November 20, 2018

ইউএনও‘র ক্ষমতার কাছে আইন অসহায়, পরিবেশ আইন লঙ্গন

আল-মামুন,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ  পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বটতলীতে ব্যবসায়িক সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে বিশাল আকারের পাহাড় কেটেছেন জাকির হোসেন নামের এক লাইসেন্স বিহীন অবৈধ ব্রীকফিল্ড(বিএমবি)এর মালিক। পরিবেশ আইনকে লঙ্গন করে মাটিরাঙ্গার বটতলী এলাকায় প্রায় ১৪-১৫ ফুটের মতো গভীরতায় পাহাড় কাটার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাগুলি প্রদর্শন করে যত্রতত্র পাহাড় কাটা চলে আসলেও অজ্ঞাত কারণে নীরব প্রশাসন।

ফলে আলুটিলা বটতলী পর্যটনের নান্দনিক সৌন্দর্য্য ও আলুটিলা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রকৃতিগত স্বাভাবিক পরিবেশ আর রইলো না। আগামী বর্ষায় দুপাশের মাটি ধসে যে কোন দূর্ঘটনার আশংখা রয়েছে। পাহাড় কাটার সাথে সম্পৃক্ত,লাইসেন্স বিহীন ব্রীকফিল্ড মালিক জাকির হোসেন দৃঢ় কন্ঠে জানান-বর্তমান মাটিরাঙ্গার ইউএনও বিএম মশিউর রহমানের সাথে কথা বলেই তিনি আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের পাহাড়টি কেটেছেন।

তবে ইউএনও‘র নির্দেশে পাহাড় কাটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় কাটার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক কোন লিখিত অনুমতি পত্র (ছাড়পত্র) নেই বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান,শতবর্ষী বটমুলকে ঘিরে গড়ে উঠা পর্যটন কেন্দ্রটি আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে বিশেষ ভুমিকা রাখে। এর সৌন্দর্য্য বিনষ্ট ও বেকার যুব ও যুব-মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী আলুটিলা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মতো সরকারী প্রতিষ্ঠানের বরাদ্ধকৃত ভূমি (পাহাড়) এভাবে প্রভাবশালী ব্রীকফিল্ড মালিকের চক্রান্ত ও দায়িত্বের প্রতি উদাসী প্রশাসনিক কর্মকর্তার সহযোগিতায় ধ্বংস হোক তা আমরা (আলুটিলার সাধারণ মানুষ) চাই না ।

এ বিষয়ে  ১নং ওয়ার্ড আলুটিলার সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম বাবু বলেন,সাধারণ মানুষ মনে করে রাস্তাটির গুরত্ব বিবেচনা করে আলুটিলা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পিছন দিক (পাহাড়ের কোল ঘেঁষে) রাস্তাটি নির্মাণ করা হলে হয়তো পর্যটন এলাকার প্রকৃতিগত নান্দনিক সৌন্দর্য্য রক্ষা ও সরকারী প্রতিষ্ঠানের ভুমি (পাহাড়) হুমকির মুখে পরতো না।

উল্লেখ্য যে,চট্টগ্রাম বিভাগের ৫টি জেলা যথাক্রমে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলাসমূহে অবস্থিত সকল পাহাড় কাটা বন্ধে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ ছাড়া ওই জেলাসমুহে অবস্থিত সকল পাহাড় কর্তন বন্ধে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৯ মার্চ এ নির্দেশ দেন আদালত।

কিছু অসাধু কর্মকর্তা আদালতের একাধিক নির্দেশনা থাকা সত্তেও পাহাড় কাটা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়ায় দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সংল্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবজ্ঞা ও উদাসিনতা প্রকাশ পাচ্ছে। এ ছাড়াও ২০১০ সালে সংশোধিত পরিবেশ আইনের ৪নং অনুচ্ছেদ এর ১নং আইনে সংশোধিত ৬খ-তে বলা আছে,কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারী,আধা সরকারী বা স্বায়িত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড় কর্তন বা মোচন করা যাইবেনা।

তবে শর্ত থাকে যে,অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহন ক্রমে কোন পাহাড় কর্তন করা যাবে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মাটিরাঙ্গার ইউএনও কোন রকম আইনকে তোয়াক্কা না করে পাহাড় কাটার সাথে জড়িয়ে পড়ছেন একের পর এক। তার নিজের ক্ষমতার কাছে পরিবেশ আইন আজ অসহায় ।

খাগড়াছড়ি জেলা পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্যদের সাথে সহমত পোষণ করে সচেতন মহলের অনেকে মনে করেন,একজন ইউএনও কোন ভাবেই পাহাড় কাটার অনুমতি দিতে পারেনা। পরিবেশ আইনের প্রতি তার উদাসী মনোভাব সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকে ধারনা করছেন বড় ধরনের কোন বিনিময়ে হয়তো পাহাড় কাটার অনুমতি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গার ইউএনও বিএম মশিউর রহমান পর্যটনের পাহাড়টি কাটার অনুমতি দিয়েছেন স্বীকার করে এই প্রতিবেদকের উদ্দেশ্যে বলেন,আপনি নিজেও বাড়ী তৈরিতে পাহাড় কেটেছেন দেখেন গিয়ে বাড়িতে? বটগাছের সুন্দর্য রক্ষা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থে তিনি পাহাড় কাটার মোখিক অনুমতি দিয়েছেন দাবী করে ঐ পাশের পাড়ায় যাতায়েতের সুবিধা হবে বলেও জানান। কাউকে সুবিধা দেওয়ার জন্য পাহাড়টি কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সরকারী অফিসের বরাদ্ধকৃত ভুমি (পাহাড়) এভাবে  কেটে ধবংস করার বিষয়ে কোন মন্তব্য না করে তিনি বলেন মাটিরাঙ্গা-গুইমারা রাস্তা নির্মানের সময় বড় বড় বহু পাহাড় কাটা হয়েছে তখন কেউ সংবাদ লিখেনি।এখন অন্যায়  হলে সংবাদ লিখে দেন।

Related posts