September 23, 2018

এইডসের ওষুধ আবিষ্কার করলেন মোহন কবিরাজ!

জামালপুর: মরণব্যাধি এইডস নিরাময়ের ওষুধ আবিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন জামালপুরের মোস্তাফিজুর রহমান মোহন নামের এক কবিরাজ। দেশীয় গাছ-গাছালি ও লতা-পাতার নির্যাস দিয়ে তৈরি তারহৌষধ সেবন করে ইতিমধ্যেই তিনজন রোগী শতভাগ এইডসমুক্ত হয়েছেন এবং ৪র্থ রোগী ক্রমেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশ তথা রোগীদের মরণব্যাধি এইডস থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মোহন কবিরাজের দাবি।

জামালপুর শহরের মধ্য বাগেরহাটা এলাকার নামের কবিরাজ জানান, তার বাবা এবং দাদা দুজনই কবিরাজ ছিলেন। তারা জীবদ্দশায় দেশীয় গাছ-গাছালি ও লতা-পাতার নির্যাস দিয়ে বিভিন্ন রোগের ওষুধ তৈরি করে রোগাক্রান্ত শত শত মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ করেছেন।

পূর্ব পুরুষদের ঔষধি সূত্রের ভিত্তিতে মোহন কবিরাজ দেশীয় গাছ গাছালি ও লতা-পাতার নির্যাস দিয়েই তৈরি করেছেন এইডস ’নিরাময়ের মহৌষধ’। তিনি পরীক্ষামূলকভাবে সেই মহৌষধ সেবন করিয়ে ইতিমধ্যেই চগ্রামের স্বপন, ঢাকার আশরাফ ও কুমিল্লার জেবুন্নাহার নামের তিনজন রোগীকে শতভাগ এইডসমুক্ত করেছেন। এ ছাড়াও জামাল নামের চতুর্থ রোগীকে এইডসমুক্ত করতে তিনি গত তিন মাস ধরে নিয়মিত ওষুধ সেবন করিয়ে দ্রুত সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

মোহন কবিরাজ জানান, তিনি নিজের উদ্ভাবিত ওষুধ দিয়ে বিনামূল্যে এইডস রোগের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় একটি প্রচারপত্র বিলি করেন। ওই প্রচারপত্র দেখে পর্যায়ক্রমে চারজন এইডস রোগী তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। তিনি তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য রোগীটি এইডস রোগী কিনা তা আগে নিশ্চিত হয়েছেন। আর সেজন্য ওই রোগীকে এইডস রোগীকে প্রথমে ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে তার রক্ত পরীক্ষা করিয়ে জেনে নিয়েছেন রোগীটির রক্তে কি পরিমাণ এইচআইভি ভাইরাস রয়েছে। পরে রোগীর শারিরীক অবস্থা এবং রোগের পরিধি জেনে সেই অনুপাতে নিজের উদ্ভাবিত ওষুধ দিয়ে বিনামূল্যে এইডস রোগের চিকিৎসা সেবা শুরু করেন।

তিনি আরো জানান, এক মাস ওষুধ সেবনের পর দ্বিতীয় দফায় রক্ত পরীক্ষা এবং চিকিৎসা শেষে তৃতীয় দফায় রক্ত পরীক্ষা করে রোগীর শরীর থেকে এইডস রোগ নিরাময়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। ঠিক একইভাবে গত এক বছরে তিনি তিনজন রোগীকে শতভাগ সুস্থ করে মরণব্যাধি এইডস রোগের কবল থেকে রক্ষা করেছেন।

এইডস রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া চট্রগ্রামের স্বপন, ঢাকার আশরাফ ও কুমিল্লার জেবুন্নাহার এর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রত্যেকেই ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্ত পরীক্ষা করে এইডস রোগী হিসাবে শনাক্ত হওয়ার পর মোহন কবিরাজের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।

মোহন কবিরাজের দাবি, তার উদ্ভাবিত ওষুধ সেবনে এইডস আক্রান্ত প্রতিটি রোগী সুস্থ করে তোলা সম্ভব। তাই সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তার উদ্ভাবিত এইডস নিরাময়ের ওষুধের গুনাগুন যাচাই করে তা বিশ্বমানের ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তুলতে চান। সেই সাথে তিনি মরণব্যাধি এইডস থেকে রক্ষার জন্য তার উদ্ভাবিত ওষুধ বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী ভারতসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চান।

Related posts