September 22, 2018

উত্তরাধিকারের রাজনীতি বনাম রাজনীতির উত্তরাধিকার

সানুল হক নিরু: মানুষ হত্যা আর রক্তের রাজনীতি, এটি আওয়ামীলীগের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এক ফ্যাসিবাদী চরিত্র। ভোট ডাকাতি, ভোট জালিয়াতি, বিনাভোটের নির্বাচন, বিরোধী দল ও ভিন্ন মতকে নির্মমভাবে হত্যা, দমন এটা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অতীত ঐতিহ্য। বিশেষ করে বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতাকে পদদলীত করে এরা ইতিহাসের পরিক্রমায় বারবার নিজেদেরকে ধিকৃত করেছে, অন্যদিকে গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে একদলীয় বাকশালী নব্য ফ্যাসিজমকে ক্ষমতার হাতিয়ার বানিয়ে এদেশবাসীর স্বাভাবিক বাঁচার গ্যারান্টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দুর্বৃত্ত্বায়নের রাজনীতিতে এরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এভাবে ষোল কোটি মানুষকে ভয় দেখিয়ে আর কতোদিন চলবে? এদেশের ষোল কোটি জনতা কিংবা তাদের ভোটাধিকারের বিপরীতে ভারত যাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার গ্যারান্টি, তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের জনগনের আর কিইবা প্রত্যাশা থাকতে পারে? আওয়ামী লীগ নামক এই দলটি শুধুমাত্র তাদের ফ্যসিবাদী চরিত্রের কারণে, রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ চলার পরিক্রমায় এরা ৭০-এর নির্বাচনের পর একাত্তরের মহান বিজয় ও স্বাধীন বাংলাদেশে একবার ৭২-৭৫, এবং পরবর্তীতে যখনই ক্ষমতায় এসেছে; এদেশের জনগন কখনোই তাঁদের বিশ্বাস কিংবা আস্থার অবস্খান থেকে বিবেচনায় নেয়নি। এদের ধর্ম নিরপেক্ষ মতবাদ _ বিশেষকরে ইসলাম, কোরআন এবং নবী মুহাম্মদ (সা:) এর জীবন বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এক মোনাফেকি মতবাদ। বাঙ্গালী মতবাদ নিয়েও একই ধরণের ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পাওয়া যায়! বিশেষকরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৫০ কোটি বাংলা ভাষাবাসি মানুষ ভাষাগত দিক থেকে বাঙ্গালী হলেও এরা সবাই বাংলাদেশী নয়। পশ্চিম বঙ্গের মমতা দিদিরা, তাদের নাম পরিবর্তন করে এবার নাম রেখেছে বাংলা। এবার বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার অনুসারীরা সোনা কেটে বাংলা রাখলেই লেঠা চুঁকে যায়। বাংলাদেশের ভূখন্ডে বসবাসরত শুধু বাংলা ভাষাবাসির মানুষ না, সকল ভাষার মানুষই বাংলাদেশী এবং এ জাতীয়তাবাদী চেতনাকে ধারণ করেই এ দেশের মানুষ ৭১-এ বুকের রক্ত ঢেলে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এদেশকে স্বাধীন করেছে! ভারতকে সুবিধা দেয়া কিংবা খুশী করার জন্য নয়। স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম রুপকার, সর্বজন শ্রদ্ধেয় মৌলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানীর মতো দেশবরেণ্য প্রবীণ নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম . এ . জি ওসমানী, অন্যতম কারীগর _ বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলীল, আ.স.ম আবদুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, সংবিধান প্রণেতা শ্রদ্ধেয় ড: কামাল হোসেন, প্রয়াত শ্রদ্ধেয় ডেমোকরেটিক লীগ নেতা অলী আহাদ, বর্তমান সময়ে কর্পোরেট বিশ্বের আলোচিত ব্যক্তিত্ব নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী ডক্টর ইউনুস এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যারা শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভিন্নতা, কিংবা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আওয়ামী লীগ নামক ফ্যাসিষ্ট এ দলটির দ্বারা নিগৃহীত হয়নি। এমনকি স্বাধীনতা পরবর্তীতে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা, প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে ছাত্র ইউনিয়ন, ভাষানী ন্যাপ এবং জাসদের বিপ্লবী ও ত্যাগী ত্রিশ হাজারের উপরে নেতাকর্মীকে একাত্তর পরবর্তী (৭২-৭৫) একদলীয় বাকশালী সরকার তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের পেটোয়া বাহিনী হিসেবে খ্যাত রক্ষীবাহিণী দিয়ে তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করে। স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা রণাঙ্গনের অকুতোভয় সৈনিক, বীরোত্তম, একজন সেক্টর কমান্ডার, ১৫ আগষ্টের শোকাবহ ঘটনার পর জাতি যখন নতুন করে গভীর সংকটে নিপতিত, ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার সফল বিপ্লবের পটভূমিতে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে এই মহান বীর জিয়াউর রহমানই গোলামীর জিন্জির থেকে নতুন করে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, প্রিয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সেদিন রক্ষা করেছেন। যারা একজন স্বাধীনতার ঘোষক, রণাঙ্গনের অকুতোভয় সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরোত্তমকে নিয়ে বেফাস মন্তব্য করতে পারে, তারা কি আদৌ বাংলাদেশের বন্ধু নাকি ভারত প্রেমী। দেশপ্রেমিক নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে যারা পাকিস্তানের চর, বিশেষকরে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ উনার স্বাধীনতার ঘোষণা ও জেড ফোর্সের প্রাণপুরুষ এই অসীম সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অস্বীকার করতে পারে, তারা এক স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশকে স্বীকার করে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। যে ভারত শেখ মুজিবকে হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে সেদিন জাসদের মতো একটি প্রতিবিপ্লবী সংগঠনের জন্ম দিয়েছিলো, আজ সেই জাসদ এবং ভারতই বর্তমান ক্ষমতাসীনদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু ! এদের শেষ পরিণতি দেখার অপেক্ষায় থাকলাম, সময়ই নির্ধারণ করবে কে বন্ধু আর কে শত্রু !

Related posts