September 20, 2018

ঈদের পূর্বেই মাদক ব্যবসায়ীদের ‘কোরবানী’ দেয়া হবে – শামীম ওসমান

রফিকুল ইসলাম রফিক
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরের পূর্বেই মাদক ব্যবসায়ীদের ‘কোরবাণী’ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান। যিনি এর আগে মাদক নির্মূলে পুলিশকে প্রয়োজনে গুলি করারও নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (২৩ আগষ্ট) নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস্ ক্লাবে সদর উপজেলাধীন ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন।

শামীম ওসমান আরো বলেন, আমার কাছে ভীমরুলের চাক আছে। যদি সেই চাক ছেড়ে দেই তাহলে আর নারায়ণগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ী থাকতে পারবেনা।

তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের কারনে আমাদের সমাজটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই উন্নয়ণের পূর্বে মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূল করে সমাজটাকে ভাল করতে হবে। তাহলেই উন্নয়নের স্বার্থকতা পাওয়া যাবে।

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে সাংসদ আরো বলেন, ‘জাস্ট গো ফর এ্যাকশন’। বাট্ মনে রাখতে হবে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে গিয়ে যেন নিরীহ জনগণ হয়রানীর শিকার না হন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শরফুদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার চৌধুরী, ফতুল্লা এসিল্যান্ড নাহিদা বারিক, ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন, সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শরাফত উল্লাহ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম সাইফুল্লাহ বাদল, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম শওকত আলী, এনায়েতনগর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, আলীরটেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মতিউর রহমান মতি, গোগনগর ইউপি চেয়ারম্যান নওশেদ আলী প্রমুখ।

এসময় সাংসদ শামীম ওসমান জনপ্রতিনিধিদের কাছে স্ব-স্ব এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের লিস্ট চান।

এরআগে গত ১৭ আগষ্ট নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূলে প্রয়োজনে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান। হউক সে তার দলীয় নেতাকর্মী, তাতে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু যেকোন কিছুর বিনিময়ে নারায়ণগঞ্জকে মাদক মুক্ত করতে এবার এমন হার্ডলাইনে আসেন এই এমপি।

সদর উপজেলা মিলনায়তনে আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় এ নির্দেশ দেন কমিটির উপদেষ্টা শামীম ওসমান।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যা করার করেন। কিন্তু সন্ত্রাস ও মাদককে কখনোই প্রশ্রয় দিবেন না। কার পায়ে গুলি করবেন, কীভাবে করবেন সেটা আমি জানি না, যেভাবেই হোক সমাজ থেকে চিরতরে মাদক মুক্ত করেন। যদি এতে আপনার কোন সমস্যা হয় সেটা আমি দেখব। এই কাজে যদি আমার দলের কেউ জড়িত থাকে, তবে আমার সুপারিশের অপেক্ষায় থাকবেন না। সোজা আইনের আওতায় নিয়ে তাকে শাস্তি প্রদান করবেন। বাংলাদেশের মানুষকে বুঝাইয়া দেন, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কতটা ভয়ানক।

আপনাদের দাঁতের কামড়ে আর নখের আঁচড়ে সন্ত্রাসীদের খামচাইয়া ধরেন।

মিডিয়া, পুলিশ এবং রাজনৈতিক শক্তি যদি একসাথে কাজ করে, তাহলে ৭ দিনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে মাদক মুক্ত হয়ে যাবে।

নারায়ণগঞ্জের আরও কিছু খবর………।।

বন্দরবাসীকে সেলিম ওসমানের প্রশ্ন?

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছেন, আমি যদি প্রতিদিন সকালে দুধ বিক্রি করতে পারি, সবজি, মাছ বিক্রি করতে পারি। নিজেকে একজন কৃষক হিসেবে পরিচয় দিতে ভাল লাগে। তাহলে বন্দরের মানুষ প্রত্যেকে কেন নিজেকে একজন কৃষক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। তাহলে কেন আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নেতা বানিয়ে ছিলেন। যদি আমরা বলতাম প্রত্যেক পরিবার থেকে একজন করে গাছ লাগাবেন তাহলে সাড়ে দেড় লাখ গাছ লাগানো যাবে। কিন্তু আমরা এ বছর ৫০ হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছি। আপনারা সবাই মিলে সহযোগীতা করলে এটা কোন ব্যাপারই না।

মঙ্গলবার ২৩ আগস্ট ১২টায় বন্দরের সমরক্ষেত্র মাঠে বন্দর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির তত্ত্বাবধানে এবং সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের অর্থায়নে ১২দিন ব্যাপী ফলদ বৃক্ষ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বন্দরের ২৩টি স্কুলের প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। মেলার প্রথম দিনে ৮টি স্কুলের ৩ হাজার ২’শ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরন করা হয়।

বন্দরবাসীর উদ্দেশ্যে সেলিম ওসমান বলেন, আগে হিন্দু পরিবার গুলোতে মেয়ে সন্তানের জন্ম হলে তারা বাড়ির আঙ্গিনায় ৩ থেকে ৪টি গাছ লাগানো। পরে ওই গাছ বিক্রি করে মেয়ের বিয়ের টাকা জোগাড় করতেন। আজকে আমরা সকলে মিলে দেশের উন্নয়নে গাছ লাগানোর আহবান নিয়ে এসেছি। বন্দরের মানুষ বুঝতে পেরেছে উন্নয়ন নিয়ে কোন রাজনীতি নয়। তাই আপনারা নিজে বাঁচুন, অন্যকে বাঁচার সুযোগ করে দিন। বেশি করে গাছ লাগানো পরিবেশ বাঁচান দেশকে সমৃদ্ধশালী করে তুলুন।

স্কুল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সেলিম ওসমান বলেন, যারা গাছকে ভালোবাসে তারা মানুষকে ভালোবাসে। তোমরা সবাই যদি গাছকে ভালোবাসো, খেলাধূলা, সংস্কৃতি চর্চা নিয়ে থাকো তাহলে বন্দরে আর কোন মাদকাসক্ত থাকবে না। বন্দরের কোন সন্তান জঙ্গীবাদের সাথে জড়িত হবে না।

বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধুর উপর রচনা প্রতিযোগীতার আয়োজন করে ছিলাম। এবার আমি ৫টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের জন্য একটি প্রতিযোগীতা দিবো। যে ইউনিয়ন এলাকায় বেশি বনায়ন করতে পারবে সেই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে পুরস্কৃত করা হবে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা সহ স্কুল শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আমরা প্রতিটি ইউনিয়ন ঘুরে সেগুলো দেখবো। প্রশাসনের রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থানের পুরস্কার প্রদান করবো। আপনারা এমন কোন গাছ লাগাবেন না যে গাছ গরু কিংবা ছাগলে খেয়ে ফেলবে।

উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যে গুলো রোপন করা সেই গাছ গুলো যেন একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে ৩ মাস বা ৬ মাস অন্তর অন্তর তা তদারকি করা হয়। অন্তত ৪ বছর সেই গাছ গুলোকে পর্যবেক্ষনে রাখতে হবে। ১২ দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠান চলবে। এ সময়ে যেন স্কুল শিক্ষক ও কৃষি কর্মকর্তারা গাছ লাগানোর পদ্ধতি, পরিচর্যা সম্পর্কে আলোচনা করেন।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলী, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন, জেলা জাতীয়পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ, বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী হাবিব।

আরো উপস্থিত ছিলেন, বন্দর থানার ওসি আবুল কালাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আ.ক.ম নুরুল আমিন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, ফয়সাল সাগর, ইসরাত জাহান খান স্মৃতি, রেজওয়ানা হক সুমি, ইফাত জাহান মায়া, গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ প্রমুখ।

মঙ্গল সোসাইসটির বিনামূল্যে মেডিকেল সেবা, গ্রহণ করলেন সংসদ সদস্যও

বন্দর খেয়াঘাটে সেচ্ছাসেবী সংগঠন মঙ্গল সোসাইটির ফ্রি মেডিকেল চেকাপ ক্যাম্প থেকে সেবা গ্রহন করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। মঙ্গলবার ২৩ আগস্ট সকালে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বন্দর খেয়াঘাট দিয়ে নদী পাড় হওয়ার সময় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প থেকে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিকস পরীক্ষা করেন এমপি সেলিম ওসমান। এ সময় ক্যাম্পের আয়োজকরা তার সাথে ছবি তুলে রাখার দাবি জানালে তিনি তাদের দাবি পূরন করেন।
নিজের ফ্রি চেকাপ করার সময় সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ জোনের ডিরেক্টর আলী হোসেন আকন বাপ্পির কাছে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ খবর নেন সেলিম ওসমান। এ সময় তিনি বন্দর খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার হওয়ার গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বাপ্পি জানান, তারা গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগ শ্রমিকেরই হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস ধরা পড়েছে। ভাইরাস পাওয়া প্রায় ৯০ ভাগই গার্মেন্টের নারী শ্রমিক।

এ সময় সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস গুলোতে গিয়ে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য চেকাপ করার ব্যাপারে সংগঠনটির সহযোগীতা কামনা করেন এবং সংগঠনটির পক্ষ থেকেও তার এ প্রস্তাব গ্রহন করেন।

আলী হোসেন আকন বাপ্পি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, মঙ্গল সোসাইটি একটি আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্ঠান। মূলত চীন দেশ থেকে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি তারা বাংলাদেশে তাদের এ সেবা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছেন। এ বছরই প্রথম তারা জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের বন্দর সেন্ট্রাল খেয়া ঘাটে ২১দিন ব্যাপী ফ্রি মেডিকেল চেকাপ ক্যাম্পিং শুরু করেছেন। গত ১৮ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ ক্যাম্পিং চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ওই ক্যাম্পে বিনামূল্যে রক্তচাপ, রক্তের গ্রুপ, ওজন, ডায়াবেটিকস, ও হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের পরীক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। ফ্রি ক্যাম্পিংয়ের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে আরিফ হোসেন সম্পাদিক দৈনিক ভোরের কথা পত্রিকা।

গত ৬ দিনের কার্যক্রম সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত তারা আনুমানিক ১০ হাজার মানুষকে ফ্রি চেকাপ সেবা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে তারা মারাত্মক ভাবে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পেয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগই গার্মেন্টের নারী শ্রমিক। তবে দু:খজনক হলেও সত্যি আক্রান্ত ওই সকল নারী শ্রমিকেরা জানতেনই না তারা বি ভাইরাসে আক্রান্ত।

মঙ্গল সোসাইটির পক্ষ থেকে তারা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্কুল গুলোতে গিয়ে বিনামূল্যে এ সেবাটি প্রদান করার আগ্রহ প্রকাশ করে সহযোগীতা কামনা করেন জোন ডিরেক্টর আলী হোসেন আকন বাপ্পি।

ওরাও একদিন সন্মান পাবে না কেউ স্মরণও করবে না

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃত্বের একটা অংশ বিশেষ করে যারা কতৃত্ব করছে, সে সকল লোকজন কতোটা স্বার্থপর, তা দেখা গেলো সাবেক জেলা সভাপতি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী অধ্যাপিকা নাজমা রহমানের মৃত্যুর ঘটনার পর। স্থানীয় কার্যালয়ে একটা শোক ব্যানার টানানোর পর আর তেমন কিছুই করেন নি। অবশ্য শুধু নাজমা রহমান নয়। সাবেক সভাপতি আনসার আলী, কিংবা শেখ মিজানুর রহমান, ডা. এম হোসেনের মতো ত্যাগী পরীক্ষিত নেতাদের জন্য, এই অংশ কখনোই কিছু করে না। তারা ব্যস্ত থাকে এক দুইজনকে নিয়েই। ব্যানারে ব্যানারে শহর ভরে দেয়, দোয়া আর মিলাদ মাহফিল কাঙ্গালী ও গণ ভোজের প্রতিযোগিতায় নেমে যায়। গতকাল আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অনেকের সাথে কথা হয়। তারা বলেছেন, এ সকল স্বার্থবাজ নেতাদের জন্যই এখন নারায়ণগঞ্জে চৌকস ও মেধাবী নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে না। যারা এগিয়ে আসতে চায় তাদের নামান প্রতিবন্ধকতায় ফেলে দেয়া হচ্ছে। অধ্যাপিকা নাজমা রহমানের হাতে গড়া অনেক উদিয়মান নেতা এখন নারায়ণগঞ্জে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোন কর্মসূচীর খবর পাওয়া যায়নি। তবে সাবেক জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা হালিম শিকদার জানিয়েছেন, আজ বুধবার বাদ আছর বর্ষন সুপার মার্কেটে নাজমা আপার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। আমরা এতে অংশ নেবো। এরপর কর্মসূচি পালন করার আশা রাখি। অধ্যাপিকা নাজমা রহমান এমন একটা সময় আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেন। যখন দলের দুঃসময় চলছিল। সে সময় জেনারেল জিয়া ও পরে জেনারেল এরশাদের শাসন আমল। মাঠে মিটিং মিছিল করতে গেলে আইন শৃংখলা বাহিনীর বাধা ও হামলার ঘটনা ছিল নিত্য। রাতে বাড়ী ঘরে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হতো। এজন্য অনেকেই ভয়ে পথে নামতেন না রাতে বাড়ীতে থাকতেন না। নাজমা রহমান ছাত্রলীগ যুবলীগ ও শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ গরম করতেন।

একেবারে তৃণমূল থেকে দলেল শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে অসীন হন তার কর্মঠ ও সাহসী ভূমিকার কারনে। যেটা নারায়ণগঞ্জের মহল বিশেষ পছন্দ করতো না। আগাগোড়াই তাঁর পেছনে লেগে থাকতো। সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল আওয়ামী লীগের এই অংশটি। যারা বর্তমানে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। এদের কারনে অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়েছে, অথবা দল ত্যাগ করেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি মন্দ দিকও। এর মধ্যে দুঃস্টের দমনে ধীরগতি অন্যতম। অনেকেই বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র যখন আওয়ামী লীগের হাতে এখন এই দুঃষ্টদের ওপর নিরবতার কি প্রয়োজন রয়েছে। যে অংশ নেতা তৈরী হতে দেয় না এবং সব কুক্ষিগত করে রাখে তাদের দ্বারা দল কি লাভবান হচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্থ হচ্চে তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। অধ্যাপিকা নাজমা রহমানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত থাকেন, এবং শোক প্রকাশ করার বাইরে তার বর্তমানে তেমন কিছু করার নেই। তিনি পরে নাজমা রহমানের পরিবারের জন্য কিছু একটা করবেন, এমনটাই বিশ্বাস তৃণমূলের। কারণ প্রধানমন্ত্রী এটা খুব যত্নসহকারে করে থাকেন।

কিন্তু নারায়ণগঞ্জের এ সকল সুবিধা ভোগী প্রতিহিংসা পরায়ন লোকজন ঠিক সেই কাজটা করছে যা তাদের মৃত্যুর পর হবে। এমন মন্তব্য করেছে অনেকেই। জীবদ্দশায় নারায়ণগঞ্জে কয়েকজন নেতা প্রকাশ্য নাজমা রহমানের বিরোধীতা করতেন এবং তিনি যেনো কোন ভাবেই আগে যেতে না পারেন সেই চেষ্টা করতেন। কিন্তু নাজমা রহমান এখন এমন এক অবস্থানে চলে গেছেন, যেখানে কোন প্রতিবন্ধকতা কাজে আসবেনা। তিনি তৃণমূল ও সবার মনের মনি কোঠার উচ্চাসনে অসীন হয়েছেন। সবাই তাকে মন থেকে শ্রদ্ধা আর সেই সকল লোকের প্রতি ঘৃণা জানাচ্ছে যারা তাকে প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে জানে না।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দীর্ঘ হচ্ছে মেয়র প্রত্যাশীদের তালিকা

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে মেয়র পদে প্রার্থীর সংখ্যা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র পাশাপাশি জাতীয় পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি, নতুনধারা বাংলাদেশ (এনডিবি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ স্বতন্ত্র আরো কয়েকজনের প্রার্থী হওয়ার খবরে এখন সরগরম নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গণ। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে ঘিরে তাই সৃষ্টি হচ্ছে জল্পনা কল্পনার আর কৌতুহলের। সময়ই বলে দেবে, কার ভাগ্যে শিকে ছিড়বে!

