September 21, 2018

আ.লীগের ভাবনা বিএনপিকে ছাড়াই আগামী নির্বাচন!

ঢাকাঃ  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখনই অনুষ্ঠিত হোক, প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপিকে সেই নির্বাচনে ফেরাতে কোনও উদ্যোগ নেবে না শাসক দল। আওয়ামী লীগ মনে করে, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংলাপের আশায় গোঁ ধরে বসে থাকলে একাদশ সংসদ নির্বাচনও হতে পারে বিএনপিকে বাইরে রেখেই। সংবিধানের বাইরে গিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতে এক চুলও ছাড় দেবে না ক্ষমতাসীনরা।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা এই মনোভাবের কথা জানান।

তারা এও বলেন, নির্বাচন মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে হোক বা পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেই হোক,এই ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অবস্থানের কোনও হেরফের হবে না।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপিকে ছাড়াই করতে পারায়, আরও একটি নির্বাচন তাদের ছাড়াই যে হতে পারে, এমন আত্মবিশ্বাস শাসকদলের ভেতরে দ্বিগুণ মাত্রায় বেড়েছে।দশম সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ভেতরে দুশ্চিন্তা ছিল বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন করা কতটা সম্ভবপর হবে এবং সেই নির্বাচন কতটা বিশ্বাযোগ্য হবে। নির্বাচন শেষ করে প্রায় তিন বছর ভালভাবেই অতিবাহিত হওয়ায় এখন আওয়ামী লীগ মনে করছে, আগামী নির্বাচনও বিএনপিকে ছাড়া হলে খুব একটা ক্ষতি হবে না। সেই ‘রিস্ক’ নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন,বিএনপিকে বাইরে রেখে আরও একটি নির্বাচনের চিন্তা দলটির ভেতরে রয়েছে। সেটা করতে পারলে রাজনৈতিক সুফল পুরোপুরি পাবে আওয়ামী লীগ।

আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতে সংলাপ-সমঝোতা করে বাড়তি ক্ষেত্র তৈরি করে দেওয়ার মত কোন সম্ভাবনা এখনও পর্যন্ত নেই বলে জানান আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। অবশ্য, ক্ষমতাসীন দলের একটি বড় অংশ মনে করে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে ফেরাতে ক্ষেত্র তৈরি করার প্রয়োজন পড়বে না। যেভাবেই নির্বাচন হোক না কেন-বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবেই।

আরও পড়ুন: মেশিন-রিডেবল-পাসপোর্ট মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে বিড়ম্বনা কাটেনি

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলী, সম্পাদকমন্ডলী ও উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন নেতা মনে করেন, বিএনপিকে প্রস্তাব দিয়ে আর নির্বাচনে আনার প্রয়োজন পড়বে না। একাদশ জাতীয় নির্বাচন যেভাবেই হোক বিএনপি সে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। তা না হলে দলটি বিলীন হয়ে যাবে। তারা বলেন,তাছাড়া নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলে তাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যাবে।সুতরাং তাদেরকে প্রস্তাব দিয়ে নির্বাচনে আনার কোনও দরকারই নেই। তারা বলেন, বিএনপি মুখিয়ে আছে-কখন নির্বাচন হবে। কখন তারা অন্তত বিরোধীদলের আসনে গিয়ে বসতে পারবে।

রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি থাকায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে ক্ষমতাসীনরা বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতে একের পর এক নানা প্রস্তাব দিতে থাকে। তবে বিএনপি সকল প্রস্তাব প্রত্যাখান করে নির্বাচন বর্জন ও ভন্ডুল করার চেষ্টা করে। দলটির তখনকার আচরণে রুষ্ট আওয়ামী লীগ আর কোনও প্রস্তাব দিয়ে নির্বাচনে ফেরাতে চায় না বিএনপিকে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন যখনই হোক, সংবিধান অনুযায়ী হবে। আর বিএনপিকে নির্বাচনে ফিরিয়ে আনতে বাড়তি কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। তিনি বলেন, বিএনপি যদি প্রস্তাব বা সংলাপের আশায় গোঁ ধরে বসে থাকে আগামী নির্বাচনও হতে পারে বিএনপিকে বাইরে রেখে। সভাপতিমন্ডলীর এ সদস্য আরও বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতে অনেকগুলো প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তারা তা প্রত্যাখান করে, আগামী নির্বাচনে প্রস্তাব দেওয়ার যৌক্তিকতা হারিয়েছে। লেনিন বলেন,বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে, শুধু তাই নয়, নির্বাচন ঠেকাতে এমন কোনও কাজ নেই, যা দলটি করে নাই। ফলে নির্বাচনে আনতে প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ তারা নষ্ট করেছে।

জানতে চাইলে সভাপতিমন্ডলীর অপর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, বিএনপিকে প্রস্তাব দিয়ে নির্বাচনে আনতে হবে না। নির্বাচন সংবিধান সম্মতভাবে, যথাযথ নিয়মে অনুষ্ঠিত হবে, সেই নির্বাচনে তারা অবশ্যই অংশগ্রহণ করবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে প্রস্তাব বা সংলাপে বসে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার দিন পার হয়ে গেছে। সংবিধান নির্বাচনের পদ্ধতি বাতলিয়ে রেখেছে। সেভাবেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে কে আসবে না আসবে সেটা প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব ব্যাপার। তিনি বলেন, তবে এটা নিশ্চিত যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে কোনও অনির্বাচিত সরকার এসে নির্বাচন করে দিয়ে বিদায় হবেন, এমন সুযোগ আর নেই।

উৎসঃ   বাংলা ট্রিউন

Related posts