November 21, 2018

ইসরাইলী মোশাদের সরকার উত্খাতের বৈঠক নিয়ে তোলপাড়

ঢাকাঃ  ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে উত্খাতের পরিকল্পনা বিষয়ক মোসাদ’র বৈঠক নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইত্তেফাকে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর তা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতেও এই নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মোসাদ’র বৈঠক সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রথম প্রকাশিত হয় জেরুজালেম অনলাইন ডটকম নামে একটি ওয়েবসাইটে। এছাড়া মেন্দি সাফাদির ফেসবুকেও বৈঠকের পরের একটি গ্রুপছবি আপলোড করা হয়। ১০-১৪ মার্চে কয়েক দফা বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের হিন্দু সমপ্রদায়ের সরকার বিরোধী কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। হিন্দু সমপ্রদায়ের এক সাংবাদিকও ছিলেন। তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া তার সঙ্গে উগ্রপন্থিদের যোগাযোগ রয়েছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত তাণ্ডব চালায়। সেই সময়ের জ্বালাও পোড়াও-এর ঘটনা, হিন্দু সমপ্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা এবং ২০০১ সালের ডকুমেন্টারি নিয়ে ওই সাংবাদিক অর্ধশতাধিক বার ভারত গমন করেছেন। সেখানে সরকার বিরোধী বিভিন্ন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখান থেকে তিনি লন্ডনেও গমন করেছেন। এই প্রমাণ গোয়েন্দাদের কাছে রয়েছে। মেন্দি সাফাদিও এই বৈঠকের জন্য একাধিকবার ভারত সফর করেছেন। তিনি ইসরাইলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি সাফাদি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোম্যাসি অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে এই সফর করেন।

ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপন করে তিনি ইসরাইলে ফিরে যান। বৈঠকে তার সঙ্গে মোসাদ’র বাংলাদেশের প্রতিনিধি শিপান কুমার বসু, রওশন জাহিদ প্রিন্স এবং কলকাতার বিবেক দেব উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং এরপর ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে বলে তারা একমত হন। বৈঠকে বিএনপি ও খেলাফত আন্দোলনের নেতা বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারকে মেন্দি সাফাদির কাছে ইসলামপন্থি সরকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা জানান, এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর হিন্দু এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

বিএনপি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই ইস্যুটিতে সাফাদির সহযোগিতা চেয়েছে। সাফাদিও সেই অনুযায়ী কাজ করেছেন এবং ভারত সফরও এর অংশ বলে জানা যায়।

পুরো বিষয়টি বাংলাদেশের প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থা নজরে রেখেছে। মোসাদের এজেন্ট সিপান কুমার বসুর বাড়ি খুলনায়। তার শ্বশুরবাড়ি গোপালগঞ্জে। অন্য মোসাদ এজেন্ট বিবেক দেব কলকাতার বাসিন্দা। ভারতে বৈঠক শেষে দেশে ফেরার পর থেকেই তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন।

গোয়েন্দা সংস্থার সংগ্রহ করা বৈঠকের ছবিতে মোসাদ এজেন্টদের সঙ্গে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীও রয়েছেন। কলকাতা ও দিল্লিতে যে বৈঠক দু’টি অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে বাংলাদেশের ওই সাংবাদিক কিছু ডকুমেন্টারি দেখিয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র দেখানো হয়েছে। ওই ডকুমেন্টারিগুলো ২০০১ সালের নির্বাচনের পর তৈরি বলে জানা গেছে।

লন্ডনে বৈঠক চলাকালে বাংলাদেশে একজন বিএনপি নেতার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলার তথ্য এখন গোয়েন্দাদের হাতে। আর সরকার উত্খাতের এই ষড়যন্ত্রে অর্থায়ন করার আশ্বাসও দিয়েছেন মোসাদের ওই প্রভাবশালী নেতা। এদিকে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ইসরাইলকে এদেশে দূতাবাস স্থাপনসহ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বৈঠকে মেন্দি সাফাদিকে নিশ্চয়তা দেয়া হয়।

উৎসঃ   ইত্তেফাক

Related posts