November 13, 2018

ইয়াবা ব্যবসায়ী মায়াপুত্র কু-কর্মের ফলে আত্মগোপনে

ঢাকাঃ  রনি চৌধুরীর নানা কু-কর্মের ফল সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মাদক ব্যবসা, জমি দখল থেকে শুরু করে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মঙ্গলবার (২৮ জুন) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীসহ এর বাইরে বিভিন্ন জায়গায় তার মাদক দ্রব্যের গোডাউনে অভিযানে চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৠাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ৠাব। এছাড়া উত্তরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গা রনির হাত থেকে দখলমুক্ত করতেও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান দেখে বর্তমানে নিকেজে আত্মগোপন করেছেন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীর ছেলে রনি চৌধুরী।

তার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ ওঠায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত পদ থেকে তার নাম বাদ দিতে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

জানা গেছে, পর্দার আড়ালে থেকে মাদক ব্যবসা, সরকারি জমি দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন রনি। দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন আন্ডারওয়ার্ল্ড। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কায়েম করেছেন ত্রাসের রাজত্ব। একচেটিয়া ভাবে করে যাচ্ছেন মাদক ব্যবসা। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ইয়াবা বানানোর তিএনটি কারখানা রয়েছে তার।

রনি ও তার গ্রুপের সদস্যরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে সরকারি সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তিনি ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ৠাব ও পুলিশ দিয়ে আটকের ভয় দেখিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে রনি মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুন) কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে রনি চৌধুরীর অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর টনক নড়ে প্রশাসনের। দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকা সূত্রে এসব খবর জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, রনি চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জোনের ডিসি ও থানার ওসিদের বলা হয়েছে। পারিবারিক প্রভাবের কারণে রনি ও তার বড় ভাই দীপু চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। রনির ইয়াবা কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

এছাড়া উত্তরায় পাউবোর প্রায় আড়াই বিঘা জমি রনির হাত থেকে উদ্ধার করতে স্থানীয় প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে। এ নিয়ে গতকাল পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিশেষ বৈঠক করেছেন। পাউবোর ওই জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছেন রনি চৌধুরী।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও গোয়েন্দা) সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের কড়া নির্দেশ রয়েছে।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় রনি চৌধুরীকে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে দলের হাইকমান্ড বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।

Related posts