November 21, 2018

ই-মেইল প্রতারণায় সর্বনাশ!

ই-মেইল

ভারতঃ ভারতের পুনে শহরের এক ব্যবসায়ী ই-মেইল প্রতারণার শিকার হয়ে ১৪ কোটি রুপি খুইয়েছেন। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পুনে শহরের পুলিশ ও সাইবার অপরাধ বিভাগে এ ধরনের ১৬টি মামলা হয়েছে। এ ঘটনাগুলোতে মোট ১৪ কোটি ৪৭ লাখ রুপি খুইয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সম্প্রতি পুনের ওই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার কাছ থেকে ই-মেইল প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে টিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুনের ওই ব্যবসায়ী জার্মানিভিত্তিক একটি কোম্পানির কাছ থেকে কিছু যন্ত্র কেনার জন্য ই-মেইল চালাচালি করেছিলেন। পারস্পরিক চুক্তিতে পৌঁছানোর পর ওই ব্যবসায়ী জার্মান কোম্পানির কাছ থেকে দ্রুত অর্থ পরিশোধের একটি মেইল পান। ওই মেইলের মধ্যে বিস্তারিত সবকিছু ঠিক ছিল। সেখানে থাকা একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৮২ লাখ রুপি অর্থ পাঠান ওই ব্যবসায়ী। পরে তিনি দ্রুত প্রতারণার বিষয়টি ধরতে পারেন। কারণ, মূল প্রতিষ্ঠান অর্থ না পাওয়ার কথা জানায়। সব মেইল আবার ভালোভাবে পরীক্ষা করে তিনি দেখেন, প্রায় আসল ই–মেইল ঠিকানার মতোই আরেকটি ই–মেইলের মাধ্যমে তাঁকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দেন। তদন্ত করে দেখা যায়, ওই অর্থ পোল্যান্ড হয়ে নাইজেরিয়ার একটি অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে।
এ ধরনের ঘটনাগুলোকে বলা হয় ‘ই-মেইল স্পুফিং’। এর মাধ্যমে আসল ই-মেইল ঠিকানাকে এমনভাবে কাজে লাগানো হয়, যাতে মেইল সেখান থেকে এসেছে বলেই মনে হয়। কিন্তু আসলে এর পেছনে কাজ করে সাইবার দুর্বৃত্তরা। সাধারণত প্রতারণার জন্যই এ ধরনের মেইল ব্যবহার করা হয়।
ভারতের সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, মেইল প্রতারণার শিকার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এক ব্যবসা থেকে আরেক ব্যবসা বা ‘বিজনেস টু বিজনেস’–এর ক্ষেত্রে বেশি হয়। আসল ই-মেইল আইডির চেয়ে এ ধরনের আইডিতে খুব সামান্য পরিবর্তন থাকে, যা খুঁটিয়ে খেয়াল না করলে ধরা কঠিন। তবে অর্থ হাতিয়ে নিতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর পরিবর্তন করে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এ ধরনের নিখুঁত মেইল তৈরির ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেখান থেকে তথ্য ব্যবহার করতে পারে দুর্বৃত্তরা।

তথ্যসূত্র: টিএনএন

Related posts