November 16, 2018

ঈদ আনন্দে সুস্থ থাকার উপায়

aবিনোদন ডেস্ক ::ঈদের এ সময়ে সব ঘরেই খাবারদাবারের ব্যাপক আয়োজন থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন রোজা পালনের পর খাবার খেতে একটু সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। পাশাপাশি ঈদের ছুটি আনন্দে কাঁটাতে রোগ-বালাই থেকে মুক্ত থাকতে হবে। এ বিষয়েই কিছু পরামর্শ জেনে নিন।

রমজানে আমাদের খাওয়াদাওয়ার ভিন্ন রকম নিয়মকানুন থাকে। রোজা শেষে আবার গতানুগতিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে যাই। ঠিক ঈদের দিন থেকেই বদলে যায় পুরো এক মাস মেনে চলা নিয়মকানুন, বিশেষ করে নিজের বাড়িতে ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে এ সময়ে খাওয়াদাওয়ার বিশেষ আয়োজন থাকে।

তবে পুরো মাস যারা রোজা রেখেছেন, পুরনো খাদ্যাভ্যাসে ফিরতে তাদের একটু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। হঠাৎ করে বেশি খেলে এ সময় হতে পারে বদহজম, বমি, ডায়রিয়া, পেট ফাঁপাসহ নানা সমস্যা।

খাবারদাবারে সতর্ক থাকুন:
ঈদের দিন অতিরিক্ত না খেয়ে যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। ঈদের দিনে গুরুপাক ভোজনের ফলে পাকস্থলীর ওপর হঠাৎ চাপ পড়ে। ফলে পেটে ব্যথা, বদহজম, গ্যাস, ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা, মাথা ধরা, বমি ইত্যাদি হতে দেখা যায়। তাই সতর্কতা শুরু করতে হবে খাবার বাছাই থেকেই।

ঈদের দিন সকালে অল্প করে সেমাই বা পায়েস খাওয়া যেতে পারে। কিশমিশ, বাদাম, বিভিন্ন ফল যেমন-পেঁপে, আম, বেল ইত্যাদি খেতে পারেন। ফলের জুস বা বেলের শরবতও খেতে পারেন। পাশাপাশি প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল খাবার খান।

তবে যে খাবারই হোক না কেন, তা একেবারে বেশি না খেয়ে ধীরে ধীরে অল্প পরিমাণে খান। কয়েক দিন সময় নিন স্বাভাবিক খাবারদাবারের পুরনো ছন্দে ফিরতে। ভাজাপোড়া, চর্বি ও মসলাযুক্ত খাবার পেটে গ্যাস তৈরি করে। এতে বদহজম ও বুকে জ্বালাপোড়া বাড়ায়, ওজন বৃদ্ধি করে। এগুলো এড়িয়ে চলুন।

দুগ্ধজাত খাদ্য অনেকের পেট ফেঁপে যাওয়ার জন্য দায়ী। এমন সমস্যা থাকলে সাবধানতা অবলম্বন করুন। হঠাৎ করে অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার যেমন-পোলাও, বিরিয়ানি, রোস্ট, রেজালা ইত্যাদি খেলে অস্বস্তি, এসিডিটি ও ডায়রিয়া হতে পারে। খেলেও পরিমাণে অল্প খাওয়া ভালো। খাবারের সঙ্গে টক দইযুক্ত সালাদ (টমেটো, শসা ইত্যাদি), বোরহানি, সবজি ইত্যাদি খেলে হজমের সহায়তা করবে। খাবারের পর ডেজার্ট হিসেবে দই খাওয়া ভালো।

নানা রোগে ভুগছেন যারা:
যাদের আগে থেকে অসুখ আছে যেমন-কিডনি, হার্টের রোগী, লিভার, বাত, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের রোগী-তাদের ঈদের খাবারে বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত। অন্যান্য সাধারণ দিনে তাদের খাবারের যে রুটিন ছিল তা এদিনও মেনে চলা উচিত। কিডনি রোগীদের মাংস বা প্রোটিনজাতীয় খাবার কম খাওয়া উচিত। পাশাপাশি তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। সেমাই, জর্দা, পায়েস না খেয়ে চটপটি, সালাদ, লাচ্ছি ইত্যাদি খাওয়া ভালো। ঈদে মাংস বেশি খাওয়া হয় বলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। অ্যানালফিশার বা হিমোরয়েড (পাইলস) রোগীরা সবজি, আঁশযুক্ত খাবার, সালাদ, পানি বেশি খাবেন।

যারা উচ্চ রক্তচাপে ও হার্টের রোগে ভুগছেন তারা পরিমাণমতো খাবেন। পোলাও, বিরিয়ানি, মগজ, কলিজা ইত্যাদি তাদর না খাওয়াই ভালো। এমনিতে যাদের অসুখ বিসুখ নেই তারা সবই খেতে পারবেন, তবে তা যেন পরিমাণে বেশি না হয়।

দরকারি কিছু ওষুধ:
এ সময় হাতের কাছে পেটের পীড়ার ওষুধ, খাওয়ার স্যালাইন, বমির ও পেট ফাঁপা নিয়ন্ত্রণের জন্য ডমপেরিডন-জাতীয় ওষুধ, সর্দি-জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল ও অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ হাতের কাছে থাকা দরকার।

শিশুদের নানা অসুখবিসুখে এ সময় হাতের কাছে সর্দি-জ্বর ও বমির সিরাপ রাখা উচিত, বিশেষ করে যারা শহর থেকে গ্রামে যাচ্ছেন তাদের এ বিষয়ে বেশি নজর দেওয়া দরকার। আর যাদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়, তারা হাতের কাছে সেসব ওষুধ রাখুন।

ভ্রমণের আগে শিশুদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পানি পান না করানো উচিত। এতে বমি হতে পারে। তাদের আঁটসাঁট জামাকাপড় না পরিয়ে আরামদায়ক জামাকাপড় পরান।

Related posts