September 20, 2018

ইবির ক্যাডেটকে মাটিতে শোয়ালো ছাত্রলীগ

ইবির ক্যাডেটকে পিটিয়ে মাটিতে শোয়ালো ‘ছাত্রলীগ’

বিশৃঙ্খলায় বাধা দেয়ায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক সদস্যকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পিটিয়ে মাটিতে শুইয়ে দিয়েছে । মারপিটের সময় ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার দিতে দিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ওই ক্যাডেট।

পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ইবি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে ইবির অনুষদ ভবনের করিডোরে এ ঘটনা ঘটে। আহত ক্যাডেটের নাম রাশেদুল ইসলাম। তিনি ইবির আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র।

ইবির ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে বিএনসিসির নৌ শাখার সদস্য হিসেবে রাশেদুল শৃঙ্খলা বিভাগের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার ঘটনায় বাধা দেয়ার জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে।

শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষার শেষ দিনে বিএনসিসি সদস্য হিসেবে ইবির মেইন গেটে দায়িত্ব পালন করছিলেন রাশেদুল ইসলাম। পরীক্ষার্থী ছাড়া অন্য কাউকে গেট দিয়ে প্রবেশ না করার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। এ সময় গেট দিয়ে ঢুকতে চেষ্টা করেন ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছাত্রলীগ কর্মী তৌহিদুর রহমান তুষার। রাশেদুল তার পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে পুলিশ ঘটনা মীমাংসা করে দেয়।

এদিকে, ১৮ নভেম্বরের ঘটনার জের ধরে রোববার দুপুরে ছাত্রলীগকর্মী ও আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের মাহমুদ জুবায়ের, আইন বিভাগের রিয়ন মিয়া, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সোহাগ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিক বিভাগের সাজ্জাদ হোসেন বিপুল অনুষদ ভবনের করিডোরে অবস্থান করাকালীন রাশিদুল ইসলামকে একা পেয়ে হামলা চালায়। তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। এসময় রাশেদ বাচাঁও বাচাঁও বলে চিৎকার করতে থাকে। তার চিৎকারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক পারভেজ হাসান তার অবস্থার অবনতি দেখে হাসপাতালে পাঠাতে বলে। পরে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে রাশেদের বন্ধু জানায়, ‘রাশেদের অবস্থা খুবই খারাপ। চিকিৎসক বলেছে সিটি স্ক্যান না করা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।’

বিএনসিসির নৌ প্লাটুনের দায়িত্বে থাকা বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইয়াসমিন আরা সাথী বলেন,‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। তাদের নিষেধ করলেও তারা আমার কথা রাখেনি। এঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে ইবি ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যারা হামলা করেছে ছাত্রলীগের সাথে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তাতে ছাত্রলীগ সহযোগিতা করবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts