September 25, 2018

আ.লীগ কর্মীর হাত-পা ভাঙলো পুলিশ!

স্টাফ রিপোর্টারঃ   পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ময়মনসিংহের নান্দাইল আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী রফিক উদ্দিন ভূঁইয়ার কর্মী মো. শহীদ মিয়াকে পুলিশ নির্যাতন করে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার বিকালে পৌরসভার চণ্ডীপাশা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌর নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নাসিরউদ্দিন আহমদের প্রচারণায় হামলা চালিয়ে ৩টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের কর্মী সমাবেশে হামলা ও ভাংচর হয়। ইট-পাটকেলের আঘাতে তিনিসহ ৪ জন আহত হন। সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:নান্দাইল (ময়মনসিংহ) : উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসীম উদ্দিন পৌরসভার চণ্ডীপাশা মোড় এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। সেখানে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চণ্ডীপাশা চৌরাস্তা এলাকার মোজাম্মেল হক (২৫) ও সাইদুল (২০) এবং দক্ষিণ চণ্ডীপাশা গ্রামের শহীদ মিয়াকে (২০) আটক করা হয়।

তারা আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী রফিক উদ্দিন ভূঁইয়ার কর্মী হিসেবে সেখানে প্রচারণার কাজ করছিলেন। এসময় পুলিশের সঙ্গে শহীদ মিয়ার খারাপ আচরণের অভিযোগে তাকে বেধড়ক মারধর করে পুলিশ। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার দলীয় লোকজন হাসপাতালে গেলে পুলিশ আহত শহীদকে রেখে সরে যায়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক তামান্না জানান, রোগী হাত ও পায়ে ব্যাপক আঘাত পেয়েছেন। উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এরপর হাসপাতাল গেটে নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসীম উদ্দিন গেলে সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। পরে তড়িঘড়ি করে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক মোজাম্মেল হক (২৫), সাইদুলকে (২০) দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনকারী মো. জসীম উদ্দিনের কাছে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : সন্ধ্যায় তারাব পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় গণসংযোগ করতে গেলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নাসিরউদ্দিন আহমেদসহ তার কর্মী-সমর্থকদের উপর দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। এ সময় সবুজ নামের এক কর্মীকে ধরে নিয়ে হামলাকারীরা মোবাইলসেট ও তার মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। গণসংযোগে আসা ৩টি গাড়ি ভাংচুর করে। হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়। তাদের রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পরে তারাব পৌরসভার রূপসী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে নাসিরউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে।

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন জানান, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোনো নেতাকর্মী এ হামলায় জড়িত নয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও তার লোকজনের উপর হামলার ঘটনাটি ন্যক্কারজনক।

গোপালপুর (টাঙ্গাইল): উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, গতকাল বিকাল ৫টায় পালপাড়া ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত সমাবেশে নৌকা মার্কার শ্লোগান দিয়ে একদল যুবক হামলা চালায়। এতে তিনিসহ চারজন আহত হন। অপরদিকে আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে, নৌকার প্রার্থী রকিবুল হক ছানার নির্বাচনী কর্মী এবং সাবেক কাউন্সিলর মাসুদুর রহমান মাসুমের উপর কোনাবাড়ি বাজারে হামলা চালায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts