November 22, 2018

ইতিহাস বিকৃতির প্রতিবাদে ক্ষুদ্ধ প্রবাসীরা!

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বিশেষ সংবাদদাতাঃ   বাংলাদেশ সোসাইটির স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সভাপতি আজমল হোসেন কনু ও পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহীম হাওলাদার ।বক্তব্য রাখেন ,ফখরুল আলম,এটর্নী মঈন চৌধুরী,আলী ইমাম সিকদার ,ওয়াসি চেীধুরী,ফজলুর রহমান, কামাল আহমেদ, জামাল আহমেদ জনি,জনাব পাটোয়ারী।

শনিবার সোসাইটির অফিসে ছোট্ট পরিসরে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস পালন অনুষ্ঠানে সোসাইটির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার স্বাগত নাতিদীর্ঘ বক্তব্যে ‘একজন মুক্তিযোদ্ধাকে পানি পান করিয়েছেন যিনি’ তাকেও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং চার সেক্টর কমান্ডারকে স্মরণ করলেও মুক্তিযুদ্ধের স্থপতি ও যার নামে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে সেই মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নাম অতিসন্তর্পনে এড়িয়ে গেছেন। এর পর নিউইয়র্কে সর্বমহলে পরিচিত ‘বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার’ প্রতি অহরহ কুটুক্তিকারী এবং মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো কলাম লেখক আলী ইমাম শিকদারকে বক্তব্য রাখতে দিলে তার বক্তবে তিনি ইতিহাস বিকৃতির শুরু করে বর্তমান সরকারের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য রাখা শুরু করেলে উপস্থিত স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ও আওয়ামী নেতা-কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সভাপতি আজমল হোসেন কুনু মাইক কেড়ে নিয়ে সবাইকে শান্ত হতে অনুরোধ জানান। অবস্থা বেগতিক দেখে এবং নিজের ভুল বুঝতে পেরে আলী আলী ইমাম তার বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বাংলাদেশ সোসাইটির কোন অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কথাবার্তা নতুন কিছু না। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময়ে সোসাইটি ভবনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সোসাইটির তৎকালীন ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য ব্রুকলীনের শহিদুল্লাহ আজকের বাংলাদেশের বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেমন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরকে মুরতাদ ষোষণা করেছিলেন। সেদিনও উপস্থিত স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির প্রবাসীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়েছিলেন শহিদুল্লাহ। এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠনের পর সোসাইটির কার্যকরী কমিটি সোসাইটির গঠনতন্ত্র পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলো পালন করার বাধ্যবাধকতায় ‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবস’ পালন করা শুরু করে। কিন্তু পরবর্তীতে বিপুল বিত্তের মালিক মোহাম্মদ আজিজ সভাপতি নির্বাচিত হলে ‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবস’ পালনের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলে সোসাইটির কার্যকরী কমিটির সভায় বলেছিলেন, শেখ হাসিনার বাবার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব) মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হলে আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকীও পালন করতে হবে। তার এ ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলে সভাপতি আজিজ তার অবস্থান পাল্টে ‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবস’ পালন করতে বাধ্য হন।

প্রতিবাদ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ও রুহেল সহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এর আগে বঙ্গবন্ধুর প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন না তাতে জাতির পিতা হিসাবে অ্যাখ্যায়িত না করার অভিযোগ তুলে সাবেক সাধারন সম্পাদক ফখরুল আলম ইতিহাস বিকৃতির চর্চ্চা না করার জন্য সোসাইটির কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু তার অনুরোধের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে আলী ইমাম বক্তব্য রাখতে থাকলেও মঞ্চে উপবিষ্ট সোসাইটির সভাপতি সাধারন  সম্পাদকসহ অনেকেই নির্বিকার ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বাংলাদেশে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সোসাইটির ভেতরে এবং বাহির থেকে এর কমিটিগুলোকে নিয়ন্ত্রণকারী শক্তিগুলোর আচরণ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি বা জামাতের সহযোগী সংগঠনগুলোর চেয়েও বিদ্বেষপূর্ণ মনে হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথম দফায় ক্ষমতায় আসার পর সোসাইটির তৎকালীন কমিটিগুলোর অনেক কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বিভিন্ন প্লাট ফর্মে সরকারের সমালোচনা করলেও সাধারন প্রবাসীরা তা তেমনভাবে নেননি কারন তখন সোসাইটির কার্যকরী কমিটির অনেক সদস্যই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং বিএনপি সমর্থিত বিভিন্ন বামপন্থী দলের সক্রিয় নেতা-কর্মী ছিলেন ।:  আসলে কি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্বকারী জাতীয় ভিত্তিক একটি সংগঠন নিউইয়র্কের ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’ নাকি অর্থের বিনিময় ভোট কিনে পদ জিতে আসা কিছু মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছা এবং তাদের ঔদ্ধত্বের বর্হিপ্রকাশের প্লাট

২য় পবে সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনিকা রায়ের পরিচালনায় সঙ্গীতানুষ্টানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন কনিকা দাস, সুর ছন্দের অধ্যক্ষ্য এমদাদুল হক এমদাদের তত্ত্ববধানে তার প্রতিষ্টানের সঙ্গীত শিক্ষার্থী বৃন্দ।

নৈশ ভোজের মাধ্যমে অনুষ্টানের সমাপ্তি ঘটে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১২ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts