December 14, 2018

ইসরায়েলি নয়া কৌশল লক্ষ্য গাজাকে কষ্ট দেয়া

গাজাতে অবস্থানরত ফিলিস্তিনিদের জীবন বিব্রত এবং বেদনাদায়ক করার জন্য ইসরায়েল অনেক ধরনের কৌশলই ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু এই কৌশলগুলো যতটা না প্রত্যক্ষ তারচেয়ে বেশি পরোক্ষ। গাজাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কিংবা কোনো ফিলিস্তিনিকে ইচ্ছাকৃত শারীরিক নির্যাতন কিংবা হত্যা করার ঘটনা মানুষ সহজেই জানতে পারে এবং বুঝতে পারে।

কারণ ইসরায়েল তখন সহজেই দোষ চাপাতে পারে হামাসের উপরে। ফিলিস্তিনিদের উপরে যে কোনো হামলার পর ইসরায়েল অকপটে বলে, তারা হামলা করতে চায়নি কিন্তু হামাস তাদের বাধ্য করেছে। এগুলো ছাড়াও কিন্তু ইসরায়েলের আরও অনেক কৌশল রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটু একটু করে গাজাতে অবৈধভাবে বসতবাড়ি গেড়ে বসা তার মধ্যে একটা। এখন শোনা যাচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে ফিলিস্তিনিদের শীতের কষ্ট বাড়িয়ে দেয়াও তাদের আরেকটা কৌশল।

ফিলিস্তিনিরা বলেছে, শীতকালে গাজাতে ইসরায়েল ব্যাপক আকারে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। কেন? কারণ, যাতে করে বেশিরভাগ পরিবার জ্বালানি না পায়, তীব্র শীতে কষ্ট পায় এবং সার্বিকভাবে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করে।

গাজার বামপন্থী পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্যা লিবেরাশান অব প্যালেস্টাইন দলের একজন সদস্য থোলফিকার সুয়েরজো সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরাকে বলেছেন, গাজাতে স্বাভাবিকভাবে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হত সেটা গত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, ‘এই ঘাটতিতে বেশিরভাগ মানুষ দুর্দশা ভোগ করছে। কারণ পেট্রোলের অতিরিক্ত দামের কারণে বেশিরভাগ গাড়িকেও রুপান্তরিত করা হয়েছে সিএনজিতে।’

ইসরায়েল কেন এটা করছে তার জবাবে সুয়েরজো বলেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকরে এই গ্যাস স্বল্পতা তৈরি করেছে যাতে গাজার মানুষকে একটা মানসিক চাপ দিয়ে তাদের প্রতিনিধি দল হামাসের বিরুদ্ধে চটিয়ে দেয়া যায়।

সুয়েরজো’র এই বক্তব্যের এক সপ্তাহ আগে গাজার তেল ও গ্যাস পাম্প সমিতির একজন মুখপাত্র মুহাম্মাদ আল-আবাদালেহ আন্তর্জাতিক মধ্যপ্রাচ্য সংবাদ কেন্দ্রকে বলেছিলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় চার সপ্তাহ পার হয়ে গেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজাতে রান্না করার গ্যাস সরবরাহ বড় আকারে কমিয়ে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেছিলেন, ফিলিস্তিনি এলাকায় যে পরিমাণ গ্যাস ঢুকতে দেয়া হচ্ছে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ১৫ শতাংশ।

এই জাতীয় কাজ করার পর ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করে। তাদের ভাবটা এই রকম যেন কিছুই হয় নি। এর প্রমাণ পাওয়া যায় আল জাজিরা থেকে যখন ইসরায়েলি প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি কোনও সাড়া শব্দ করেননি।

গাজায় অবস্থিত ইউরো-ভূমধ্যসাগরীয় মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক রামি আব্দু আল জাজিরাকে বলেছেন, গাজার ২০ শতাংশ ঘরবাড়িতে বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ একেবারেই বন্ধ। শুধু তাই না, স্কুল এবং হাসপাতালও এর মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সাধারণত গ্যাস বরাদ্ধের জন্য আমাদের দুয়েকদিন সময় লাগতো। কিন্তু এখন অনেকেরই সেই কাজে সময় লাগছে এক সপ্তাহেরও বেশি। এই শীতে আমরা দেখতে পাচ্ছি একটা স্থায়ী গ্যাস স্বল্পতা। এই কারণে বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্টও বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। তাছাড়া গাজাতে বৈদ্যুতিক ঘাটতির কারণে গ্যাসই দাঁড়িয়েছিল মানুষের ভরসা। এখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। আগে যেখানে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকতো এখন সেখানে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা থাকে।’

সবশেষে তিনি দুঃখের সাথে বলেন, ‘গাজার কৃষি কাজ এখন অনেকাংশেই গ্যাস নির্ভর, বিশেষ করে গ্যাস চালিত গ্রিন হাউসগুলো। ইসরায়েল সীমান্তবর্তী এলাকার একটা বড় অংশের ফসল ক্ষেতে বিষাক্ত ওষুধ ছিটিয়ে প্রচুর ফসল নষ্ট করে দেয়ার পর থেকে এই সিমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। গত ১০ বছর যাবত ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের অপমান এবং দমন করার জন্য যে চতুর কৌশল অবলম্বন করে আসছে তাতে গাজাবাসীর জীবন হয়েছে দুর্বিষহ।’

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts