September 20, 2018

ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ খালেদার, এএনআই’র বিশ্লেষণ

ঢাকাঃ  ইসরায়েলের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গোপন যোগাযোগ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এর এক বিশ্লেষণে। খালেদার ছেলে তারেক রহমান ও দলের যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী মতো কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সহকারির মাধ্যমে এ যোগাযোগ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

আসলাম চৌধুরী ও ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির সাক্ষাতের বিষয়টি বাংলাদেশে ব্যাপক বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। আসলামকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খুবই ঘনিষ্ঠ বলা হয়ে থাকে। ধারণা করা হয়, আসলাম তারেক রহমানের সবুজ সংকেত ছাড়া সাফাদির সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন না।

১৫ মে গ্রেফতারের সময় আসলাম অকপটে স্বীকার করেছেন, ভারত-ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়ে আগ্রায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারের ফাঁকে সাফাদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। তবে তিনি বলেছেন, মার্চ মাসের ওই সাক্ষাৎ ছিল তার ব্যক্তিগত। তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের বলেন, এই সেমিনারের আয়োজক ছিল ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন।

তবে, বাংলাদেশ পুলিশ তার বিরুদ্ধে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে।

আসলাম চট্রগ্রামভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী। তিনি ‘রাইজিং গ্রুপে’র মালিক। জাহাজভাঙ্গা শিল্প, রিয়েল স্টেট, পরিবহন ও গ্যাস ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করে তার প্রতিষ্ঠান। আসলাম ১৯৯১ সালে ‘জিয়া পরিষদে’ যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ‘জিয়া পরিষদ’ বিরোধী দল বিএনপির একটি অঙ্গ সংগঠন। বিএনপির সঙ্গে বরাবরই তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, বিশেষ করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সঙ্গে।

আওয়ামী লীগ বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ডের জন্য আসলাম তারেক রহমানের কাছ থেকে বহুবার প্রশংসিত হয়েছেন। সহিসংতা ও অগ্নি সংযোগের অভিযোগে ব্যক্তিগত ১৭টি মামলা হয়েছে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে। সরকার বিরোধী এসব কর্মকান্ডের জন্য কাঙ্খিত ও লোভনীয় যুগ্ম মহাসচিব পদটি লাভ করেন তিনি।

বিএনপির কর্ম পরিচালনার পদ্ধতি অনুযায়ী, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান প্রশ্নহীনভাবে দল পরিচালনা করেন। তাই এটা অসম্ভব যে, আসলাম তারেকের অনুমতি ও নির্দেশনা ছাড়া ইসরায়েলি নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়েছেন।

আসলাম চৌধুরীর দাবি, ব্যক্তিগতভাবে আগ্রা সফর করেছেন এবং সাফাদির পরিচয় সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। অর্থাৎ সাফাদি ইসরায়েলের ডেপুটি মন্ত্রী আইয়ুব কারারের সাবেক উপদেষ্টা ছিলেন তা তিনি জানতেন না বলে দাবি করেন। একথা বিশ্বাস করা কঠিন। কেননা সাফাদি ২৫ বছর ধরে একজন সিনিয়র বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে খ্যাত।

তারেক রহমানের অন্য একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বলেছেন আসলাম চৌধুরী বোকার মতো কাজ করেছে। সে তারেক রহমানকে অভিযুক্ত হ্ওয়া থেকে বাঁচাতে পারেনি।

একটি মহল মনে করে, তারেক রহমান ও তার অনুগতরা ক্ষমতায় আসার জন্য বিদেশে যে ব্যাপক লবিং করছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগও তারেক রহমানের সেই চিন্তারই অংশ।

রাজনৈতিক উদ্বেগের বিষয় হলো, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ভালোচোখে দেখা হয়না। বাংলাদেশ সব সময়ই ফিলিস্তিনকে সমর্থন করেছে, বিরোধীতা করেছে ইসরায়েলের।

সূত্রঃ  এএনআই।

Related posts