September 19, 2018

আ.লীগ নেতার রোষানলে পড়ে বসতবাড়ী হারাতে বসেছেন জলদাশ

অজিত কুমার দাশ হিমু,
কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ এনে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন একই উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সুদর্শন জলদাশ। তিনি দাবী করেন ৩০ বছর আওয়ামীলীগ করেও সংখ্যালঘূ হওয়ায় ভিটেবাড়ি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে তারই আরেক সতীর্থ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম। এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে সুদর্শন জলদাশ শনিবার শনিবার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সুদর্শন জলদাশ বলেন, দীর্ঘ কয়েকযুগ ধরে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখে তিনি প্রায় ৩৫ বছর যাবৎ কক্সবাজার সদর উপজেলাধীন জালালাবাদ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একাই আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত নন, তার ছেলে সুব্রত জলদাশও বাবার দলের অনুসারী এবং জালালাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

এতোকিছুর পরও সুর্দশন জলদাশ নিজের পরিবার নিয়ে শান্তিতে বাস করতে পারছেন না! এই আওয়ামীলীগেরই একজন নেতার কারণে তিনি নিজের ও পরিবারেরর শতবছরের পুরনো ভিটে মাটি হারাতে বসেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুদর্শন জলদাশের পুত্র সুব্রত জলদাশ বলেন, জালালাবাদ ইউনিয়নের পাশের ইউনিয়ন ইসলামাবাদ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম ও তার চাচা ভূমিদস্যূ সৈয়দ নূরের রোষানলে পড়েছে তার পরিবার ও বসত ভিটি।

সুব্রত জলদাশের মতে, আওয়ামীলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম ও তার চাচা সৈয়দ নূর এবং তাদের অস্ত্রধারি বাহিনীর লোকজন বসত ভিটি কেড়ে নিতে একের পর এক হামলা, ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্যাতন ও পরিবারের মহিলা সদস্যদের শ্লীলতাহানি এবং শারিরীকভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন করে চালাছে। এমনকি মারধর করে তাদের বাড়ী থেকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শতবছরের বেশি সময় ধরে তারা পূর্বপুরুষানুক্রমে পরিবার পরিজন নিয়ে জালালাবাদ ইউনিয়নের ঈদগাঁও ছড়ার তীরে সরকারী খাস জমিতে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে জমির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পাশের ইউনিয়ন ইসলামাবাদের আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম ও তার চাচা সৈয়দ নূরের লোলুপদৃষ্টি পড়ে তাদের ভিটেবাড়ীর উপর। ফলে তাদের আক্রোশ চরিত্রার্থ করার জন্য আমাদের উপর শসস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। আমরা প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের হস্তাক্ষেপ কামনা করছি।

সুদর্শন জলদাশ জানান, নিজে আওয়ামীলীগ করলেও সংখ্যালঘু হওয়ায় একখন তিনি কারো সহযোগীতা পাচ্ছেন না। আওয়ামীলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম প্রভাবশালী হওয়ায় আওয়ামীলীগ ও হিন্দু সম্প্রদায়েরও কারো প্রকাশ্য সহায়তা থেকে বি ত হচ্ছেন তিনি।

তার মতে তিনি ও তার ছেলে ঘরের বাইরে থাকার সুযোগে গত ৫ আগষ্ট শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারি সন্ত্রাসী তার বাড়ীতে হামলা চালিয়েছে। ওই সময় হামলাকারীরা তার স্ত্রীকে চুলের মুটি ধরে টেনেহিঁচড়ে ঘরের বাইরে এনে নির্যাতন করে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামের শত শত লোক এই ঘটনা দেখলেও কেউ তাদের বাঁচাতের এগিয়ে আসেনি। তারা হামলাকারীদের ভয়ে কোথাও স্বাক্ষী দিতেও রাজি নয়। এই গ্রামে শতাধিক হিন্দু পরিবার থাকলেও ভয়ে তারাও কিছু করতে পারছেন না। আওয়ামীলীগ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের জেলা নেতারাও কিছু করছেন না। আমরা অসহায়ের মত মার খাচ্ছি।

জালালাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ১নং ওয়ার্ড সভাপতি সুদর্শন জলদাশ শনিবার (৬আগষ্ট) বিকালে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতির বিবেকখ্যত সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই নিজেদের দুঃখ দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।

সুদর্শন জলদাশ জানান, ২০১৬ সালের ৭জানুয়ারী গভীর রাত প্রায় ৩টার দিকে সাইফুল ও তার বাহিনী তার বসতবাড়ীতে সশস্ত্র হামলা চালান। ওই সময় তাদের ধারালো অত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করে নিজেদের ঘর থেকে বের করে দেয় হামলাকারীরা।

ওই ঘটনার পর সুদর্শন জলদাশ বাদী হয়ে সাইফুল ইসলাম ও সৈয়দ নূরসহ ৯জনকে আসামী করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্টে আদালতে ফৌজদারী দরখাস্ত দায়ের করলে আদালত ওই এজাহারটি মামলা হিসেবে নেয়ার জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) কে নির্দেশ দেন। পরে মামলাটি কক্সবাজার সদর থানায় রেকর্ড হয়। ওই মামলার এখনও কোন নিস্পত্তি হয়নি। আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সুদর্শন জলদাশ ও তার ছেলে সুব্রত জলদাশ সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেন, ওই মামলা বিচারধীন থাকার পরও শুক্রবার ৫ আগষ্ট একই হামলাকারীরা সকাল ৯টার দিকে আবারও তাদের বাড়ীতে সশস্ত্র হামলা করেন। সন্ত্রাসীরা ঘরের জিনিষপত্র ভাংচুর করেন এবং মহিলাদের শ্লিলতাহানি করেন।

তাদের মতে, হামলাকারীরা অকথ্যভাষায় সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ করে ভারতে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। বসতবাড়ী জায়গা ছেরে না দিলে তাদেরকে জঙ্গী ষ্ট্যাইলে জবাই করবে বলেও হুমকি দিয়ে যায়।

সুদর্শন জলদাশ এখন আইন শৃংখলা বাহিনী, আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সহ সকল সামাজিক নেতৃবৃন্দের সহযোগীতা চেয়েছেন। বর্তমানে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছেন বলেও দাবী করেন সুদর্শন জলদাশ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts