণ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ফরাসি গোয়েন্দা বলেছেন, আমার ধারণা, ২০১৫ সালে যা হয়েছে, তা কিছুই না। ইউরোপ ‘৯/১১’র দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ মহাদেশের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের হামলার শঙ্কা রয়েছে। সন্ত্রাসীরা খুবই সংঘবদ্ধ। তারা থেমে নেই।

তিনি আরও জানান, আইএস এমন হামলা পরিচালনার জন্যই ইউরোপীয়দের মধ্যে থেকে জঙ্গি নির্বাচিত করছে এবং নিয়োগ দিচ্ছে। এর একমাত্র উদ্দেশ্য, দেশের নাগরিকের হাতেই তার দেশে প্রলয় ঘটানো।

তিনি বলেন, আমরা অনেককেই থামিয়েছি। তবে স্বীকার করতেই হবে, আমরা সন্ত্রাসীদের দ্বারা বেষ্টিত হয়ে পড়েছি। তাদের কাছে তথ্য রয়েছে, তারা বিভিন্ন ভাষায় পারদর্শী, তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে, অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত তারা।

ফরাসি এলিট জিআইজিএন পুলিশের প্রধান কর্নেল হুবার্ট বনিউ বলেছেন, আমরা এমন শত্রুর মোকাবেলা করছি, যারা মরে যেতে ভালোবাসে এবং মরার আগে যতোটা সম্ভব হতাহতের সংখ্যা বাড়াতে চায়। গত নভেম্বরে বাতাক্লঁয়ে মাত্র ২০ মিনিটে ৯০ জনকে হত্যা করা হয়। এটা তখনই থামলো, যখন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছে ব্যবস্থা নিলেন। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর সময় লাগলো আড়াই ঘণ্টারও বেশি।

তিনি আরও বলেন, হামলা চালিয়ে বন্দি করার রীতি থেকে সরে এসেছে জঙ্গিরা। তারা এখন নির্বিচারে হত্যা করছে। আগে সাধারণ মানুষকে বন্দি করা হতো নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিক্রিয়া ধীর করে দিতে। আর এই ফাঁকে উদ্দেশ্য হাসিল করে তারা পালিয়ে যেত। কিন্তু এখনকার হামলায় নিহত না হওয়া পর্যন্ত হত্যা করছে হামলাকারী।

ফরাসি ডিজিএসই গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক বিশ্লেষক ইভস ট্রটিগনন বলেছেন, এক সঙ্গে কয়েকটি জায়গায় হামলা চালানোর এ রীতি একেবারেই নতুন। ২০১০ সালের আগস্ট মাসের শেষ দিকে প্রথম এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। আল-কায়েদা সে সময় এসব হামলা চালায়। ২০১৬ সালেও এমন হামলা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, আমি জানি ইউরোপীয় রাজধানী শহরগুলো, বিশেষ করে লন্ডনে বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা এসব বিষয় মাথায় রেখেই কাজ করছেন। তারপরও শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পুলিশ, সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হুমকি, হামলার তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে সন্ত্রাসীদের গতিবিধি ধরার চেষ্টা করছেন। তারা নতুন নতুন বিষয় শিখছেন। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, বিপরীত পক্ষও দিনদিন নিজেদের গতিশীল ও কার্যকর করে তুলছে।

ইভস ট্রটিগনন শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, হতে পারে ২০১৫ সালে যা হয়ে গেছে, তা আসলে শুধুই মহড়া ছিল। ২০১৬ সালে হবে মূল নাটকের দৃশ্যায়ন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts