December 11, 2018

‘ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতি বাতিল না করলে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ’

ঢাকাঃ  শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন ২০১৬ কে ইসলাম বিরোধী ও ধর্মহীন আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এই শিক্ষানীতি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ দাবি জানান। দাবি না মানলে সারাদেশ থেকে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ করারও ঘোষণা দেন।

চরমোনাই পীর বলেন, দেশকে ১৯৪৭- এর পূর্বাবস্থায় নিয়ে যাওয়ার যড়যন্ত্র চলছে। আমরা আজ আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে শঙ্কিত। আমাদের স্বাধীন জাতিসত্ত্বা আজ হুমকির মুখে। আমাদের ধর্ম-বিশ্বাস ও আমাদের স্বকীয় সংস্কৃতি ধ্বংস করার জন্য গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে। জাতীয় শিক্ষনীতি ২০১০ ও শিক্ষা আইন ২০১৬ সেই ষড়যন্ত্রেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা এর প্রতিবাদ করেছিলাম। সরকার আমাদের আপত্তি তোয়াক্কা না করে একতরফাভাবে জাতীয় শিক্ষানীতি এবং ইসলাম ধর্মবিহীন পাঠ্যসুচি অনুমোদন করেছে।

তিনি বলেন, সিলেবাস থেকে অনেক মুসলিম কবি-সাহিত্যিকদের ইসলামী ভাবধারায় রচিত প্রবন্ধ, গল্প ও কবিতা পাঠ্য বই থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে পাঠ্য বইতে নতুন করে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কীয় বিভিন্ন বিষয়াদী। অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে এমন সব প্রবন্ধ, গল্প ও কবিতা যা আমাদের স্বাধীতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যা আমাদের মুসলিম সমাজ ও সভ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করে।

তিনি আরও বলেন, হিন্দু ধর্মের ছেলে মেয়েরা হিন্দু ধর্মীয় বিষয়াদী পড়বে, এতে কারো আপত্তি নেই। কিন্তু মুসলমান ছেলে মেয়েদের জন্য হিন্দু ধর্মীয় বিষয়াদী যেভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তা কোনো বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারে না। বিষয়টি অবশ্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও উস্কানিমূলক। এই উস্কানিমূলক জঘন্য কাজ যারা করেছে ক্ষমতাসীনরা তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নিলে শুধু সরকারকেই নয়, গোটা জাতিকে এর মাশুল দিতে হবে।

শিক্ষনীতি বাতিলের দাবিতে সমাবেশে তিনি ৮ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম ও মাওলানা নেছার উদ্দীনের পরিচালনায় মহাসমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, নায়েবে আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, মাওলানা আবদুল আউয়াল ও মাওলানা আবদুল হক আজাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা নূরুল হুদা ফয়েজী, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড. মাওলানা ঈসা শাহেদী, ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা লোকমান হোসাইন, ইশা ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম আল আমিন প্রমুখ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২৭ মে ২০১৬

Related posts