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ থেকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে ইতিমধ্যেই মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নাম ঘোষনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। এমপি’র সমর্থন পেয়ে আনোয়ারও শুরু করে দিয়েছেন নির্বাচনী প্রস্তুতি। কিন্তু বর্তমান মেয়র ডা: সেলীনা হায়াত আইভীও নৌকার অন্যতম দাবীদার। আইভীর মতে, এমপি নৌকা দেওয়ার কে? নৌকার মালিক প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই নৌকা দিবেন। তবে নৌকা প্রতীক না পেলেও নির্বাচনের ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তিনি। যদি সত্যি সত্যি দলীয় প্রতীক নৌকা তিনি না পান, তবে স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেবে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন-এ কথা প্রায় নিশ্চিত। সেক্ষেত্রে একই দল থেকে দ্জুন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করবেন।

অপরদিকে প্রধাণ বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকেও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে একক প্রার্থী দেওয়ার গুঞ্জণ শোনা যাচ্ছে। সেক্ষত্রে প্রার্থী হতে পারেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সাংসদ নাসীম ওসমানের সহধর্মীনি পারভীন ওসমান। নারায়ণগঞ্জের সদর-বন্দরে প্রয়াত এই সাংসদের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে জয়লাভের স্বপ্ন দেখতেই পারে তারা।

এদিকে, দীর্ঘদিন যাবত ক্ষমতার বাইরে থাকা অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি গতবারের অনাকাঙ্খিত ঘটনার পূনরাবৃত্তি করবে না বলে জানিয়েছে। গত সিটি নির্বাচনে নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করেছিলো তারা। আওয়ামীলীগ সমর্থীত প্রার্থী শামীম ওসমানকে ঠেকাতে নির্বাচনের আগের রাতে নিজেদের প্রার্থী এ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে বসিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু এবার আর সে ভুল করবে না। গত নির্বাচনের দায়মুক্তির লক্ষ্যে এবারও এ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে খালেদা জিয়ার কাছে আবেদন করবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তবে ইতিমধ্যেই নগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল ও মহানগর বিএনপি নেতা এড. সাখাওয়াত হোসেন ‘ধানের শীষ’ প্রত্যাশায় কৌশলে প্রচারনা চারিয়ে যাচ্ছেন।

এবার বাম রাজনৈতিক সংগঠন বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি আসন্ন নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দেয়ার বিষয়টি চুড়ান্ত করেছে। আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র বাইরের সকল বাম, প্রগতিশীল ও গনতন্ত্রমনা ব্যাক্তি ও সগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষের বসবাসযোগ্য আধুনিক নারায়ণগঞ্জ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সবাইকে সামিল হওয়ার আহবান জানিয়েছেন দলটির জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু। সোমবার (২২ আগষ্ট) নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক মত বিনিময় সভায় তিনি এ আহবান জানান।

এছাড়া নতুনধারা (এনডিবি) এর চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নতুনধারা’র প্রার্থী থাকবে। জয়ী হোক কিংবা পরাজিত, আমাদের প্রার্থী প্রমান করে দেবে, জনগন নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের সাথে থেকে স্বাধীনতা ব্যবসায়ী ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করার রাস্তা তৈরী করছে। ঢাকা তোপখানা রোডস্থ দলের কার্যলয়ে সোমবার (২২ আগষ্ট) তিনি এ কথা বলেন।

এ ছাড়াও ইসলামী শাসনতন্ত্র আনেদালনের ব্যানারে নান্নু মুন্সি নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদ নির্বাচনের ব্যাপারে তার সম্মতির কথা জানিয়েছেন। নির্বাচন পাগল এ রাজনৈতিক নেতা বরাবরর মতা এবারও প্রার্থী হবেন এবং ইসলামের পক্ষের সকল শক্তিকে এক করে মেয়র পদে বিজয় ছিনিয়ে আনার কথা পুনঃব্যক্ত করেছেন।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি শিল্পের জন আত্মঘাতী

আবাসিক ও বানিজ্যিক সব ধরনের গ্যাসের প্রায় শতভাগ মূল্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারী এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রাচ্যের ডান্ডি নারয়ণগঞ্জের শিল্পা লে এর ব্যাপক প্রভাব পরবে এবং শিল্পের জন্য বিশাল ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীমহল। আর তাই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার লক্ষ্যে শিল্পের জন্য আত্মঘাতী এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহবান জানিয়েছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে বিকেএমইএ’র সাবেক সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এ মুহুর্তে গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হলে শিল্পের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং শিল্পায়ন ব্যাহত হবে। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে আমরা পিছিয়ে পড়বো। গত মার্চ মাসে ঢাকায় একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে আমাদের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানী উপদেষ্টা ও এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছিলেন, ‘শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের মল্য বাড়ানো হবে না’। এখন গ্যাসের মূল্য প্রায় শতভাগ বাড়িয়ে দেয়া হলে আমরা মনে করবো, তারা তাদের কমিন্টমেন্ট থেকে সরে এসেছেন।

বিকেএমইএ’র সহ সভাপতি (অর্থ) জিএম ফারুক গ্যাসর মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে বলেন, শিল্পের জন্য এমনিতেই পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায় না। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ছোট বড় নীট ফ্যাক্টরীগুলোই ৮২ ভাগ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। বর্তমান প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান বাস্তবায়ন করতে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হতে হলে শিল্পখাতে গ্যাস আর বিদ্যুতের পরিপূর্ণ যোগান দিতে হবে। কিন্তু এর কোনটিই পর্যাপ্ত পরিমানে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে গ্যাসের অভাবে ডায়িং ফ্যাক্টরীগুলো খুবই সমস্যার সম্মুখিন হয়। আর ডায়িং এর সাথে রিলেটেড সকল ফ্যাক্টরীগুলোতে এর প্রভাব পরে। সে সমস্যার সমাধান না করে এখন যদি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে দেশের সমগ্র নীটওয়্যার খাতে এর বিরূপ প্রভাব পরবে। কারন উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও আন্তর্জাতিক বাজারে পন্যের মূল্য বাড়ানো হয় না। ফলে এ মুহুর্তে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলে নীটওয়্যার খাতে সমুহ ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।

এ বিষয়ে নারাণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল বলেন, এখন গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে শিল্পের উপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বর্তমানে দেশ একটি রাজনৈতিক স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। শিল্প কারখানাগুলোতে নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এ মূহুর্তে গ্যাসের মূল্য প্রায় শতভাগ বৃদ্ধি করা হলে প্রডাকশন কষ্ট অনেক বেড়ে যাবে। তারা আর তাদের এক্সপোর্ট টার্গেট এচিভ করতে পারবে না। বছরের এ সময়ে এক্সপোর্টের জন্য নতুন বাজারও ধরা যাবে না। ফলে এ মূহুর্তে গ্যাসের মূল্য শতভাগ বৃদ্ধি করা হলে কারখানাগুলো ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই এখন গ্যাসের মূল্য না বাড়াতে আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ হোসিয়ারী এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমূল আলম সজল বলেন, এ মুহুর্তে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে সমস্ত জনগনের উপর এর প্রভাব পড়বে। হোসিয়ারী খাত লোকাল মার্কেটের কারনে এর প্রভাব কম পড়লেও এক্সপোর্ট রিলেটেড প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন বিকেএমইএ, বিজেএমইএ’র মতো প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানের মুখোমুখি হতে পারে। সর্বোপরি শিল্পের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পরবে।

যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের সাথে ঐক্য হবে নাঃ নৌপরিবহন মন্ত্রী

নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, স্বাধীনতার বিরোধীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে তার আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ক্ষান্ত হননি, তারা জাতীয় চার নেতাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের হত্যা, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হত্যাসহ প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি মঙ্গলবার অগ্রনী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। অগ্রনী ব্যাংক কর্মচারী সংসদ (সিবিএ) এর সভাপতি খন্দকার নজরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অগ্রনী ব্যাংক পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আনায়ুল হক, অগ্রনী ব্যাংক কর্মচারী সংসদ (সিবিএ) এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ জয়নাল আবেদিন।
শাজাহান খান বলেন, মানুষ হত্যা করে যারা জঙ্গী ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করে তারা ইসলামের শত্রু। যারা যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের রক্ষা করতে চায় তাদের সাথে কোনো ঐক্য হবে না।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপিঃ দেখা হলো সবার কথা হলো না কারো

একই স্থানে দলীয় চেয়ারপার্সনের সাথে নতুন কমিটিতে পদ পাওয়ায় ফুল দিতে যাওয়া নারায়ণগঞ্জের জেলা বিএনপির নেতাদের কারো সাথে কারো সাক্ষাৎ বা কথা হয়নি। প্রত্যেকে আলাদা আলাদাভাবে নিজস্ব নেতাকর্মী নিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর সময়ে তাদের দেখা হলেও কেউ কারো সঙ্গে কথা বলেনি। যদিও কেউ কেউ কমিটিতে পদ পেয়ে দীর্ঘদিন পর দলীয় পরিচয় দেয়ার মত পরিচয় পেয়ে সবাইকে নিয়ে ঐক্য চেয়েছেন সেই ঐক্য চাওয়া নেতাও কারো সাথে কথা বলেননি, নিজেও মত গিয়েছেন চলেও এসেছেন।

সোমবার বিকেল ৪ টায় জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর কথা থাকলেও দুপুর ২ টার পর থেকেই নেতাকর্মীদের নিয়ে মাজারের আশেপাশে জড়ো হতে থাকেন জেলা বিএনপির নেতারা।

এদিকে কথা না বলেও নেতারা নিজেদের গ্রুপিং বজায় রেখেছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার তার বলয়ের হিসেবে পরিচিত সোনারগা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নানকে সাথে নিয়ে শো-ডাউন করেছেন। কালামের সাথে গিয়ে নতুন করে আলোচনায় এটিএম কামাল।

নির্বাহী কমিটির কর্মসূচীতে সরব উপস্থিতি ছিল জেলা ও মহানগর ছাত্রদল এবং যুবদলের নেতাকর্মীদের। জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার সাদাত সায়েম, যুগ্ম আহবায়ক মশিউর রহমান রনি, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা, রুপগঞ্জ থানা যুবদল নেতা খোকন, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোয়াজ্জেল হোসেন মন্টি, জেলা ছাত্রদল নেতা এসএম শৈবাল, রফিক ভুইয়া, মহানগর ছাত্রদল নেতা জনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলার সকল নেতারা নেতাকর্মী নিয়ে গেলেও সকল গ্রুপিং বাদ দিয়ে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন এবং স্থানীয় নেতাদের নিয়ে ব্যাপক শো-ডাউন করেছে নির্বাহী কমিটিতে জেলার তরুণ দুই নেতা। নির্বাহী কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ এবং কার্যকরী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইয়ার বিশাল কর্মী সমর্থক জিয়ার মাজারে সরব উপস্থিত ছিল।
এদিকে সকল সদস্য উপস্থিত থাকলেও দলের কমান্ড মেনে উপস্থিত হননি জেলার দুজন নেতা। এর মধ্যে ফতুলা থানা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম কখনই বিএনপির কোন আন্দোলন সংগ্রামে একটি মিছিলও করেননি। এবারও সদস্য পদ পেয়ে দলের সর্বোচ্চ নেতা খালেদা জিয়ার সাথে জিয়ার মাজারে নতুন কমিটির প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদনে হাজির হননি তিনি।

উল্লেখ্য, নতুন কমিটিতে নারায়ণগঞ্জের ১১ জনের মধ্যে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক পেয়েছেন আড়াইহাজার থানা বিএনপির সভাপতি বদরুজ্জামান খসরু, সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন নজরুল ইসলাম আজাদ। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কার্যকরী সদস্য হিসেবে নতুন করে স্থান পাওয়া চার বিএনপি নেতা হলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সোনারগাঁও থানা বিএনপির সেক্রেটারী এম এ মান্নান, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ কোষাধ্যক্ষ ও রূপগঞ্জের বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা আড়াইহাজারের বিএনপি নেতা এফ এম ইকবাল। এছাড়া পুরাতন সদস্য হিসেবে সাবেক দুইজন এমপি রেজাউল করিম ও আবুল কালাম এবং জেলা বিএনপির সেক্রেটারী কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও সহ সভাপতি শাহ আলমের নাম রয়েছে।

মুকুলকে নিয়ে বিব্রত বিএনপির একাংশ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলকে নিয়ে বিব্রত স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতারা। কারণ ২২ আগস্ট আতাউর রহমান মুকুল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে গেছেন বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল। অথচ এ মুকুলের পাশে মে দাড়িয়ে জিয়াউর রহমানকে কুকুর বলে গালি দিয়েছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের এক নেতা। তখন কিঞ্চিত প্রতিবাদ তো দূরের কথা মুচকি হেসেছিলেন মুকুল। এদিকে দুদিন আগেও আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছিলেন মুকুল। আর সেই মুকুলকে সাথে নিয়েই জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তবে জিয়ার মাজারে যাওয়ার ছবি দেখে মনে হয়েছে আতাউর রহমান মুকুলের নেতৃত্বে গিয়েছেন এসব নেতারা।

তবে বিষয়টি এড়িয়ে দিয়ে এটিএম কামাল বলেছেন, কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হওয়ায় আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিতে যাবেন। সেখানে আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সদস্য সাবেক এমপি আবুল কালাম যাবেন বলে আমাকে সকালে ফোন করে বলেছেন আমি গেলে তিনি খুশি হবেন। আমাকে তিনি দাওয়াত করেছেন আমি গিয়েছি। অন্য কারো দাওয়াতে যাইনি। আবুল কালাম সাহেব আমাকে দাওয়াত করেছেন আমি তার পাশেই গিয়েছি। এখানে কে কোন পাশে কখন দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছে সেটা বলতে পারি না।
বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের নিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শহীদ সাবেক রাষ্ট্রপতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিতে যাবেন। আমরাও সেখানে গিয়েছি। আমরা যাওয়ার সময় কে কোন লোক সাথে দাড়িয়ে যায় সেটা খেয়াল রাখা কঠিন। আর আমরা দল করি আন্তরিকতার সাথে। দলকে ভালবেসে দল করি। তাই অন্য কারো বিতর্কিত কার্যক্রমের দায়ভার আমরা বহন করব না। আর যারা লিয়াজু করে রাজনীতি করে তাদের আমরা গ্রহন করব না। লিয়াজো ভিত্তিক রাজনীতিকে আমরা অপছন্দ করি এবং ঘৃণা করি।

বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেছেন, আমি মুকুলের ডাকে বা মুকুলের নেতৃত্বে যাইনি। আমরা গিয়েছি সাবেক এমপি আবুল কালামের নেতৃত্বে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পাওয়া নেতাদের নিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জিয়াউর রহমানের মাজারে যাবেন আর সেখানে আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক এমপি আবুল কালাম সাহেবের নেতৃত্বে আমরা গিয়েছি। যেহেতু আমরা আবুল কালামের নেতৃত্বে তার ডাকে গিয়েছি তাই তিনি বলতে পারবেন কাকে কাকে তিনি নিয়ে গেছেন এবং কেন নিয়ে গেছেন। আর যেহেতু আতাউর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে এসব নিয়ে নানা কথা রয়েছে তাই একমাত্র আবুল কালাম সাহেবই বলতে পারবেন তিনি কেন মুকুলকে দাওয়াত করেছেন এবং কেন নিয়ে গেছেন। আমি বিষয়টি বলতে পারছিনা। আর যেহেতু অন্য দলের প্রতীক নৌকা নিয়ে মুকুল ছবি তুলেছেন সেটা অবশ্যই নিন্দনীয় এবং শোভনীয় নয়। আর কারো ব্যক্তিগত কর্মকান্ড দল গ্রহন করবে না। যে করবে তার খেসারত সে দিবে।

এখানে উল্লেখ্য যে, ১/১১ এর সময় দেশের রাজনৈতিক কঠিন পরিস্থিতিও সাখাওয়াত হোসেন খান, আবু আল ইউসুফ খান টিপুর ভুমিকা ছিল অনেক। পরবর্তীতে দলে ভীরে ১২ দিন টানা আমরণ অনশন করে আলোচনায় আসেন এটিএম কামাল। যারা দলের কঠিন পরিস্থিতিও সক্রিয় ছিলেন জীবনের ঝুকি নিয়ে রাজনীতি করেছেন। আজ তারাই বিতর্কিত লোকজনদের সামনে এড়িয়ে দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বেশকজন বিএনপির নেতাকর্মী।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ‘ক্লিনম্যান’ হিসেবে খ্যাত সাবেক জনপ্রিয় এমপি আবুল কালাম এবার বিতর্কিত সেই চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলকে নিয়ে শো ডাউন করেছেন। আর সেই শো ডাউনে একটু আগে বাড়িয়েই হাটতে দেখা গেছে মুকুলকে যিনি দুইদিন আগে নৌকা প্রতীক হাতে নিয়ে ফটোসেশন করেছিলেন আর এক বছর আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ‘কুকুর’ গালি হজম করেছিলেন। তবে রাজনীতিতে সজ্জন ও আন্দোলন বিমুখ নেতা হিসেবে পরিচিত আবুল কালাম জিয়াউর রহমানের মাজার যিয়ারতের সময়ে জিয়াউর রহমানকে দেওয়া কুকুর গালি হজমকারী আতাউর রহমান মুকুলকে সঙ্গে রেখে নিজের অবস্থান আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। যদিও গত কয়েকদিন ধরে চাউর রয়েছে, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আবুল কালামকে বিএনপির মনোনয়ন নেওয়ার জন্য একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যে আন্ডারগ্রাউন্ড কথাবার্তা চলছে তার পেছনে কাজ করছেন আতাউর রহমান মুকুল। বশেষ গত শুক্রবার সকাল ১১টায় বন্দর উপজেলাধীন ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠানে যখন চেয়ারম্যানদের হাতে আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা তুলে ফটোসেশন করা হয় তখন স্ব চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে সেই নৌকায় হাত রেখে বেশ খুশী ও প্রাণবন্ত সঙ্গে মুখে হাসি ফুটেছিল মুকুলের যিনি ওয়ান এলেভেনের পর নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার সামনে থেকে যৌথবাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।

এ অবস্থায় মুকুলকে সামনে রেখে কালামের এগুনোর বিষয়টি বেশ প্রশ্নবিদ্ধ। এখানে উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালের ১৬ জুন দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলা পরিষদের মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানকে ‘কুকুর’ বলে গালাগাল করেন যুদ্ধকালীন কমান্ডার আওয়ামীলীগ নেতা গোপীনাথ দাস। সভায় বক্তব্য প্রদানকালে কমান্ডার গোপীনাথ দাস বলেন, জিয়াউর রহমান নামের এক কুত্তা (কুকুর) ছিল। ওই কুত্তা বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে। নারায়ণগঞ্জেও তার ৮০ জন অনুসারী রয়েছে। তাদের জিন্দাবাদ প্রীতি আমাদের কলঙ্কিত করেছে। তাদের প্রতিহত করতে জয় বাংলার মুক্তিযোদ্ধারাই যথেষ্ট। গোপীনাথের বক্তব্যের পর বিশেষ অতিথি হিসেবে মে থেকে বক্তব্য দেওয়া আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও আতাউর রহমান মুকুল কেউই তার এ কথার প্রতিবাদ করেননি। বরং গোপীনাথের বক্তব্যের সময়ে উপস্থিত অনেকে সমর্থন দিয়ে করতালি দিলেও একেবারেই নিশ্চুপ ছিলেন মুকুল ও আজাদ বিশ্বাস।

গুরুকে আনোয়ারকে নিয়ে শিষ্য শামীম ওসমানের খেলা

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে আওয়ামীলীগের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও আনোয়ার হোসেন দলের সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত কার হাতে পড়ছে নৌকার হাল তা নির্ধারণ করবেন দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে জন-সমর্থনের গ্রহণযোগ্যতা বিশ্লেষণ করলে অনেকটাই এগিয়ে বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। আর রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয়তার পরিচয় দিয়ে আসলেও আনোয়ার হোসেনের স্বপ্নকে দলের সভানেত্রী কতটুকু মূল্যায়ন করবেন, তা দেখতে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে দলীয় নেতা-কর্মীদের। বিগত নাসিক নির্বাচনে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আইভীর পক্ষে কাজ করে আসলেও এবার আনোয়ার হোসেনকে দেখা যাবে ঠিক উল্টো দিকে। সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক কুটকৌশল অবলম্বনের দিকে দিয়ে গুরু আনোয়ার হোসেন শিষ্য শামীম ওসমানের নেই ধারে কাছে। ইতিমধ্যে শিষ্য শামীম ওসমান নিজেকে দুইবার সাংসদ হিসেবে জনগনের সম্মুখে দাড় করাতে সক্ষম হলেও এবিষয় একে বারে ব্যর্থ গুরু আনোয়ার। তাই গুরুর মর্যাদা আরও বৃদ্ধির কৌশল অবলম্বন করে এবং বিগত নাসিক নির্বাচনে আইভীর কাছে পরাজয়ের গ্লানি মুছতে মাঠে শামীম সেনারা। নির্বাচনের বেশ কিছু দিন বাকি থাকলেও এখনই মাঠ গরমে ব্যস্ত দলের সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। তবে এবারের নাসিক নির্বাচন নিয়ে যে প্রতিশোধের খেলা চলছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের নেতৃত্ব ছাড়া এখন পর্যন্ত নিজের অবস্থান সক্রিয় ভাবে ধরে রেখেছেন বর্তমান মেয়র আইভী। এছাড়াও শামীম ও আইভীর মধ্যে মত পার্থক্য নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। অপর দিকে বিগত নাসিক নির্বাচন সহ বিভিন্ন সভা সমাবেশে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে কটূক্তি করা গুরু আনোয়ারকে এতো সহজেই ছাড় দেয়ার পাত্র নয় ওসমান পরিবার। রাজনৈতিক ভাবে বিচক্ষনতার পরিচয় দিয়ে আসা ওসমান পরিবার এবার এক ঢিলে দুই পাখি শিকার করছেন কি না তা পরিষ্কার হতে এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইতিমধ্যে বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ঘোষনা দিয়েছেন দল থেকে সমর্থন চাইবেন। সাথে এও বলেছেন দল তাকে সমর্থন না দিলে বাকিটা জনগণ সিদ্ধান্ত নিবে। এতে অনেকটাই পরিষ্কার হয় বিগত নির্বাচনের মত জনগনের আর্শিবাদ পুষ্ট আইভী দলের সমর্থন না পেলেও নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেন। আর গুরু আনোয়ারকে দল সমর্থন করলেও সম্ভাব্য জাতীয় পার্টি প্রার্থীর কাছে তার টিকে থাকা কঠিন হয়ে পরবে। কারন ধারণা করা হচ্ছে এবার ওসমান পরিবার নাসিক নির্বাচনের প্রার্থী দেয়া হবে জাতীয় পার্টি থেকে। নির্বাচনে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থাকা আইভীকে পরাজিত করার জন্য গুরু আনোয়ার, বামদলের নেতা মাহাবুবুর রহমান ইসমাইল (সম্ভাব্য) ও জাতীয় পার্টি থেকে ওসমান পরিবার এবং বোনাস রয়েছে বিএনপির প্রার্থী। যা আইভীর ভোট নষ্ট করতে যথেষ্ট, আর গুরুর অস্থিত্ব সংকটে। তবে সব কিছুই পরিষ্কার হবে কোরবানীর ঈদের পর। সেই জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে আরও কিছু দিন।

ইভটিজিং একটি সামাজিক ব্যাধি

আলী আকবার

ইভ টিজিং একটি সামাজিক ব্যাধি, এটা প্রায় সব মানুষই জানেন তবে এর প্রতিকার এখনও প্রায় অস্পষ্ট। কিন্তু প্রতিকার নেই বলা যাবেনা; অবশ্যই আছে। যা আমাদের দেশে এখনও প্রয়োগ করা হয়নি। এ সমন্ধে রয়েছে নানা মুনির নানা মত। বেশীর ভাগের মতামতই কঠোর শাস্তির দিকে। কেউই এই সামাজিক রোগের উৎপত্তির কারণ বা উৎসের দিকে খেয়াল করতে পারছেনা বলে মনে হচ্ছেনা।

ইভটিজিং এর কারণ সমাজেই বিদ্যমান। সাধারণত এ পর্যন্ত যতগুলি এজাতীয় অঘটন ঘটেছে বেশীর ভাগ অপরাধই ক্ষমতারধর পরিবারের সদস্য কর্তৃক নয়তো অর্থ, প্রতাপ বিদ্যমান পরিবারের সদস্য কর্তৃক সংগঠিত। এক্ষেত্রে অপরাধি বেপরোয়া। এই বেপরোয়া মনোভাবটা এক দিনে তৈরী হয়নি। শৈশব হতেই এর সৃষ্টি। পরিবার এর দায়ভার বহন করতে বাধ্য। শৈশবে যে শিশু বঞ্ছনার স্বিকার হয় অথবা অতি আদরে ‘ছোট’ অপরাধের পার পেয়ে যায় কৈশোর হতে তারা বেপরোয়া হয়ে থাকে। এর ব্যতিক্রম হয় না তা নয়। এ ক্ষেত্রে একজন মা তথা একজন নারী এর অন্যতম কারণ। তবে এ কথাও বলা যাবে না এর মধ্যে বাবা কিংবা পুরুষের ভুমিকা নাই বা ক্ষুদ্র। পরিবারের প্রধান নারী এবং পুরুষ উভয়ের দায়বদ্ধতা সমভাবে বিদ্যমান। যদি শৈশব হতে একটি সন্তানের সুপথে পরিচালনার জন্য পরিবার দায়িত্ব পালন করে তবে নিশ্চয় সন্তানটি বিপথগামী হয়না। হ্যা ব্যতিক্রমও হয়; সঙ্গ দোষে। সে দিকেও পরিবারের খেয়াল রাখা উচিত।

ইভটিজিং এর দ্বিতীয় কারণ নিশ্চয় বিপরিত লিঙ্গের আকর্ষণ। এই বিপরিত লিঙ্গের আকর্ষণ আদি কাল থেকেই বিদ্যমান। জীবের জৈবিক ক্ষুধা বা কাম-লালসা যা উঠতি বয়সে মারত্মক আকার ধারণ করে । এখানে শুধু মানুষ না; যাবতিয় জীবের ক্ষেত্রেই প্রায় একই অবস্থা। মানুষ সেটা শোভনীয় পর্যায়ে রাখতে পারে। সাধারণত পশু তা পারেনা। যে মানুষ শোভনীয় পর্যায় রাখতে পারেনা তাদের দ্বারাই অঘঠন ঘটে।

প্রসঙ্গক্রমে বলা যায় বাংলাদেশের দেশের কৃষকেরা প্রাকৃতিক কিটনাশক আবিস্কার এবং এর ব্যাবহারে ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছে যা পত্রিকা-টিভিসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের কল্যানে যানতে পারি। বিশেষ করে শাইখ সিরাজ-এর উপস্থাপনায় বিটিভিতে কৃষি দিবানিশি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরাসরি তথ্য ভিত্তিক কৃষি সংবাদ প্রচার এবং স্বচিত্র প্রতিবেদন এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য। প্রকৃতিক কিট নাশক এক ধরণের ফাঁদ। যাতে স্ত্রী কিটের শরিরের গন্ধ ব্যবহার করে পুরুষ কিটকে আকৃষ্ট করে তাকে হত্যা করা হয়। এ যেন বিপরিত লিঙ্গের আকর্ষনে সেচ্ছায় আত্ম হনন করা। বিপরিত লিঙ্গের প্রতি পরষ্পরের আকর্ষণ যে কতটা প্রবল তার প্রমাণ জগতে অনেক আছে। যেমন বাদশাহ শাহ-জাহান তার প্রীয়তমার স্মৃতি রক্ষায় তাজমহল গড়েছেন। হেলেনেরে জন্য ধ্বংশ হয়েছে ট্রয় নগরী। এমন হাজার হাজার উধাহরণ টানা যায়। কিন্তু কি কারণে এই আকর্ষণ? বৈজ্ঞানিক মতে মস্তিস্কের ‘পি’ নামক কোষ বিপরিত লিঙ্গকে আকর্ষনের জন্য দায়ি। এই ‘পি’ কোষটা স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই বিদ্যমান। ‘পি’ কোষের কার্য ক্ষমতাই নির্ধারণ করে পরষ্পর পরষ্পরের প্রতি আকর্ষণ। নারী এবং পুরুষ উভয়ের ‘পি’ কোষেরই ক্ষমতা যদি সমান হয় তবে একে অপরের প্রতি সমান আকর্ষণ অনুভব করবে। এবং যদি কম বেশী হয় তবে আকর্ষনেরও তারতম্য হবে।

এ্যারিখ ফার্ম তার আর্ট অব লাভিং গ্রন্থে ‘পি’ কোষের কার্যকারিতাকে অর্থনৈতিক অবস্থান বলে উল্লেখ্য করেছেন। যা আমরা সত্য বলে সমাজে অনুধাবন করি। এর ব্যতিক্রম যে হয় না তা নয়। তবে হিসাবে খুবই নগণ্য। এ অর্থনৈতিক অবস্থান আবার শক্তি বা ক্ষমতার অবস্থানও নির্নয় করে সমাজে। ইভটিজিং সামাজে বর্তমানে মারত্মক আকার ধারণ করেছে। এর একটা প্রতিষেধক অবশ্যই অত্যাবশ্যকীয় যা স্থায়ীভাবে নির্মুল করবে ইভটিজিং-এর মতো সামাজিক অপরাধ। এটা নিশ্চয় সবারই কাম্য। যারা অপরাধ করেছে তারা অপরাধী। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া বাঞ্ছনিয়। এ নিশ্চয় অপরাধির বিচার কিন্তু যারা অপরাধের পথে এগোচ্ছে? একজন রোগীকে আমরা জনসমাজ হতে বিচ্ছিন্ন করলাম যাতে তার দ্বারা আর রোগের বিস্তার না হয়। অথচ আমরা রোগের উৎপত্তি বা এর বিস্তার এ সবই আমাদের অজ্ঞাত। এর প্রতিশেধক তথা রোগের নির্মূলের ব্যাপারে কিছুই করলাম না। এতে একজন রোগী নিস্তার পেলেও, রোগের বিস্তার কিন্তু রোধ করা হলো না। রোগটা ধ্বংস করার আমাদের প্রচেষ্টা করা উচিত। অতএব আমাদের পূর্নাঙ্গ বিশ্লেষন করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার; কোন খন্ডিত বিশ্লেষণ না।

আধুনিক দর্শন শ্রাস্ত্রের জনক দেকার্ত বলেছিলেন, কোন কিছুকে খন্ডিতভাবে বিশ্লেষণ করলে তার মৌলিকত্ব সম্পর্কেই অজ্ঞ থেকে যেতে হয়। অতএব খন্ডিত বিশ্লেষণের কোন উপায় নেই। ইভটিজিং বিপরিত লিঙ্গের আকর্ষণ থেকেই ঘটে। মস্তিস্কের ‘পি’ কোষের কার্যকারিতার এটা একটি প্রক্রিয়া মাত্র। বেশীর ভাগ উঠতি বয়সে হয় এই আকর্ষণ। নর-নারী উভয়েই এজন্য সমক্রিয়াশীল; তবে এর বহি:প্রকাশ ভিন্ন। নরের বহি:প্রকাশ বেশীর ভাগই ঔদ্ধ্যত্বপূর্ণ। নারীর বহির প্রকাশ কোমলিয়। সাধারণত আমাদের ধারণা শুধু ছেলেরাই মেয়েদের উত্যেক্ত করে। আসলে ব্যাপারটা তা নয়।

সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে উভয়েই উভয়কে উত্যেক্ত করে থাকে। শুধু পুরুষরাই নারীদের ধর্ষণ করে এটা প্রকাশিত সত্য। কোন এক সময়ে পৃথিবীতে নারীতান্ত্রিক সমাজ ব্যাবস্থা ছিল, পুরুষদের দমিয়ে রাখার জন্য ‘পুরুষ’রাই ধর্ষক এ ধরণের মতবাদ চালু করা হয়। যেমন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরাই পতিতা; পুরুষরা নয়। আসলে এই পতিতা শব্দটা একটি উপাধি বাচক; যা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর উপরে চাপানো হয়েছে, অবশ্যই নেতিবাচক অর্থে। কিন্তু এর ভিন্ন চিত্রও হতে পারে। নারীও যে ধর্ষক হতে পারে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। সম্প্রতিক আমেরিকার আদালতে এক পিতা নালিশ করেছেন তার চৌদ্দ বছরের ছেলে স্কুল শিক্ষিকা কর্তৃক ধর্ষিত হয়েছেন। এবং ঐ স্কুল শিক্ষিকা যথারিতি অন্তসত্ত্বাও হয়েছেন। সুস্পষ্ট প্রমাণের প্রেক্ষিতে আদালত ঔ স্কুল শিক্ষিকাকে সাজাও প্রদান করেছেন। আসলে মানব দেহের নর-নারী উভয় ক্ষেত্রেই উপাদান প্রায় সম পর্যায়ে বিদ্যমান। মানব আর পশুর ক্ষেত্রে ওই উপাদান প্রায় ৯০% একই। বাকি ১০% নর-নারী উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। নর-নারীর ভিন্নতা দৈহিক বৈশিষ্টের কারণ তার দেহের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা হরমোন। হরমোনের সংখ্যাগত তারতম্যই নারী কিংবা পুরুষ হিসাবে প্রত্যেক শিশুর পরিচয় নির্ধারণ করে।

বিশ্ব শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির সপ্নদ্রষ্টা মহামতি কার্ল মার্কস তাঁর ঐতিহাসিক দ্বন্দমূলক বস্তুবাদী দর্শনে উল্লেখ্য করেছেন, সংখ্যাগত তারতম্যের কারণে বস্তুর গুণগত পরিবর্তণ ঘটে। এর প্রমাণ হিসাবে বলাযায় যে ঐ২ঙ হলো পানির বৈজ্ঞানিক চিহ্ন। এখানে ২ ভাগ হাইড্রোজেন ও এক ভাগ অক্সিজেন-এর যৌগিক মিশ্রনে পানিতে রুপান্তরিত হয়। অথচ আমরা জানি হাইড্রোজেন নিজেই জ্বলে; আর অক্সিজেন অপরকে জ্বলতে সাহাজ্য করে (অক্সিজেন ছাড়া আগুন সম্ভব না)। অথচ পানি দিলে আগুন জ্বলে না বরং নিভে যায়। কিন্তু আমরা যদি এক ভাগ অক্সিজেন এর সাথে তিন ভাগ হাইড্রোজেন মিশাই (ঐ৩ঙ) তবে প্রচন্ড শক্তিশালী অগ্নিশিখা রূপধারণ করবে। যা দ্বারা ৩৭ ইি পুরু লোহার পাতও কাটা যায়। এখানে কেবল সংখ্যাগত তারতম্যের কারণে আগুন ও পানির রূপ ধারণ করে। নর-নারীর ব্যাপারেও হরমোনের সংখ্যাগত তারতম্যের কারণে নারী এবং পুরুষ। কিন্তু উভয়ের মাঝেই কাম-ক্রোধ-লোভ এ জাতিয় গুণগুলো একই ভাবে ক্রিয়াশীল। শুধু প্রকাশের ভঙ্গিমা ভিন্নমাত্র।

ইভটিজিং বা যৌন নিপিড়ণ এ জাতিয় ব্যাপার গুলো সাধারণত এক মুহুর্ত বা এক দিনেই ঘটে যায় না। এ জন্য বহু সময় প্রয়োজন হয়। একটা ক্ষেত্র তৈরী হতে হয়। এক দিনেই একটা বখাটে তৈরী হয়না। এর একটা প্রক্রিয়া থাকতে হয়। এ প্রক্রিয়াটা যেভাবে তৈরী হয় সে দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। যদিও নর-নারী উভয়ের মাধ্যমেই এ ধরণের অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। বর্তমানে আমাদের সমাজে এটা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এসব অপরাধি পুরুষেরা শুধু উঠতি বয়সেরই হবে তা নয় পরিনত বয়সেরও হতে পারে। বয়স্ক নারী-পুরুষও এ অপরাধ করতে পারে। ২০০৭ সালে জুন মাসের ১১ তারিখে আমেরিকার ইদাহো অঙ্গ রাজ্যের সিনেটর ল্যারি ক্রেইব যৌন নিপিড়নের অপরাধে গ্রেফতার হন। এবং সাজা ভোগ করে। তার পরও উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের অপরাধের মাত্রা অতিরিক্ত যা আমাদের সমাজে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

এর একটা মূল কারণ হতে পারে অর্থনীতি। অনেকেই বলবেন, এটা কি করে সম্ভব? অর্থ আয়ের উৎসই নির্ণয় করে অর্থ ব্যায়ের মাত্রা ও পন্থা। একজন মানুষ নিশ্চয় তার কষ্টার্জিত অর্থ যেনতেন ভাবে ব্যায় করবেন না। আর অর্থের পরিমানই নির্ণয় করে ভোগ বিলাশের পরিমান। যৌনতা ভোগবিলাশিতারই অংশ। যেনতেন ভাবে আয় করা অর্থই হলো ভোগ বিলাশের উৎস।

ধরা যাক, একজন কিশোর তার পিতার পকেট হতে চুরি করে ৫০টি টাকা নিল। এ টাকা দিয়ে সে কি করবে? অবশ্যই খাতা কলম বই বা এ জাতীয় কোন পণ্য সে কেনবেনা। এ টাকা দিয়ে সে আনন্দ খুজবে। বড়জোড় বন্ধুবান্দব নিয়ে আড্ডা মেরে চা-সিগারেট খেয়ে কিংবা হলে গিয়ে কোন ছবি দেখে টাকাটা নষ্ট করে ফেলবে। এতে করে তার সাথীরাও উৎসাহিত হবে। এভাবেই বখাটেপনার শুরু। অতএব অর্থ কোননা কোন ভাবে বখাটেপনার মূলকারণের একটি।

ইভটিজিং-এর জন্য সমাজব্যবস্থাও অধিকক্ষেত্রে দায়ী। আমাদের সমাজ ব্যাবস্থা আগের মতো নাই, আগে সমাজে একটা সামাজিক বন্ধন ছিল, শ্রদ্ধাবোধ ছিল, পারিবারিক বন্ধন ছিল, পরষ্পরে শ্রদ্ধাবোধ ছিল। এর সবই এখন উল্টে ফেলা হয়েছে। মোট কথা পারিবারিক ব্যাস্থার কারনে আজ সমাজব্যস্থা উচ্ছন্নে যাচ্ছে পর্যায়ক্রমে।

দেশের অসহিষ্ণু রাজনীতিও এই ইভটিজিং-এর অন্যতম প্রধান কারন। বর্তমান অসহিষ্ণু রাজনীতিতে অপরাধীদের ব্যবহার করা হয়। শিশু-কিশোরদের যথেচ্ছা ব্যাবহার করা হয়। শিক্ষাজীবন ব্যহত করে হৈহুল্লরে উৎসাহিত করা হয়। অবোধ শিশুদের অপরাধে উৎসাহিত করা হয়। শিশুর মস্তিস্কে অপরাধ প্রবনতা জন্ম নেয়। বিজাতিয় আনন্দের সুখ অনুভব করে। ফলে ক্রমাস্বয়ে সুন্দর সুস্থমনের শিশুও অপরাধের দিকে যেতে থাকে।

দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যাবস্থাও ইভটিজিং-এর জন্য অনেকাংশে দায়ী, আমাদের শিক্ষাব্যাবস্থায় সুনাগরিক গড়ার কোন লক্ষ্য আছে কিনা তা গুণিজনদের মাথায় আছে বলে মনে হয় না। শিক্ষার সংশ্লিষ্ঠ যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে মুনাফাই এদের প্রধান লক্ষ্য। তবে উপরতলার জন্য বিকল্প ব্যাস্থা আছে, তাদের সন্তানদের ভিন্ন উপায় আছে।

কিছু দিন আগে শিক্ষা মন্ত্রনালয় হুকুমজারী করেন কোন রকম নোটবই সাজেশন বা এ জাতিয় কোন বই প্রকাশ অথবা বিক্রয় করা যাবেনা। অনেকেই সাধুবাধ জানালেন, অথচ এই হুকুমজারীর অশ্ব অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ডিম্ব দিল। নোট-সাজেশন বহাল তবিয়তে রইলো এবং নতুন মোড়কে তাদের শক্তির প্রকাশ ঘটাল। মজার ব্যাপার হলো মুল বইয়ের প্রশ্নগুলিও সাজেশন বই ভিত্তিক। আর কোচিংব্যাস্থা ? স্কুল শিক্ষকের কোচিং না করলেই ফেল। এছাড়াও এসেসমেন্টের অপসেট পেপারের ধাক্কায় অনেক শিশু শিক্ষা জীবন থেকে অপরাধ জীবনে যেতে বাধ্য হয়েছে। রয়েছে রং-বেরং এর কোচিং সেন্টারের হাজার ভাগ পাশের নিশ্চয়তা। এতসব বানিজ্য উপাধানের ধকল কয়টা পরিবার সহ্য করতে পারে ? এসব ভাবার কারোই ফুরসত নাই।

একটা কথা মনে পড়ল রাশিয়া আমাদের মুক্তিযুদ্দের সরাসরি সাহায্যকারী দেশ। আমাদের সদ্যস্বাধীন দেশের শিক্ষা প্রতিনিধীরা রাশিয়া শিক্ষা সফরে যান, স্কুল পরিদর্শন করেন যথারীতি শিক্ষার্থীদের কিছু প্রশ্ন করেন; এর মাঝে একটা প্রশ্ন ছিল, ‘এক সের দুধে কি পরিমান পানি মিশালে ক্রয় দামে বিক্রি করলেও নির্দ্দিষ্ট পরিমান মুনাফা অর্জন করা যাবে। প্রশ্নটি আমাদের সপ্তম শ্রেণীর সমমানের প্রশ্ন। সে দেশের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরাও কোন উত্তর দিতে পারে নাই। এতে আমাদের প্রতিনিধীরা মহাখুশি। কিন্তু বিপত্তি হল তখন যখন একজন শিক্ষার্থীর মন্তব্য করে বসলো “দুধে পানি মিশ্রনতো অপরাধ”। সেদিন আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা কোন প্রকার লজ্জা পেয়েছিলেন কিনা অথবা আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা সম্পর্কে কোন ব্যবস্থা নিয়েছিলেন কিনা তাও আজ জানা যায়নি।

রাষ্ট্রীয় বিচার ব্যাবস্থা অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির মূল কারণ। বিচার পক্রিয়া পূর্বেও ছিল এখনও আছে। তবে নিশ্চয় এত বেশী প্রশ্নবিদ্ধ ছিলনা। একজন বিচার প্রার্থীকে সাধারণত প্রথম এক জন পুলিশের নিকট যেতে হয়। তাদের সহায়তামূলক দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা প্রায় সবাই অবগত আছেন। এর পর আইনি পক্রিয়ায় আদালতে আইনি লড়াই। সেখানে আইনজীবী, আইনজীবীসহকারীদের কর্তব্য সচেনতা আদালত সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ববোধ তাও সবার জানা। বিচারের সময়কাল বাদি-বিবাদি উভয়ের আইনজীবীই জানেন কে প্রকৃত দোষি আর কে দোষি নয় তবুও লড়াই চলবে পেশাগত দক্ষতার; সত্য এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য নয়। স্বাক্ষীরা আসবে হলফ করে বলবে যাহা বলিব সত্য বলিব। সত্যবৈ মিথ্যা বলিবনা। অথচ বাংলাদেশের সবাই জানেন, টাকায় বিক্রি হয় আইন। ভাড়ায় মিলে স্বাক্ষী।

বিচার বিভাগের সততা, সচ্ছতা, দীর্ঘসূত্রিতা অপরাধীকে শাস্তি প্রদান। বিভিন্ন ব্যাপারে বিচারালয় একটা অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে উঠে। আইনি পক্রিয়া পদে পদে ব্যহত করা, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত না করা, অথবা নির্দোষব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান, যার কারণে অপরাধ প্রবনতা আরও বেরে যায়। নতুন অপরাধীর সৃষ্টি হয়।

দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অধিকাংশ অপরাধের জন্য দায়ী। অন্য-বস্ত্র-বাসস্থানের নিশ্চয়তা না থাকায় কৃষি ভিত্তিক আয় প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত না বিধায় মানুষ শহরমুখি ধাববান। ধারণ ক্ষমতার অধিক মানুষের শহরে অবসস্থান, জনাকির্ণ শহরে অপরিচিত পরিবেশে অপপরাধ প্রবনতা বারে, জন্ম হয় নতুন অপরাধীর। মোটামেটি এসব কারনে ইভটিজিং জাতিয় অপরাধ সংঘঠিত হয়।

ইভটিজিং-অপরাধীদের দৃষ্টান্তমুলক বিচার হওয়া আবশ্যকিয়। অবশ্যই ন্যায় বিচার হতে হবে, বিচারে কোন ভাবেই প্রভাব খাটানো বিগ্নতা সৃষ্টি অহেতুক কালক্ষেপন করা নয়। বিচার সম্পূর্ণ স্বচ্ছ-প্রক্রিয়ায় হতে হবে। বিচারের প্রদত্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রচার মাধ্যমে বিচারের পূর্ণাঙ্গতা প্রকাশ করতে হবে। যাতে করে ভবিষ্যতে আর কোন অপরাধি এ জাতিয় অপরাধ করতে ভয় পায়। এটা রাষ্ট্রের অবশ্যই কর্তব্য।

পরিবার শিশুদের লালনে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। শিশুরা যাতে কোন প্রকার অপরাধ প্রবন না হয়। প্রয়োজনে রাষ্ট্রিয় প্রচার মাধ্যমে শিশু লালন প্রক্রিয়ামূলক অনুষ্ঠান চালু করতে হবে। যাতে করে আমাদের মায়েরা শিশুদের সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে পারে। কোন ভাবেই অর্থনৈতিক হেয়ালপিনা চলবেনা। অর্থের প্রতি শিশুদের লোভ জাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
শিশুর শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও আবশ্যিক। শিশু মনে যে ছাপ পরে পরবর্তিতে তাই প্রকাশ পায়। যা কোন মতেই অবহেলার সুযোগ নাই। শিশুদের কোন মতেই অনৈতিক কাজে ব্যাবহার করা যাবেনা। রাজনৈতক কোন কারনে শিশুদের ব্যাবহার করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ করতে হবে। বর্তমানে বেশিরভাগ রাজনৈতিক কর্মসুচী বখাঠে তৈরির শুতিকাঘার।

শিশু-কিশোরদের রাজনৈতিক দল বা তাদের অধিকাংশ কর্মকান্ড হতে অপেক্ষাকৃত দুরে রাখাই ভালো। শিক্ষা মুলক অনুষ্ঠান-খেলাধুলা যা শিশুদের সুস্থ মানসিক ও দৈহিক গঠনে সাহায্য করে তা ব্যাতিক্রম। অপ্রাপ্ত বয়সে রাজনীতি আইন করে বন্ধ রাখা উচিৎ।

শিক্ষাব্যাবস্থার আমুল পরির্বতন করতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোন ভাবেই বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান হিসাবে গ্রহণ যোগ্য নয়। দেশের সমস্ত শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে হবে, কমপক্ষে মাধ্যমিক শ্রেনী পর্যন্ত বাধ্যতামুলক করতে হবে। কোচিং-সাজেশন-গাইড-প্রাইভেট পড়ানো সহ সকল প্রকার বাণিজ্য শিক্ষা প্রতিষ্টান হতে নির্মুল করতে হবে। বর্তমান এবং ভবিষ্যত কার্যকরি শিক্ষা ব্যাস্থা চালু করা উচিত। সংবিধান রাষ্টীয় কর্ম-পদ্ধতি, নিয়ম-নীতি এবং এর বাস্তবায়নের ধারক, জনগণ যেমন আইন কানুন মেনে ভেট খাজনা টেক্স বিভিন্ন কর প্রদান করে বশ্যতা স্বিকার করতে বাধ্য ঠিক তেমনি রাষ্ট্রেও সংবিধান মতে জনগণের অন্য বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা চিকিৎসা নিরাপত্তা প্রদানে বাধ্য। প্রয়োজনে রাষ্ঠ্র শিক্ষাখাতে অধীক ভূর্তকি দিতে হবে। মনে রাখা দরকার শিক্ষা সকল প্রকার অপরাধ নির্মূলের প্রধান চিকিৎসা। শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধ না করলে অপরাধ প্রবনতা বিশেষ করে ইভটিজিং এর মতো অপরাধ বন্ধ করা যাবেনা। কাজটা সহজ না তবে অসাধ্য কোন ব্যাপারও নয়। শুধু মাত্র সদিচ্ছা-শিক্ষানুরাগী মনোভাব থাকা দরকার। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সব দুর্নিতীতে সঠিক আইনি পদক্ষেপ নেয়া, কোনভাবেই ছাড় দেয়া নয় অবশ্যই নতুন কোন অপরাধ সৃষ্ঠি না করে। শিশুর শিক্ষাজীবন নিশ্চত করতে পারলে অপরাধের মাত্রা অনেকাংশে কমে যাবে।

তামাক সহ সব ধরনের মাদক বা নেশা জাতীয় দ্রব্য শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা, অপ্রাপ্ত বয়স্ক কারো নিকট এ রধরনের বস্তু বিক্রয় বা হস্থান্তর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধএবং শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে নতুন আইন প্রনয়ন করতে হবে। রাষ্ট্রের পাশাপশি এটা জনগনেরও কর্তব্য।
ইভটিজিং সহ অপরাধমুক্ত দেশ গড়তে হলে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সচ্ছতা জবাবদিহিতা আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং অর্থনৈতিক সুসম বন্টনব্যাবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অশালীন কুরুচিপূর্ণ কাম ঊদ্দিপনাই ইভ টিজিং-এর বেশীর ভাগ ঘটনার জন্য দায়ী। শুধুমাত্র আইন থাকলেই হবেনা আইনের সঠিক প্রয়োগ সামজিক সচেতনতা, পারিবারিক সুশিক্ষার নিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারলে অপরাধ মুক্ত সমাজ তথা অপরাধ মুক্ত দেশ আশা করতে পারি।
দর্শনশাস্ত্র মতে প্রত্যেক ঘটনার এক বা একাধিক কারণ থাকে আবার কারণের ও কার্য্যকারণ থাকে, শুধু মাত্র কারণ দ্বারা কোন ঘটনা বিশ্লেষন করলে সেই ঘটনা সর্ম্পকে অজ্ঞই থেকে যেতে হবে। দেকার্তের মতে পুরাটা বিশ্লেষন দরকার (ঘটনা+কারন+কার্য্যকারন)। মাওজেদং এর উক্তি ‘শিকড়ের সন্ধানে যাও, শিকড়ে পুষ্টি যোগাও’ তবেই সেটা মহীরূহ হবে।

ধরাযাক কোন এক সন্তান টাকা চুরি করেছে, পিতা তার শাসন করলো, এখানে পিতার শাসন কারন, ছেলের চুরি ঘটনা, আর কার্য্যকারন হলো ছেলেটার প্রয়োজন। পিতার শাসন ছেলেটার সংশোধনের জন্য। এ শাসন বিফলে যাবে যদি ছেলের প্রয়োজন বিশ্লেষন করে উপযুক্ত ব্যাস্থা না নেয়া হয়।

একজন কৃষক জমিতে চাষাবাদ করতে আগাছা পরিস্কার করে আবার আগাছা জন্মায় কারন আগাছার মুল থেকে যায়। তদ্রুপ অপরাধের মুলের বিশ্লেষন না করলে সাময়িক ভাবে হয়তো অপরাধ কিছুটা কমবে কিন্তু নির্মূল হবেনা।

এযাবৎ অনেক পত্রিকায় অনেক গুণিজনের লেখা, মন্তব্য, সমাধানের মতামত ছাপা হয়েছে, মুল্যবান তথ্য-যুক্তি আমরা পেয়েছি, অনেক সভা-সমাবেশ, অনেক প্রতিবাদ করা হয়েছে কিন্তু প্রতিরোধ হয় নাই, ইভটিজিংয়ের মুলউৎপাটনের সহজ কোন উপায় বের হয় নাই।

খন্ডিত নয় অপরাধের পুর্নাঙ্গ বিশ্লেষন করলেই এর সমাধান বের হবে, হতে বাধ্য। এবং আমরা পেতে পারি অপরাধমুক্ত পরিবেশ।

লেখক: আলী আকবার।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts