December 19, 2018

ঈদের গল্প ‘মনস্বী মক্ষীরানী ২’

জুলি রহমান

অনু বহু কষ্টে নিজেকে সংযত করে। ভাবে সে নিজের কস্টের কথা অন্যকে বলে হয়তো হাল্কা হবে কিন্তু অপরতো দুর্ভাবনায় থাকবে।কী দরকার অহেতুক এই বিড়ম্বনা বাড়ানোর!

তা-ছাড়া আমিতো অনিক কে ছোট করবো না।আমি তো ওর মতো স্বাথর্পর না। দাম্ভিক না।অনুকে নীরব দেখে অপর বলে কী হলো তোর?

অনু বলে , না মানে আমি হঠাৎ করে বাংলদেশে যাচ্ছি তাই তোকে বলতে এলাম।তুই তো ফোনে আমাকে পাবি না।

ভালো থাকিস।বলেই অনু বের হয় ।

জামাইকার এই পথটা আজ থেকে মরে গেলো।অনুর চোখ ফেটে পানি ঝরে।এখন সে কোথায় যাবে? কার কাছে?আত্নীয় স্বজনের কাছে?না। যার কাছে মন খুলে এ যাবৎ সব বলেছি সেই অপর্ীর দ্বারস্থ হতে পারলাম না।

তা-ছাড়া আত্বীয় স্বজনের কাছে গেলে অনিক জেনে যাবে।আমাকে যখন সে মুক্তি দিয়েছে।অতি সাধারণ আর দশটা পুরুষের মতোই তিনটি শব্দের ব্যাবহার করেছে।অথচ সে একজন কবি।একজন কলম যোদ্ধা।এ সমাজের সংস্কারক।মনশীলতার গুরুভাড় যার কাঁধে।সে তাঁর ঘরের বাঁধনকে টিকিয়ে রাখতে অক্ষম।কথায় কথায় নারীকে করে অসম্নান। মক্ষীরানী আরো কতো কী উপাক্ষানে ভূষিত করতে দ্বিধান্বিত নয়।উগ্রতাই যার চরিত্রিক বৈশিষ্ঠ।ভালোই হলো।সম্পকের্র মতো এতো ঠুনকো বিষয়টি মুছে গেলো।ছেলে মেয়ের মুখ মনে পড়তেই অনুর বুক ভেঙে যেতে থাকে।সে অন্ধকারে নিজর্ন পাক একটা বেন্চিতে বসে গাঢ় তমসায় দৃষ্টি গেঁথে নীরবে চোখের জলে ভাসতে থাকে।

অপর অনু চলে যাবার পর থেকেই ভাবছে অনু হঠাৎ কেনো দেশে যাবে? ছেলে মেয়েদের স্কুল কলেজ! তা-ছাড়া ওর দায়িত্বশীল কাজ।

অনিক আর ভাবতে পারছে না।কী করবে সে?কিংকতর্ব্য বিমূঢ়!কেনো সে তাকে এতো শক্ত কথা বল্লো?নিজেই দহিত হচ্ছে এখন।ছেলে মেয়েরা বার বার বাবাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে আম্মু কোথায়?

এ প্রশ্নের উত্তর অনিকের কাছে নেই।অনিকের ছেলে থাকে ডমের। ইন্জিনিয়ারিং তৃতীয় বষর্।মেয়ে ম্যানহাটন স্কুলের এলিভেন এ পড়ছে।এই মেয়েটি বাবাকে জ্বালাতন করছে।মা ঘরে ফিরেনি।ভাই অরিককে ফোনে জানালে বোন অরিনার ক্রন্দনে নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না অরিক।বহু কষ্টে শান্ত করে অনিক তাঁর সন্তানদের।

রাত্রি তার পোশাকে আবৃত হয়েছে বহু আগেই।অনু ট্রেনে চেপে বসে।কোথায় যাবে?জানে না সে।রাতের দ্বিপ্রহর।ব্রুকলিন লাস্ট স্টপেজ।এবার তাকে নামতেই হবে।ফোন বন্ধ করেছে অপর্ীর বাসা থেকেই বের হয়েই।

ব্রুকলীনের একটা টুয়েনটি ফোর ডানকীনে বসে অনু।ঘড়ি দেখছে সে বার বার।একটা কফি নিলো।কখন ভোর হলো সে টেরই পেলো না।মানুষ স্রোতের ঢল বইছে ব্রুকলীন ব্রীজের উপর দিয়ে। অনু ভাবে তাঁরতো কাজ না করলে চলবে না।কিন্তু অফিসে গেলে অনিক যদি আসে? সে একাই প্রশ্নকারীর জবাব হয়ে দাঁড়ায়। হু কেয়ার? আমাকে তো বাঁচতে হবে।অনু ওঠে দাঁড়ায়।সে আবার ট্রেনে ওঠে বসে।ম্যানহাটনের ওয়ান সিক্সটিন এ নেমে সে তাঁর অফিসে ঢুকে।এলিভেটরে এগার তলায় ওঠতেই অনিকের সাথে দেখা।

অনু অতি স্বাভাবিক ভাবেই ওল্টোদিকে ঘুরে অনিকের বিপরীথ দিকে হাঁটে।অনিক অনুর অফিস কক্ষে অনুকে না পেয়ে এলিভেটর নিবে তখন দেখা অনুর সাথে।অনুকে দেখতে পায়নি অনিক।দেখামাত্রই অনু মুখ ফিরিয়ে নিলো।দুভর্গ্যবসত অনিকের দৃষ্টি পড়েও পড়লো না অনু উপর।

অনু দূরে দাঁড়িয়ে দেখলো অনিক এলিভেটর নিলো।অনুর বুকের ভেতর কঠিন কষ্ট উগলে ওঠে অরিনার জন্য।স্কুলে যাবার সময় মেয়েটি তাঁর কী খেলো?না জানি কতো কাঁদছে তাঁর জন্য।ছেলেটি কী জানে তাঁর মায়ের জীবনের পরিনতি? হায়রে সংসার!

হায়রে জীবন!নারীর কোনো ভাষা থাকতে নেই।নারীর প্রতিবাদী হওয়া মানায় না।সব কিছু অন্যায় নীরবে মেনে নিলেই সংসার থাকে।প্রতিবাদী হলেই তিন কথা সব নারীর জন্যই ।সে বুদ্ধিজীবি হোক,উচ্চ স্তরের শিক্ষিত সাটর্ফিকেট ধারী হোক না কেনো।পুরুষ তো পুরুষই।সিংহ কেশর ফোলা।তবে এখানে কিছু পুরুষ স্ত্রৈণ ও আছে।যারা পরিবার বহির্ভুত।স্ত্রীর ভয়ে একটি সত্য কথা বলতে পারে না।এই উভয় শ্রেণীর নারী পুরুষ অতি ঘৃণ্য।আমি তো অনিক কে কখনো তাঁর পরিবারের সদস্য থেকে বিচ্ছিনন করিনি।তাঁর পরিবরের সদস্যদের কে ঠকাই নি।

আমিতো কোনোদিন বলিনি তোমার বাবা মা ভাই বোনদের এতো করছো কেনো?তারপরও আমার জীবন এমন হবে কেনো?বরন্চ আমি আমাকে ঠকিয়েছি।আমি আমার লেখালেখির যে পান্ডুলিপি সে গুলো আড়ালে আবডালে রেখেছি।অনিকের নতুন বই নিয়ে আনন্দে আহলাদে মেতে থেকেছি।অনিক এই বয়সে এসে তাঁর উপযুক্ত শাস্তি দিলো?

অনু চোখ মুছে ফেলে।আর নয় কান্না।কার জন্য এই আঁখি জল? সে তো নারীকে সম্নান
করতেই শিখেনি।সে তো শুধু একজন পুরুষ।কোনো মায়ের গভর্জাত সে কথাটি দও ভুলে যায়।ভুলে যায় বলেই তাঁর প্রতিপক্ষকে মক্ষিরাণী বলে গাল দিতে পারে।আর তাঁর প্রতিবাদ করতেই তাঁর জীবন থেকে আমাকে সরিয়ে দিয়েছে।এতো স্বাথর্পরতা অনিকের।আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে গ্যাছে।হ্যা গ্যাছে বলেই সে আমাকে মুক্তি দিয়েছে।সে আমাকে মুক্ত করেছে!আমি হারিয়ে গেলাম।

অনিক অনুকে অফিসে না পেয়ে ঘাবড়ে গেলো।না না দুঃশ্চিন্তা তাকে পেয়ে বসলো।
আত্বীয় স্বজনের বাসায় ফোন করতেও সে দ্বিধা বোধ করতে লাগলো।একজন জানা মানে মিডিয়া রস মিশিয়ে না না গল্প ফেঁদে বসবে।

অরিনার ক্লাসে মন বসছে না।অরিক ও মার জন্য মন খারাপ করে থাকে।

অনিক মেয়েকে বলে, মা তুমি স্কুল থেকে ফিরে খেয়ে নিও।আমি অফিস শেষ করেই
আসছি।ঘরে এসে অনিকের ফাঁকা ফাঁকা লাগে।সামনে কোরবনীর ঈদ।বন্ধুরা ফোন দেয়।প্রতি বছর যাদের সংগে অনিক কোরবানী দেয় ;তাদের না করে দেয়।এবার সে কোরবানী দিবে না। দেশে তাঁর মা ভাই বোনকে বলে এবার সে কোরবানীর টাকা দিতে পারবে না।

ঘরের ভেতর বসে ড্রিংক করে ভুলে থাকতে চায় অনু কে।সাহিত্য জগত থেকে বিভিন্ন ঈদ প্রোগ্রামের জন্য ফোন আসে।অনিক সবাইকে বলে ব্যাস্ত আছি।এবার আমি কোনো প্রোগ্রামেই অংশ নিতে পারবো না।

অনিকের পা চাটা সোহরাব একটু আহত হয়।

সোহরাব প্রতি অনুষ্ঠানের সন্চালক ।অনিককে সব সময় হাই লাইট করে থাকে।সেই অনিক এবার অনুষ্ঠানকে উপেক্ষা করছে! এ টা যেনো সতি্যই তাঁর কাছে অবিশ্বাশ্য বলে মনে হয় তাঁর। এবার সোহরাব ইচছামত ছড়াতে থাকে।আরে এই অনিক কে আমি তুলে ধরেছি।আর আজ আমার অনুষ্ঠানে আসবে না।প্রতি অনুষ্ঠানের আগে আমার পা ধরে বসে থাকে।লিখে পযর্ন্ত দেয় কি কি বলতে হবে।কোন দিক দিয়ে তাকে হাই লাইট করতে হবে।আর আজ সে উপরে ওঠে গিয়ে আমার প্রোগ্রাম আসবে না!অপরের লেখা কতো ভালো।তাঁর অপ ব্যাখ্যা দিয়েছে আমাকে দিয়েই।বহু অনুষ্ঠানে আমি অপরর্কে নীরবে অপমান করেছি শুধু অনিকের জন্য।অপরের এতো ভদ্র একটি মেয়ে কোনোদিন আমার সাথে খারাপ আচরণ করেনি।বরং আমার ডাকে সারা দিয়েছে।

আরে ভাই কী বলবো নাফিজ, নয়ন, তমাল ও কী কম?এদের আমি ছাড়া কে উপরে টেনে তুলেছে?অথচ এরা আমার কবিতাকে কবিতাই ধরে না।অথচ সব সময়ই ওদের আমি সম্নান দিয়ে বিশেষ আসনে অলংকৃত করে আসছি।কবি হিসাবে যথেস্ট মূল্যায়ন করে আসছি।

পেছনে দাঁড়িয়ে অনু সব শোনে সোহরাবের কথা।অনু এবার বলে,তাহলে আপনিই সেই নাটের গুরু।যিনি লাটাই ধরে টানছেন।আরে অতো বেশী টানলে তো সূতো ছিঁড়বেই।ওদের দোষ ওরা নাম চায়।আপনি কী চান? মন? ওদের পা চেটে নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত সন্চালক হতে? হ্যা মাইক মন্চ দুটোই আপনার কাছে জরুরী বিষয়।আর এটি অজর্ন করতে আপনি বহু ঘাটকে অঘাটে পরিণত করেছেন।জীবন তো একটাই সোহরাব সাহেব।লোকে যে আপনাকে এতো একজন ভালো মানুষ বলে জানে।তাঁরা কারা?ঐআপনার পা চেটুয়রা।যাদের পাগুলো এতো শাদা করে চলেছেন।এখানে তো নীতি বলে কিছু নেই।

একজন ভালো মানুষের তো অন্তর দহন থাকে আপনার তো তাও নেই।অথচ লোকে যখন বলে, আহা সোহরাব সাহেব অত্যান্ত ভালো মানুষ।আপনার লজ্জা করে না?আপনি আয়নার সামনে কখনো দাঁড়ান না?কখনো নিজের সংগে কথা বলেন না?আর একটা কথা শুনুন।এই শহরে পুরুষ লেখকই ঐ সামনের আসনে বসবে কোনো নারী ঐ আসন পাবে না।অথচ নারীদের মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে ভালিয়ে আর কতো ক্ষতি করবেন তাদের?
কথা কয়টি বলেই অনু হন হন করে অন্তর্ধান হলো।

সোহরাব হা করে এতোক্ষণ অনু অথর কবি অনিকের বৌয়ের কথা শুনছিলো অবাক হয়ে।এখন সোহরাব ভাবছে অনু তো সব বলে দিবে অনিক কে।এখন উপায়?আবার একাই বলে, বলুক! আমিতো মিথ্যা বলিনি।

অনিক সকাল সন্ধা অনুকে নীরবে খুঁজে ।প্রতিদিন রাতে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে।কিছুদিনের ছুটিতে আরিক এসেছে বাসায়।দু ভাইবোন মায়ের স্নৃতি চারন করে।দু-ভাই বোন কাঁদতে থাকে। ছেলে বাবাকে বলে পুলিসে ইনফমর্ করতে অনিক তাতে রাজি নয়।সমস্যা তাঁর মিডিয়া।অনিক জানে অপর তাঁর ঘনিস্ট বন্ধু। কিন্তু অপির্কে ফোন করতে গিয়েও বহুবার চিন্তা করে বিরত থেকেছে।

আজ অনিকের মন খুব খারাপ কালই আরিক চলে যাবে মেয়ে টা তাঁর একা হয়ে যাবে।ইস আমি কেনো এতো নিঠুর কাজ করলাম? অনুতো খুব শান্ত শিষ্ঠ ওর তো কোনো দোষ নেই।দোষ একটাই তোষামোদ পছন্দ করে না।

অনিক কেনো লিখছে না? কোনো পত্রিকায় তাঁর লেখা নেই কেনো?তবে কী সে ভালো নেই?অনুর বুকটা হু হু করে ওঠলো এতো দিনের সংসার সন্তান।অনু এবার কান্নায় ভেঙে পড়ে।ইচ্ছে করে দৌড়ে গিয়ে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরতে।কী করবে সে?

অনিক তাঁর পান্ডুলিপি গুলো দেখে। সেখানে সাজানো থরে থরে কবিতার পান্ডুলিপি।সব অনুর লেখা কবিতা।অনুর কোনো বই নেই।এর জন্য সে কোনোদিন মুখ খুলে অনিক কে কিছু বলে নি।অথচ অনু ভালো জব করে।দুজনের ডলারেই সংসার চলে।অনিকের বাংলাদেশের মা ভাই বোনের সংসারে পাঠানো।এ সব নিয়েও তো অনু কিছু বলে নি।আমরা তো ভালোই সুখে ছিলাম।

সাহিত্য জগতের বিষয় টা কেনো ঘরে ঢুকালাম।অনু কেনো আমার ক্যারিয়ারের কথা না ভেবে বন্ধুর জন্য এতো দরদ?তবে কী সে কষ্ট পুষে রেখেছিলো?আমি যে তাঁর বই নিয়ে কখনো কিছু বলিনি।পক্ষান্তরে আমি বইয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছি।ওর মাঝে কী তবে সেই সুপ্ত আগুন নীরবে জ্বলেছে এতোদিন?যা কখনো আমাকে বুঝতে দেয়নি?

আজ অনু মেয়েকে না দেখে তাঁর দম বন্ধ হয়ে আসছে।সে স্কুল ছুটির পর বিরাট গাছের
আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে দেখে।কী ভাঙা মন নিয়ে এম ওয়ান এ ওঠে বসে।স্বচছ কাঁচের ভেতর দৃষ্টি গলিয়ে সে দেখছে তাঁর আদরের মেয়েকে।

অনু ভাবে তাঁর জীবনে কী এতো বড় পাপ যে জীবন এমন হলো?বাসটি ছাড়তেই অনুর বুকের ভেতর ভাঙতে থাকে।চাপ চাপ নদীর পাড় যেমন ভাঙে।কিন্তু এ ধ্বংসের শব্দ কান পেতে শুনে না ।জানবেও না অনিক কোনো দিন।হয়তো তাঁর সন্তানেরাও ভুলে যাবে তাকে।

অনিক আজ উকিলের কাছে এসে তাঁর জীবনের ঘটে যাওয়া কাহিনী খুলে বলে।উকিল প্রশ্ন করে আপনার এক্স ওয়াইফ এখন কোথায়?অনিক এক্স ওয়াইফ কথাটি শুনে একটা ধাক্কা খেলো।তাঁর কুড়ি বছরের বিবহিত জীবন।একি হলো?

উকিল এবার বলে,আপনার এক্স ওয়াইফ উকিল ধরেনি?অনিক এবার ও নীরব।তবে আপনার ওয়াইফ যদি কোনো অঘটন মানে আত্নঘাতি হন তবে আপনাকে কোনো উকিলই বাঁচাতে পারবেনা।এটা মাথায় রাখবেন।অনিক এবার ওঠে দাঁড়ায়।

তাঁর শরীর ঘামতে থাকে।সে সব আত্নিয়ের বাড়িতে ফোন দিয়ে নিরাশ হয়ে অবশেষে অপরের বাড়িতে কৌশল করে ফোন দেয়।

কবি আপনার বাড়িতে আজ অনুর যাওয়ার কথা ছিলো।

অপর এবার বলে অনু ফিরলো কবে দেশ থেকে?মাত্র দু সপ্তাহের জন্য কেনো গেলো দেশে।অনিক তো অবাক!অনু দেশে চলে গ্যাছে?না তাঁর পাসপোটর্ তো ঘরেই তাঁর কাছেই।এখন কী বলবে অনিক? বলে হ্যা না মানে এইতো এলো।

অপর বলে না অনু তো আসে নি।

অনিক ফোন ছেঁড়ে অস্থির হয়ে ওঠে।ইতিমধ্যে ঈদের দিনটি ও এলো।সবার ঘরে
ঈদের আনন্দ।অনিকের ঘরে শোকের মাতন।বাংলাদেশে তো অনু যায়নি।তবে গেলো কোথায়?

অনুর আজ সতি্যই বাঁচতে ইচ্ছে করছে না। কার জন্য বাঁচবে সে?তাঁর স্বামী সন্তান কেউ
তো নেই।কার জন্য কিসের আশায় বাঁচবে সে?অনু সেই সবুজে ঢাকা পাকর গিয়ে বসলো।যেখানে বসে সে তাঁর দুঃখ বিলি করে।

আজ অনিক ও ঘরে থাকতে পারে না।সেও ওই নিজর্ন পাক বেন্চিতে বসে।সে আজ ড্রিন্ক করেছে।ঢুলু ঢুলু চোখে দেখে দূরে কেউ একজন বসে আছে মহিলার মতো।

অনিক এবার মেয়েটির পেছনে বসে।এই নষ্টা মেয়ে মানুষ এতো রাতে এই পাকর বসে আছো কার অপেক্ষায়? মেয়েটি ওঠে দাঁড়ায়।অনিক আবার বলে, মক্ষীরানী এবার আমাকে তুলে তোমার ঘরে নিয়ে যাও।বলেই অনিক ঘাড় কাৎ করে একটু ঝুঁকে পড়ে।

অনু খুব অপমান বোধ করে লোকটির কথায়।ইচছে করে কষে একটা চড় কষিয়ে দিতে।কিন্তু লোকটি যে খুব গিলেছে এটি বুঝতে অনুর কষ্ট হলো না।সে দৌড়ে পালাতে গিয়ে আবার থমকে দাঁড়ায়।বাংলায় কথা বল্লো যে লোকটা।ওকে বুঝিয়ে দিতে হবে সে পতিতা নয়।অতি সম্নানিত একজন মানবী।যার ঘর ছিলো।অনু এবার জোড়ে জোড়ে চিৎকার করে বলে,অনু কোনো নষ্টা মানুষ নয়।অনুকে এমন বকা দেবার সাহস এই পৃথিবীর কোনো পুরুষের নেই।বুঝলে চরিত্র হীন লম্পট পুরুষ।

অনিক এবার তাঁর অবচেতন মনের দরজা খুলে অস্পষ্ট করে বলে অনু? অনু তুমি যেওনা আমাকে একা ফেলে।অনু নিভু নিভু লাইট পুস্টের আলোতে স্পষ্ট দেখতে পেলো ক্ষয়িষ্ণু অনিকের মুখ। অনু চমকে ওঠে। ভেতর থেকে উগলে ওঠা কান্না তাঁর চোখের দুকূল ভাসিয়ে দিলো অতল সাগরে।কী করবে অনু?সে তো বাতিল এখন।সে তো পারেনা অনিক কে আদর করতে?তাঁর বিরহে অনিক যে শেষ হয়ে যাচ্ছে।বিগত একটা মাসে সে একটি লিখাও দেখতে পায়নি কোনো পত্রিকায়।দেখেনি অনিকের কোনো ছবি।

অনিক এবার ওঠে দাঁড়ায়।তুমি পাকর পাকর রাত কাটাও? তুমি আমার ছেলেমেয়েদের
ঘরে একা রেখে সংগ সূধা নিতে মক্ষী রানীর সন্ধানে এই পাকের্ এসেছো? বাহ সাধু সন্নাস পুরুষ!আমার প্রয়োজন তোমার কাছে শেষ বলেই আমাকে মুক্তি দিয়েছো তাই না?

অনিক এবার বলে যে ঘরে তুমি নেই সে ঘরে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।তুমি ফিরে চলো।
আমি উকিলের সংগে কথা বলেছি।আমি যা করেছি ওতে ছাড়াছাড়ি হয় না।তুমি ঘরে চলো।আজ ঈদের দিন গেলো।ছেলেমেয়ে বিষ্ন্ন মনে ঘরে বসে আছে।

অনু বলে,যাব এক শতর আর কোনদিন কোনো মায়ের জাতকে মক্ষীরানী বলে গাল দিবে না।অহংকারে অন্ধ হবেনা?

অনিক , আর আমাকে লজ্জা দিবেনা।এবার ভাবছি তোমার বই করবো।নাম বাছাই করো।চলো বাচ্চাদের ঈদের আনন্দটা দিই।

Related posts