November 18, 2018

‘ইনুর আহ্বানে নতুনত্ব কিছুই নেই’

ষ্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রতীক ‘মশাল’ এর বৈআইনি ব্যবহার রোধে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে প্রতীকটির সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ইনুর এই আহ্বানের প্রেক্ষিতে পাল্টা মন্তব্য করে অপর পক্ষের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেছেন, তার (ইনু) এই আহ্বানে নতুনত্ব কিছু নেই।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১০ এপ্রিল) হাসানুল হক ইনু স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, আমরা দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি, মইন উদ্দিন খান বাদল-শরীফ নুরুল আম্বিয়া-নাজমুল হক প্রধান একই নামে আলাদা দল গঠনের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এ অবস্থায় দলের নাম, প্রতীক ও নিবন্ধনের বেআইনি ব্যবহার রোধ করে আইনি সুরক্ষা করতে হবে।

চিঠিতে ইনু দাবি করেন, ২০০৮ সালে দলটির নিবন্ধনের সময় জাসদ সভাপতি ছিলেন হাসানুল ইনু ও সাধারণ সম্পাদক জাফর সাজ্জাদ। তাই জাসদের প্রতীক ও নিবন্ধন নিজের নেতৃত্বাধীন অংশের পক্ষেই থাকা উচিত।

ইনুর এই চিঠি পাঠানো বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অপর পক্ষের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া পূর্বপশ্চিমকে বলেন, ইনুর এই আহ্বানে নতুন কিছুই নেই। আমরাও দলের নাম, প্রতীক ও নিবন্ধনের বেআইনি ব্যবহার রোধ করে ইসিকে আহ্বান জানিয়েছি। দলের বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় নেতা ও চারজনের সংসদ সদস্য আমাদের সঙ্গে আছে। তাই আশা করি প্রতীক মশাল ও নিবন্ধন আমরাই পাবো। ইসি এক্ষেত্রে ন্যায় রায় দিবেন বলে আশা রাখি।

আম্বিয়া আরো বলেন, দুইপক্ষই ইসির কাছে যাওয়ার পরে তিনি আপাতত তো একটা সমাধান দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে। সুতরাং আলাদাভাবে আবার চিঠি দেওয়ার কি আছে?

ইসির রায়ে মশাল প্রতীক ও নিবন্ধন না পেলে মেনে নিবেন না আইনী লড়াইয়ে যাবেন জানতে চাইলে জাসদ একাংশের এই নেতা বলেন, আশা করি ইসি সুবিচার করবেন। তবে রায় নিজেদের পক্ষে না আসলে তখন দলের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগাম কিছু বলতে চাই না। পরিস্থিতিই সব বলে দেবে।

এদিকে মশাল প্রতীক ও নিবন্ধন পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে ইনু অংশের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার পূর্বপশ্চিমকে বলেন, আমরাও ইসির কাছে ন্যায়বিচার আশা করি।

পক্ষে রায় না পেলে মেনে নিবেন কিনা না অন্য কোনো লড়াইয়ে যাবেন জানতে চাইলে শিরিন বলেন, সেটা সময়মতো দল সিদ্ধান্ত নেবে। অগ্রিম কোনো মন্তব্য করতে তিনিও রাজি হননি।

গত ১২ মার্চ জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে আবারো ভাঙন ধরে জাতীয় সমাজতান্ত্রকি দলে (জাসদ) । গঠিত হয় আলাদা কমটি। একাংশের সভাপতি হন হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার। আর অপরপক্ষে শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে সভাপতি ও নাজমুল হক প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক এবং মঈনুদ্দীন খান বাদলকে কার্যকরী সভাপতি করা হয়। র্বতমানে মশাল প্রতীক ও নিবন্ধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনে দৌঁগঝাপ করছেন উভয় পক্ষের নেতারা।

দু’পক্ষই নিজেদের ‘মূল জাসদ’ দাবি করে দলীয় প্রতীক মশালের দাবি নিয়ে ইসির দ্বারস্থ হয় গত ৬ এপ্রিল। এরপর ইসি আলাদাভাবে উভয়পক্ষের শুনানি করে। তবে কার্যকরি কোনো সমাধান না দিয়ে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে ইসি

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/ ১১ এপ্রিল ২০১৬/মাহমুদ

Related posts