November 13, 2018

আ.লীগ নেতারা পদোন্নতির চিন্তায়

ঢাকাঃ  আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইন, আউট ও পদোন্নতি নিয়ে চিন্তিত নেতারা। সম্মেলনে ১৪-১৫ জন পদধারী নেতা কমিটি থেকে ছিটকে যাবেন। আবার ৪-৫ জন পদোন্নতি পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কয়েকজন প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা এবং কয়েক অঞ্চল থেকে কয়েকজন নেতার কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১০, ১১ জুলাই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতারা জানান, সম্মেলনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নেতাদের মধ্যে টেনশন বাড়ছে। এর মধ্যে গত রোববার ঘোষিত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুটি কমিটি দেখে কারো কারো চিন্তা বেড়েছে। শেখ হাসিনা দল ও দলের বাইরে অনেকের সমালোচনা উপেক্ষা করে ২০১৯ সালের নির্বাচন এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনকে বিবেচনায় রেখে নতুন নেতাদের কমিটিতে এনে চমক দেখিয়েছেন।

ঢাকা মহানগরের নতুন কমিটি ঘোষণাকালে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা অত্যন্ত শক্তিশালী হবে। আন্দোলন ও আগামী নির্বাচনে এই কমিটি দৃঢ় ভূমিকা রাখবে।

দলীয় সূত্র জানান, টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের যে সকল নেতা সংগঠন ও কর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন, সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর এমন কয়েকজন নেতাকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি দলটির ‘থিঙ্কট্যাঙ্ক’ হিসেবে পরিচিত উপদেষ্টা পরিষদ থেকেও বিদায় হচ্ছেন বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এ সকল নেতার কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট বলে জানা গেছে। দলীয় সভানেত্রী বিগত সময়ে এসব নেতার কর্মকাণ্ড ও নিষ্ক্রীয়তা বিষয়ে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে ওয়াকিবহাল রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এসব নেতাদের আমলনামাও তিনি সংগ্রহে রেখেছেন। সম্পাদকমণ্ডলীতে থাকা মধ্যম সারির নেতাদের কেউ কেউ পদোন্নতির স্বপ্ন দেখলেও অনেকে নতুন কমিটি থেকে বাদ পড়তে পারেন।

সূত্র আরও জানান, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার- ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন। এটি বাস্তবায়নে আগামী সম্মেলনে দলকে ঢেলে সাজাবেন- এমন ধারণা করছেন নীতি নির্ধারকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, নতুন কমিটিতে পরিবর্তন আসবে। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক দল, গণতান্ত্রিক চর্চা বঙ্গবন্ধুর আমল থেকে হয়ে আসছে। তবে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষমতা অতীতে কাউন্সিলররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলের সভানেত্রীর ওপর অর্পন করেছেন। এবারও সেটাই হতে পারে। নেত্রীর কাছে সব নেতার এসিআর (বার্ষিক গোপন প্রতিবেদন) রয়েছে। তিনি রাজধানী থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সব নেতার নাম জানেন। তাই বরাবরের মতোই এবারও নেতা নির্বাচনে তিনিই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

সূত্রটি আরও বলেন, নতুন কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্য থেকে ৩-৪ জনের পদ হারানোর শংকা রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এখনো পর্যন্ত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বিকল্প ভাবছে না দলীয় নীতি-নির্ধারকরা। অনেকে মনে মনে সাধারণ সম্পাদক পদের প্রত্যাশী হলেও মুখ খুলছেন না।

বর্তমান কমিটির তিনজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে একজনের পদোন্নতি হচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। অপর দুইজন একই পদে থাকছেন বলে নিশ্চিত করেছে সূত্রটি।

সূত্রটি আরও জানান, দলের সাত সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে ২-৩ জন ছাড়া বাকিদের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট নন দলের হাইকমান্ড। জেলা ও থানা কমিটি থেকে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে হাইব্রিডদের ঠাঁই দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। প্রভাবিত হয়ে কমিটি গঠন ও পৌর মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে সমালোচনা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাই সাতজনের মধ্যে কয়েক জন বাদ পড়তে পারেন। তবে একজন পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও হতে পারেন বলেও জানান সূত্রটি।

কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সম্পাদকমণ্ডলীতে থাকা বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে গণবিচ্ছিন্নতার অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে ১০-১৩ জনকে এবার বিদায় দেওয়ার আশংকা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দফতর সম্পাদক আবদুল মান্নান খান, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল, বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সাত্তার, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়াসহ কয়েকজন পদ হারাতে পারেন।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকেও কয়েকজন বাদ পড়ছেন। তবে ২-৩ জন নেতার পদোন্নতি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন সূত্রটি। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৪ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts