September 26, 2018

ঈদের পর খালেদা জিয়ার বিভাগীয় সফর


ঢাকাঃ  দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা স্থবিরতা নেমে এসেছে। নেতারা নিষ্ক্রিয় থাকায় একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সুযোগ পাচ্ছেন। ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামলে দলে গতিশীলতা আসবে। নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত হবে। তাই ঈদের পর বিভাগীয় শহরে সাংগঠনিক সফর শুরু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খালেদা জিয়া। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জঙ্গিবাদের উত্থান, গুপ্তহত্যা বৃদ্ধিসহ নানা সহিংসতার চিত্র তুলে ধরা, পাশাপাশি জনসম্পৃক্ত সৃষ্টি করে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনায় নিচ্ছে দলটির প্রধান।এছাড়া গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচি দেয়ারও সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপির। তবে তার আগে দলের পুনর্গঠনও শেষ করতে চায় দলটি। রমজানের মধ্যেই কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বাকি অংশের কাজ শেষ করা হবে। ইতিমধ্যে তার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘‘বিএনপি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দল। কাজেই রমজান মাসেও দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা হবে।’’

খালেদা জিয়ার সাংগঠনিক সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সাংগঠনিক সফর যেকোনো সময় হতে পারে। তবে রমজানের পর সাংগঠনিক সফরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, এই মুহূর্তে আমার জানা নেই।”

সূত্র জানায়, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বিএনপির আন্দোলন চলমান। এবার ক্ষমতাসীনদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে রমজান মাসকে সাংগঠনিক ও আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণের মাস হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে বিএনপি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপি এখনো ‘নিরপেক্ষ সরকার’ এর অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এরশাদ বিরোধী আন্দোলন এবং ১/১১ এর সামরিক সরকারের কার্যক্রম মোকাবেলায় যেমন অনড় ছিলেন। আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধেও তার সিদ্ধান্ত থেকে বিন্দু পরিমাণ সরে আসেনি। বরং দেশ ও বিদেশে জনগণের কাছে বিএনপির মূল দাবিকে তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তাই সফলতার দ্বারপ্রান্তে যেতে ফের্ ইস্যুভিক্তিক কর্মসূচি চালিয়ে নেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে দলটির।

এদিকে বিএনপির দাবি, অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে তাদের দল আন্দোলনের মধ্যেই আছে। বিএনপি সব সময়ই জনদুর্ভোগসহ জাতীয় ইস্যুতে গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। কারণ বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে। অথচ আওয়ামী লীগের একটি কুচক্রি মহল মিথ্যা প্রচারণায় ব্যস্ত। উদ্দেশ্য হাসিল করতে বিএনপি শেষ। বিএনপির আন্দোলন করার ক্ষমতা নেই, উল্লেখ করে তৃণমূল পর্যায়ে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে প্রচারণা করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু বিগত আন্দোলন কর্মসূচিতে দেখা গেছে, বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনোবল আত্মপ্রত্যয়ে বলীয়ান। এখনো আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে তাদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ- উদ্দীপনা।

সম্প্রতি এক আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আ স ম হান্নান শাহ বলেছেন, ‘‘সরকার পতনের জন্য বেশিদিন আন্দোলন করার প্রয়োজন নেই। জনগণের সঙ্গে গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করে সঠিক নেতৃত্বে রাজপথে নামলে সরকার পতনে সাত দিনের বেশি লাগবে না।’’

Related posts