September 22, 2018

ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে চাঁদপুরের কামার শিল্পীরা

এ কে আজাদ,
চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে চাঁদপুরের কামার শিল্পীরা। ভোর হতে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের তালতলা এলাকায় কামার পল্লীতে ব্যস্ততার চিত্র দেখা যায়। কোরবানির পশুর মাংস কাঁটাকাটি আর চামড়া ছড়ানোর জন্য অন্যতম অনুসংগ দা, ছুরি, চাপাতি, বটিসহ বিভিন্ন ধরনের পন্য তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছে তারা।

ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসে কামার শিল্পীদের কাছে গরু কাটার দা. চাপাতি, ছুরিসহ নানা জিনিস ক্রয় করছেন। আবার অনেকে ঘরে থাকা পুরনো দা, চাপাতি, ছুরি ধারালো করতে আসছেন।

বর্তমানে কোরবানির কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রের মধ্যে বটি প্রকার ভেদে ৩শ’ থেকে ৭শ’ টাকা, দা ৩শ’ থেকে ৭শ’ টাকা, বড় আকৃতির ছুরি ৪শ’ থেকে ৮শ’ টাকা, ছোট আকৃতির ছুরি ৫০ থেকে ২শ’ টাকা এবং ধামা ৬শ’ থেকে ৯শ’ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর এসব জিনিসের বিক্রি কম হওয়ায় বিপাকে রয়েছেন চাঁদপুরের কামার শিল্পীরা । তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে বিক্রি ততো বেশী হবে বলে জানান তারা। ঈদুল আযহার অন্যতম ওয়াজিব পশু জবাই করা। আর জবাহ করার অন্যতম উপাদান এসব পন্য। সারা বছর তৈরীকৃত এসব পন্য যত বিক্রি হয়না তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয় ঈদুল আযহাকে উপলক্ষ করে।

কারণ হিসাবে, পশু জবাহ করার জন্য ধারালো অস্ত্রের প্রয়োজন। আর ঈদ চলে যাওয়ার পর এসব অস্ত্র সবাই রক্ষিত রাখেন না। আর যারাও রাখেন সেগুলুতে জংপরে নস্ট হয়ে থাকে তাই প্রতি বছর নতুন নতুন অস্ত্রের প্রয়োজন পড়ে। তাই ঈদকে কেন্দ্র করে দা, ছুরি, চাপাতি ও বটিসহ নানা পন্য তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে পরে কামার শিল্পীরা।

শহর থেকে শুরু করে গ্রাম গঞ্জের সকল হাট-বাজারে এসব তৈরীকৃত পন্য বিক্রি করা হচ্ছে। বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে কোরবানির সময়টাতে কামার শিল্পীদের কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বেড়ে যায় তাদের আয়-রোজগারও।

ক’জন কামার শিল্পীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কামার শিল্পের অতি প্রয়োজনীয় জ্বালানি হচ্ছে কয়লা এই কয়লা এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রাম-গঞ্জে গুরে-গুরে কয়লা সংগ্রহ করতে হয়। এই কয়লার অপ্রতুলতায় দাম অনেক বেড়ে গেছে। বেড়েছে লোহার দামও। লোহা ও কয়লার দাম বাড়লেও সে তুলনায় কামার শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি। এছাড়া আধুনিকতার ছোঁয়ায় এসব পণ্য তৈরীর বেশ কিছু প্রযুক্তি নির্ভর কারখানা হয়ে গেছে মানুষ জনও এখন সেখানেই ছুটছে ফলে কামার সম্প্রদায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে। এর কারনে অনেকে বাধ্য হয়ে পৈতিক এই পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে।

তবে আবার অনেকে বলছে আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হলেও তাদের পৈতিক পেশাকে এখনো বুকে আকড়ে ধরে আছেন। কিন্তু তাদের সন্তানদের আর এ পেশায় আনবেন না।

Related posts