September 26, 2018

‘উনাদের কোনো ভয় নেই এবং কোনো চিন্তাও নেই’

372
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘সাবধান! নিশ্চয় যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী; উনাদের কোনো ভয় নেই এবং কোনো চিন্তা-পেরেশানীও নেই।’

ঐতিহাসিক সুমহান বরকতময় পবিত্র ১১ই রবীউছ ছানী শরীফ-

মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিন।

যা ‘পবিত্র ফাতিহায়ে ইয়াযদাহম শরীফ’ নামে সারাবিশ্বে মশহুর।

তাই প্রত্যেক মুসলমান এবং বাংলাদেশ সরকারসহ পৃথিবীর সমস্ত দেশের সরকারের উচিত-

যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যতার সাথে এ মুবারক দিনটি পালন করা এবং পালন করার সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পাশাপাশি মাদরাসা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে উনার জীবনী মুবারক অন্তর্ভুক্ত করা।

আর এ সুমহান দিনের সম্মানার্থে সরকারি ছুটি ঘোষণা করাও সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্য।

পবিত্র রবীউছ ছানী শরীফ মাস অত্যন্ত বরকত ও ফযীলতপূর্ণ মাস। এই পবিত্র মাস উনার মধ্যেই মাহবুবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ থেকে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ পর্যন্ত আমরা যে ওয়াকিয়া বা ইতিহাস দেখতে পাই; তার মধ্যে হাজারো নছীহত বা ইবরত মুবারক রয়ে গেছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “সাবধান! নিশ্চয় যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী; উনাদের কোনো ভয় নেই এবং কোনো চিন্তা-পেরেশানীও নেই।” সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, “প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতে মহান আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের ইছলাহর জন্য একজন মহান মুজাদ্দিদ প্রেরণ করবেন, যিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার তাজদীদ করবেন।”

অর্থাৎ যিনি মুজাদ্দিদ তিনি বিদয়াত, বেশরা এবং শরীয়তবিরোধী কাজগুলো দূরীভূত করবেন। সুবহানাল্লাহ!

সেই রকম একজন খাছ ও বিশিষ্ট ওলীআল্লাহ ও মুজাদ্দিদ হলেন- গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। তিনি ৪৭১ হিজরী সনের পবিত্র পহেলা রমাদ্বান শরীফ, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) পবিত্র জিলান নগরে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। পবিত্র জিলান নগরীটি তৎকালে ইরানে অবস্থিত ছিল।

গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সম্মানিত পিতা উনার দিক থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সম্মানিতা মাতা উনার দিক থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বংশধর অর্থাৎ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত পিতা উনার নাম মুবারক হযরত সাইয়্যিদ আবু ছালেহ মুসা ‘জঙ্গী দোস্ত’ রহমতুল্লাহি আলাইহি। যেহেতু তিনি জিহাদপ্রিয় ছিলেন সেহেতু উনাকে ‘জঙ্গী দোস্ত’ বলা হয়। আর উনার সম্মানিতা মাতা উনার নাম মুবারক উম্মুল খায়ের আমাতুল জাব্বার হযরত ফাতিমা রহমতুল্লাহি আলাইহা।

‘বাহজাতুল আসরার শরীফ’ নামক কিতাব উনার মধ্যে হযরত শায়েখ শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ৫৬১ হিজরী সনের পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস হতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ‘তাওয়ারিখে আউলিয়া’ নামক কিতাব উনার মধ্যে হযরত শায়েখ আব্দুল ফতেহ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পবিত্র ১০ রবীউছ ছানী, ইয়াওমুল আহাদ বা রোববার দিবাগত রাত্রে অর্থাৎ পবিত্র ১১ রবীউছ ছানী লাইলাতুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) রাত্রে গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি গোসল মুবারক করেন। গোসলান্তে পবিত্র ইশা নামায আদায় করে তিনি উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের গুনাহখাতা মাফের জন্য ও উনাদের উপর খাছ রহমতের জন্য দোয়া করলেন।

এরপর গায়েব হতে আওয়াজ আসলো, “হে প্রশান্ত নফস, আপনি সন্তুষ্টচিত্তে, সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত হয়ে নিজ প্রতিপালক উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করুন। আপনি আমার নেককার বান্দা উনাদের মধ্যে শামিল হয়ে যান এবং পবিত্র বেহেশতে প্রবেশ করুন।” সুবহানাল্লাহ! এভাবে ৫৬১ হিজরী সনের ১১ রবীউছ ছানী, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সুমহান দরবার মুবারক-এ প্রত্যাবর্তন করলেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)

উল্লেখ্য, এ পবিত্র দিনটিই সারাবিশ্বে ‘পবিত্র ফাতিহায়ে ইয়াযদাহম’ নামে মশহুর। ঐতিহাসিক সুমহান পবিত্র ফাতিহায়ে ইয়াযদাহম শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনী মুবারক উনার মধ্যে অনেক নছীহত ও ইবরত মুবারক রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা ইউসূফ শরীফ’ উনার মধ্যে বলেন, “নিশ্চয় এই ঘটনার মধ্যে জ্ঞানীগণ উনাদের জন্য রয়েছে ইবরত নছীহত।”

এ পবিত্র আয়াত শরীফ থেকে ছাবিত করা হয় যে, পরবর্তী লোকদের জন্য পূর্ববর্তী লোকদের ঘটনাগুলো ইবরত-নছীহতস¦রূপ। তাই প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- গাউছুল আ’যম সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী মুবারক জেনে উনাকে মুহব্বত ও অনুসরণ করে আল্লাহওয়ালা ও আল্লাহওয়ালী হওয়ার কোশেশ করা এবং পবিত্র ফাতিহায়ে ইয়াযদাহম শরীফ উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকারসহ পৃথিবীর সমস্ত দেশের সরকারের উচিত- যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যতার সাথে এ মুবারক দিনটি পালন করা এবং পালন করার সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পাশাপাশি মাদরাসা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে উনার জীবনী মুবারক অন্তর্ভুক্ত করা। আর এ সুমহান দিনের সম্মানার্থে সরকারি ছুটি ঘোষণা করাও সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্য।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts