November 18, 2018

উদ্ভাবিত হলো পাটের বিকল্প আঁশ!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী মোঃ কামরুজ্জামান গাছের পাতা থেকে উদ্ভাবন করেছে পাটের বিকল্প আঁশ। তিনি জানান, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাষ্টিক সামগ্রী বর্জন করে পাটজাত সামগ্রীর দিকে আগ্রহী করার জন্য সরকার যথাসাধ্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পাটের আঁশের স্বল্পতা সহ অন্যান্য কারণে এ প্রচেষ্টা কিছুটা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। যার ফলে পাটের বিকল্প আঁশ উদ্ভাবনের মাধ্যমে আঁশের সরববরাহ বৃদ্ধির জন্য তিনি প্রায় দুবছর ধরে গবেষণা চালাতে থাকেন। প্রথম পর্যায় তিনি আনারসের পাতার উপর প্রচেষ্টা চালিয়ে আশানুরুপ ফলাফল না পেয়ে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদের পাতার উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।

পাট একটি বিশেষ মৌসুমে জন্মায় ও নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকে। ফলে তিনি এমন সব উদ্ভিদের উপর গবেষণা চালাতে থাকেন, যারা যেকোন মৌসুমে জন্মায় এবং সারা বছর বেঁচে থাকে। বহু সাধনার পর তিনি এমন এক উপযুক্ত উদ্ভিদ পান যা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। শুধুতাই নয়, এ উদ্ভিদের পাতা থেকে প্রতিনিয়ত আঁশ পাওয়া যায়। প্রাপ্ত বয়স্ক উদ্ভিদটির পাতা থেকে প্রায় ৪ ফুট লম্বা পাটের ন্যায় আঁশ পাওয়া সম্ভব। এ আঁশ দেখতে বেশ চকচকে। যা পাটের আঁশের চেয়েও মজবুত। পাটজাত দ্রব্য তৈরির ক্ষেত্রে যাথাপোযুক্ত বলে দাবি করেছেন কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, পাটের মত একই পন্থায় এ পাতা থেকেও আঁশ সংগ্রহ করা যায়। দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে বলে একই গাছ থেকে অনেক পাতা তথা প্রচুর পরিমানে আঁশ সংগ্রহের উপযোগী।

যথাযথ চাষাবাদ শুরু হলে এ স্বল্প মূল্যেই প্রয়োজীয় আঁশ পাওয়া যাবে। অন্যদিকে এ পাতার উচ্ছিষ্ট অংশ পক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উন্নতমানের জৈব সার পাওয়া সম্ভব। বিশেষ এ উদ্ভিদ সম্পর্কে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ, পাবনা এর উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশেদ কারামী বলেন, আলোচ্য উদ্ভিদটির নাম ’সেঞ্চুরী প্লান্ট’। এটি বাংলাদেশের সব জেলাতেই চাষাবাদের উপযোগী। দেশের অনেক স্থানে এ উদ্ভিদ দেখা যায়। স্বল্প পরিচর্যাতেই এ উদ্ভিদ বেড়ে উঠে এবং বেঁচেও থাকে দীর্ঘদিন। অসংখ্য পাতা সমৃদ্ধ এ উদ্ভিদের প্রতিটি পাতা সুন্দর আঁশ বিশিষ্ট। যা থেকে প্রতিনিয়ত প্রচুর আঁশ পাওয়া যেতে পারে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts