November 16, 2018

ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তে মাদকের রমরমা ব্যবসা!


অনীল চন্দ্র রায়ঃ ২৬ জুন,ঈদকে সামনে রেখে ফুলবাড়ীতে চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা। মজুত করছে মরণ নেশা ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গাঁজা, মদ, ফেন্সিডিল জাতীয় দ্রব্য।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান থেকে বাদ পড়া চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ীরা এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিয়ে দিনে রাতে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চললেও থানা পুলিশ প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করতে পারছে না।

সরকার সারা দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসায়ীসহ অপরাধমুলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়ায় ফুলবাড়ী  থানা পুলিশ  পহেলা জুন থেকে রোববার পর্যন্ত গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে ১৮০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে বেশীর ভাগ মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী। কিন্তু রাঘব বোয়ালেরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ হাতে গোনা কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে গ্রেফতার করে দায় সারা কাজ করছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, যারা প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী তাদের সঙ্গে রয়েছে একাধীক গড ফাদার। রয়েছেও একাধীক নেটওর্য়াক। সেকারণে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করতে পিছু টান দেয়। মাদকের ভয়াল থাবায় ফুলবাড়ী এখন আক্রান্ত। উপজেলার ৫০টি রুট দিয়ে চলছে এখন মাদক ব্যবসা। রুট গুলো হলো-গোরকমন্ডল, চর-গোরক মন্ডল, বস্তি গোরকমন্ডল, বালারহাট বাজারের চারিদিক, গজেরকুটি, খলিশা কোটাল, বালাতারী, কৃষ্ণানন্দ বকসী, ধুলারকুটি, চওড়াবাড়ী, পূর্ব ফুলমতি, শিমুলবাড়ী জুম্মারপাড়, দাসিয়ারছড়ার বোর্ডেরহাট এলাকা, নাখারজান, গংগারহাট, ধর্মপুর, অনন্তপুর, উত্তরঅনন্তপুর, কাশিয়াবাড়ী, বিদ্যাবাগীশ, ঠোসবিদ্যাবাগীশ, চাঁদেরবাজার, ধারিয়ারপাঠ, বেড়াকুটিবাজার, গোড়কমন্ডল আবাসন, ফুলসাগর আবাসান , পশ্চিশ ধনিরাম আবাসন, ঘুয়াবাড়ী ঘাট ইত্যাদি।

এ সব রুট দিয়ে স্থানে গাঁজা, মদ, ফেন্সিডিল ও নেশা জাতীয় ভারতীয় ট্যাবলেট ইয়াবা’র ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। যেন দেখার কেউ নেই। ফলে স্কুল, কলেজ পড়–য়া যুব সমাজ আজ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অনেকেই নেশার টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে চুরি ছিনতাইসহ নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছেন। মাদক ব্যবসায়ীরা ঈদকে সামনে রেখে ব্যাপক হারে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবা মজুত করছে। বেশির ভাগ চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা দুলাল জানান, আইন শৃখলা বাহিনী আন্তরিক হলে মাদক নির্মূল করা কিছুটা হলেও সম্ভব।

শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এজাহার আলী জানান, মাদক এখনেই নির্মূল করা দরকার। তা না হলে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) এ বি এম রেজাউল ইসলাম জানান, আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করছি।

কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি শিমুলবাড়ী ক্যাম্পের সুবেদার দ্বীনেশ চন্দ্র জানান, বিজিবি সব সময় মাদকের উপর বিশেষ টহল রাখছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২৬ জুন ২০১৬

Related posts