September 23, 2018

ইহুদীবাদ নাৎসিবাদ এবং বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্র বাংলাদেশ

আবু জাফর মাহমুদ

জার্মানি থেকে বিশেষ ধর্মবিশ্বাষীদের বা জাতিকে নাৎসি দলীয়প্রধান হিটলার গণহত্যার মাধ্যমে দূর্বল ও নির্মূল  করেছিলেন বলে তার বর্বরতাকে নাৎসিবাদি  বর্বরতা হিসাবে চিহ্নিত। এডলফ হিটলারের নেতৃত্বে ন্যাশানেল  সোসিয়েলিষ্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্ট  সংক্ষেপে নাজি পার্টি ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫সাল পর্যন্ত একনায়ক শাসন জারি রাখে।জার্মান চ্যান্সেলর হয়েই তিনি শুরু করেন ইহুদি গণহত্যা।দীর্ঘদিনের অসন্তোষের রেশ ধরে উত্থান ঘটে এই নির্মমতার।এই পার্টি ১৯১৯সালে আত্নপ্রকাশ করার সময়েই হিটলার যোগ দিয়ে ১৯২১সালে তার নেতৃত্ব পান।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে  (১৯৩৯-১৯৪৫)জার্মানীর  পরাজয়ের পর নাজিদের অবস্থা কাহিল হয় এবং প্রায় ৬মিলিওন ইওরোপীয়ান জিউস হত্যার দায়ে যুদ্ধাপরাধীর শাস্তির আওতায় আসে।

দ্বিতীয়বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আজ পর্যন্ত নাৎসিদের এই গণহত্যাকে যুদ্ধাপরাধরূপে বিবেচনা করে আসছে বিশ্ববাসী।ইহুদিদের উপর এই নিষ্ঠুরতার নিন্দা সারা দুনিয়ায় হয়ে আসছে।অবশ্য জার্মানীর অনেকে ভিন্ন মত  পোষণ করে বলেন,হিটলারের সিদ্ধান্ত দেখতে নির্মম হলেও ইহুদি জাতিকে হত্যা করার পেছনে যুক্তি ছিলো জার্মানীর অস্তিত্ব টিকানোর প্রশ্নে,ইহুদিরা ছিলো জার্মানীর জন্যে ভয়ানক ক্ষতিকারক শক্তি।এই বিতর্ক এখনো চলছে নাৎসি যুদ্ধাপরাধীদের খুঁজে খুঁজে মৃত্যুদন্ড দেয়ার পরও।যাইহোক,মানবতাবাদী ও মানবাধিকারের বিবেচনায় নৃশংসতা ধর্ম অথবা রাজনীতি যে অজুহাতেই হোক,তা মানব সভ্যতার গতিকে অসভ্যতায় আটকানোর ঔদ্ধত্য।

ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে ইহুদি কর্তৃত্বের বিস্তৃতি চলছে বিশ্বময়।মুসলমানদের বিরুদ্ধে খৃষ্টানদের লেলিয়ে দিয়ে মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো থেকে সম্পদের মালিকানা দখল করে নিচ্ছে ইহুদিরা।এই কাজ হচ্ছে,কোথাও খৃষ্টানদের সাথে  ভাগাভাগি করে আর কোথাও ইহুদি কোম্পানীগুলো নিজেরা এককভাবে সম্পদ  নিচ্ছে হাতিয়ে।ভারতবর্ষে উগ্রহিন্দুদের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে চলছে স্থায়ী রাষ্ট্রগঠন সহ অন্যান্য সুযোগ নেয়া।এই কোম্পানীগুলোর প্রতি পূর্ণপৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে ইজরাইল সরকার ও তাদের গোয়েন্দা বাহিনীর।আমরা হিন্দুত্ববাদী এবং ইহুদিবাদী যুগে প্রবশ করেছি বলে অনেক বিশ্লেষক আভাস দিচ্ছেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতে তো বটেই,বাংলাদেশেও ছদ্মবেশী ইহুদি কর্তৃত্ব পাকাপোক্ত হয়েছে  হিন্দু কর্তৃত্ব সম্প্রসারণের ভেতর দিয়ে।বাংলাদেশ রাজনীতির বর্তমান কাল চলছে মুসলমান সমাজকে দূর্বল করে হিন্দু কর্তৃত্বে রাষ্ট্রপরিচালনা তুলে দেয়ার কাল।রাজনীতি অথবা অন্য ইস্যুর অজুহাত দিয়ে বিশ্বময় ধর্মীয় দখলদারিত্ব ও প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠা চালু হয়েছে।এতে টার্গেট ইসলামধর্ম ও মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চলের সম্পদ।

মিজুরাম অঙ্গরাজ্য বাংলাদেশের রাঙ্গামটির সাথে সীমান্তে লুসাই পর্বতের পেটে কর্ণফুলি নদীর উৎপত্তিস্থল।কর্ণফুলি জন্ম নিয়েই নাচতে নাচতে বঙ্গোপসাগরে এসে সঙ্গমে মিলেছে।দিল্লীর নিয়ন্ত্রণে দারুণ বিদ্বেষের শিকার মিজোজাতি।এই জাতি চীন বংশদ্ভূত।ভারতের দখলিকৃত বিশাল সুশোভিত এই প্রাকৃতিক ওখনিজ সম্পদের রাজ্যকে ইহুদি রাজ্য করে বহুবিধ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে।এই কাজ সম্পন্ন হবার পর  বঙ্গোপসাগরে নিয়ন্ত্রণ নিরংকুশ করা, পার্বত্য জেলাগুলোও কক্সবাজার-টেকনাফ কেড়ে নিতে আর বেগ পেতে হবেনা।উল্লেখিত আগ্রাসনি থিউরী অনুসারেই ভারতে মুসলিম ঐতিহ্যের কীর্তিগুলো মুছে ফেলা চলছে,যা বাংলাদেশেও চালু হচ্ছে সরকারি উদ্যোগে।

ভারত-ইজরাইলী সম্প্রসারণবাদ বাংলাদেশে  হিন্দুপন্থী রাজনীতিক ও সরকারী কর্মকর্তাদেরকে ব্যবহার করে  অসহিষ্ণুতার রাজনীতিকিকরণ সামাজিকিকরণ এবং বিচারহীনতা চালু করেছে।এতে হিন্দুদেরকে সরকার চালনার যন্ত্ররূপে উত্থান ঘটানো হয়েছে।ওদের এজেন্টরা রাজনীতির প্রয়োজনে নিজে্দেরকে বাঙালি পরিচয় দেয়।বাঙালি জাতির জাতিত্ব তচনছ করে দিচ্ছে সম্প্রসারণবাদিরা।ব্লগার,বুদ্ধিজীবী,সমলিঙ্গপন্থীদেরকে হত্যা করে তাদের পৃষ্টপোষকরা নিজেদের যুদ্ধক্ষেত্রকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।মুসলমানদের উপর দায় চাপিয়েএকতরফা বিজয় সহজ করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ইসলাম ধর্মবিশ্বাসী হওয়ায় ‘সন্ত্রাসী’র পরিচিতির বোঝা নিতে বাধ্য করা হয় মুসলমানদের,হিন্দু খৃষ্ঠান বা অমুসলিম হলে সন্ত্রাসীরা সম্প্রসারণবাদপন্থীদের  প্রিয়ভাজন হয়,পায় নিকটাত্নীয়ের পুরস্কার।জন্মগত  মুসলমান হলেও ইসলামকে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত বিশ্বাস থেকে নির্বাসনে দেয়া লোকরা সম্প্রসারণবাদপন্থীদের আরো বেশী আপন। খৃষ্ঠান বৌদ্ধ ও উপজাতিদেরকে মুসলিম-বিদ্বেষী বানানোর তৎপরতা বহুদিনের।পাহাড়ি উপজাতিরা ছাড়া  অন্যান্যেরা ভাষা-সংস্কৃতিতে, জাতে বাঙালি নিঃসন্দেহে।কিন্তু ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা দেয়া এবং ইসলাম তাড়ানোর কাজে তাদের মধ্যেকার উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসীদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে।অর্থ ও অস্ত্রের বিনিময়ে  বাংলাদেশকে ইসলাম-বিদ্বেষী একটি ঘাঁটি করতে দেয়ার দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

এখানে হিন্দুত্ববাদী কর্তৃত্ব আনার ফলে ইহুদি স্বার্থ কায়েম সহজে সম্ভব হচ্ছে। প্রশিক্ষণ পাওয়া কট্টর উগ্রহিন্দুরা আপাততঃ দূরের শত্রু ইহুদীদেরকে ছাড় দিচ্ছে কাছের  প্রতিপক্ষ মুসলমানদেরকে দূর্বল করার জন্যে।বাংলাদেশে পুলিশ,তথ্যমন্ত্রণালয় এবং বিচার বিভাগের সীমাবদ্ধতায় মুসলমান সমাজ নিরাপত্তা হীনতায় আক্রান্ত।সরকারে এখন হিন্দুত্ববাদের পুজা প্রশ্রয় চলছে সীমাতিরিক্তহারে।বিচারহীনতা এবং বিভীষিকার সংস্কৃতি বহাল রাখায় উগ্রবাদের প্রসব সম্ভাবনা দেখা যায়।এই সম্ভাবনাকেই ব্যবহার করছে রাষ্ট্রীয় অপরাধী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকরা।

বঙ্গোপসাগরে স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ নেয়া এবং বাংলাদেশের প্রতিরোধ ক্ষমতা চিরতরে শেষ করার আশায় অনেক বছর যাবত চালু রয়েছে ছদ্মবেশী একতরফা যুদ্ধ।এযুদ্ধ রাজনৈতিক ইস্যু,রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হত্যা,সেনাঅফিসারদের চাকরিচ্যুতি এবং হত্যাকান্ডও আর্থিক  লুটপাটের আদলে হচ্ছে বিধায় আপাততঃ সহজে বুঝা যাচ্ছেনা।যুদ্ধের আসল রূপ জনগণের কাছে উম্মোচিত হবার সময় আসবেই।সে সময় দেখা যাবে বাংলাদেশকে টুকরো টুকরো করার জন্যে রাজনৈতিক ও আইনগত সিদ্ধান্ত এসে গেছে জাতীয় সংসদ থেকে।এতে অবাক কিছু নেই।বলা হবে এটাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।রাজনৈতিক দূরদর্শিতা। বাংলাদেশ পরিস্থিতির অন্যকোন পরিবর্তন না হলে হিন্দুত্ববাদী ইহুদিবাদী শক্তির চাপে বাংলাদেশের ম্যাপের  পরিবর্তন এভাবেও হতে পারে।

ভারতে হিন্দুত্ববাদি উগ্রতা বেড়েছে বলে মার্কিন রিপোর্টে এসেছে।‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর হিন্দু মৌলবাদি গোষ্ঠী গুলোর আক্রমণের ঘটনা বেড়েছে।গত ফেব্রুয়ারীতে এমন্যাষ্টি ইন্টারন্যাশানেল ভারতে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে,দেশে ধর্মীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং লিঙ্গ ও জাতিভিত্তিক বৈষম্য ও সহিংসতা ব্যাপকভাবে উত্থান হয়েছে’।

ইউ এস কমিশন ফর রিলিজিয়াস ফ্রিডম রিপোর্ট স্পষ্ট বলেছে, ‘ওইসব সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়নের পেছনে সরকারী রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংঠনের হাত ছিলো।পুলিশের পক্ষপাত এবং বিচারবিভাগীয় সীমাবদ্ধতার জন্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজেদেরকে অনিরাপদ মনে করে’।ভারতের এই পরিস্থিতি মানবাধিকার ও মানবতার বিবেচনায় ভয়ানক আপত্তিকর।

ইউ এস কমিশন ফর রিলিজিয়াস ফ্রিডম মার্কিণ সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নীতি প্রসঙ্গে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করতে।এই সংবাদ প্রকাশ্যে এসেছে নরেন্দ্র মোদীর আমেরিকা সফরের তারিখের একমাস আগে,তাই বিষয়টির গুরুত্ব বহুবিধ।মার্কিণ সরকার এব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেবে বলে আশা করা যায়।

এক্ষেত্রে ইহুদি-হিন্দু যোদ্ধারা বাংলাদেশকে সহজে বিজয়ের ক্ষেত্ররূপে বাছাই করেছে বাংলাদেশী রাজনীতিকসহ অন্যান্যদের  অনেককে সহজে কেনাকাটা করা যায় বলে।বাংলাদেশে নানা অজুহাতে মুসলমান নিধন  এবং মুসলমান সমাজকে সন্ত্রস্থ করে  লক্ষ্য হাসিলা করার পেছনে নাৎসিবাদ- ইহুদিবাদ-হিন্দুত্ববাদ একই অর্থে দেখা যায় কিনা ভাবার দিন এসেছে কিনা ভাবনা বিশ্লেষকদের।নাৎসিবাদী হিটলার ইহুদিদের জাতিগতভাবে জার্মানী থেকে নির্মূল করছিলো তৎকালীন জমানার নির্মমতায়  ইহুদিবাদি ও হিন্দুত্ববাদিরা বর্তমান জমানার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় মুসলমান নির্মূল অভিযান চালু রেখেছে।

বাংলাদেশে বিভীষিকাময় অবস্থাকে আরো জটিল করে দিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে ভারতীয় অংশে একটি ইহুদি রাষ্ট্র করার পরিকল্পনা সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি উপজাতি নেতাদেরকে উস্কানিতে রাখার উদ্দেশ্য তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে আলদা করা।পাহাড়িদেরকে ইহুদি রাষ্ট্রের প্রভাবাধীন করে মায়নমার সীমান্ত পর্যন্ত সমগ্র পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের মালিকানা নিয়ে টান দেবে তারা।

অপরদিকে সুন্দরবন এবং মংলাবন্দরসহ খুলনা বাগেরহাট যশোহর এলাকা নিয়ে ভারতের সাথে আরেকটি ক্ষুদ্র হিন্দুদেশ করতে রয়েছে তারা প্রস্তুত।এভাবে…………….

লেখকঃ আবু জাফর মাহমুদ
(ইহা লেখকের একান্ত ব্যক্তি গতমত, প্রকাশক বা সম্পাদক দায়ী নহে)

Related posts