November 19, 2018

ইসরাইলের সমরসজ্জা ও মোশাদ

সৈয়দ রশিদ আলম

ষাট দশকে ইসরাইলের সেনা গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আরব দেশগুলোর কাছে যেন কখনো পরাজিত হতে না হয় সে কারণে তখন থেকে তাদের গোয়েন্দা সংস্থা মোশাদ ও জিওনিস্টকে শক্তিশালী করতে থাকেন। সেই সঙ্গে নিজেদের সামরিক শক্তিকে প্রতিবেশী আরব দেশের চেয়ে উচ্চতায় রাখার জন্য ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিতে থাকেন। প্রথম দিকে তারা দেশ দুটি থেকে সমরাস্ত্র সংগ্রহ করলেও পরবর্তীকালে ইউরোপের একাধিক দেশ থেকে সমরাস্ত্র সংগ্রহ শুরু করেন।

কি ধরনের সমরাস্ত্র দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোকে কাবু করা যাবে সেই চেষ্টা প্রথম থেকে মোশাদ করতে থাকে। আরব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার সুন্দরী নারী দ্বারা কাবু হতে থাকেন। আর ইসরাইল এই নারীদের দ্বারা আরব দেশের দুর্বলতা জানতে আর নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে থাকে। আজকে আরব বিশ্বের অনৈক্য, নৈতিক অধঃপতন সেই প্রথম থেকে শুরু হয়। একাধিক আরব দেশের বিশাল সামরিক বাহিনী ও সমরসজ্জা থাকা সত্ত্বেও কোনো অবস্থাতেই তারা ইসরাইলের সামনে দাঁড়াতে পারেন না। এর একটি মাত্র কারণ তাদের নিজেদের মধ্যে কোনো ঐক্য নেই। যে কাজটা ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোশাদ অনেক আগেই করে রেখেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে তার দেশের প্রতি নাগরিককে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সেই সঙ্গে তার সেনাবাহিনীতে রয়েছে বর্তমানে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার নিয়মিত সেনা, এক হাজার ট্যাঙ্ক। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এম-১ আরবাম। এই ট্যাঙ্ক একই সঙ্গে ছোট আকারে রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র বহন করে। শত্রুপক্ষের বিমান হামলার পূর্বেই এই ট্যাঙ্ক তার রাডারের সাহায্যে সতর্ক হয়ে যায়। পুরনো আকারের প্রায় দুই হাজার ট্যাঙ্ক রয়েছে।

এছাড়া সেনাবাহিনীতে আরমার্ড পার্সোনাল ক্যারিয়ারের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। আর্টিলারির সংখ্যা প্রায় এক হাজার। ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য জেরিকো সিরিজের মিসাইলের সংখ্যা ছয় শ। এর মধ্যে জেরিকো-১ ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণ মারণাস্ত্র বহন করে। আর জেরিকো-২, ৩ ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম। ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে দুই শ পঞ্চাশটি ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী হেলিকপ্টর রয়েছে। এর মধ্যে অ্যাপাচি ও কোবরা অন্যতম। প্রতিটি অ্যাপাচি ও কোবরা হেলিকপ্টার তার ডানায় আটটি করে হেল ফায়ার ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী মিসাইল বহন করে। শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্ক ধ্বংস করতে এই দুটি জঙ্গি হেলিকপ্টারের কোনো তুলনা নেই।

ইসরাইলি বিমান বাহিনীতে রয়েছে প্রায় এক হাজার বিভিন্ন শ্রেণির জঙ্গি বিমান। এর মধ্যে এফ-১৪ টমক্যাট, এফ-১৫ ঈগল, এফ-১৬ ফ্যালকন, মিরেজ-২০০০, কে ফায়ার। এর মধ্যে কে ফায়ার ইসরাইল নিজেই তৈরি করে থাকে। একাধিক দেশে কে ফায়ার জঙ্গি বিমান ইসরাইল রপ্তানি করছে। এছাড়া ইসরাইলি বিমান বাহিনীতে দু ধরনের চালকবিহীন গোয়েন্দা বিমান রয়েছে। এই দুটি হচ্ছে হেরোন ও হারমেস। এই দুটি চালকবিহীন গোয়েন্দা বিমানগুলো তার ডানায় ক্ষেপণাস্ত্র বহন করে থাকে। যে দুর্গম অঞ্চলে জঙ্গি বিমান ও জঙ্গি হেলিকপ্টার পাঠানো সম্ভব নয়, সেখানে অস্ত্র সজ্জিত চালকবিহীন গোয়েন্দা বিমান পাঠানো হয়। ইসরাইলি বিমান বাহিনীতে প্রচুর জ্বালানি বহনকারী বিমান, পরিবহন বিমান, পরিবহন হেলিকপ্টার রয়েছে। ইসরাইলি নৌবাহিনীতে জার্মানির তৈরি পরমাণু শক্তিশালীতে দুটি সাবমেরিন রয়েছে।

এছাড়া ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি সর্বাধুনিক ৮টি সাবমেরিন রয়েছে। নৌবাহিনীতে আরো রয়েছে ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার, হাইপ্রিড গানবোট, পেট্রল বোট, মিসাইল বোট, টর্পেডো বোট। সেই সঙ্গে নৌবাহিনীতে রয়েছে পঞ্চাশটি নৌ জঙ্গি বিমান। এই জঙ্গি বিমানগুলো শত্রুপক্ষের যুদ্ধ জাহাজ ধ্বংস করার কাজে ব্যবহার করা হয়। ইসরাইলি নৌবাহিনীতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৮ হর্নেট জঙ্গি বিমান ব্যবহার হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার হিসেবে চিহ্নিত ইসরাইলের সমরাস্ত্র কখনো প্রতিবেশী দেশকে স্বস্তিতে থাকতে দেয় না। নিজের নিরাপত্তার জন্য নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোকে আতঙ্কের মধ্যে রাখার জন্য ইসরাইল তার সমরাস্ত্র সংগ্রহ করছে। নিজের তৈরি অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। এছাড়া ইসরাইল অতি গোপনে একটি শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র সম্ভার গড়ে তুলেছে।

অনুমান করা হয়, ইসরাইলের সেনাবাহিনীর কাছে একশ পঞ্চাশটির মতো পারমাণবিক বোমা রয়েছে। যে কারণে আরব দেশগুলো আতঙ্কের মধ্যে আছে। ভারত, পাকিস্তান, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি থাকলেও ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বক্তব্য নেই। এই পরমাণু অস্ত্রের মূল ছকটা তৈরি করেছিল বিশ্ববাসীর কাছে আতঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোশাদ।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts