November 20, 2018

আ.লীগকে দেখিয়ে দিব গণতন্ত্র কাকে বলেঃ শেখ ফরিদ

329
এ কে আজাদ,চাঁদপুরঃ  কচুয়া উপজেলা ও পৌর এিনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনাতনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরদি আহমেদ মানিক বলেন, এখন দেশে চলছে গণতন্ত্র হত্যা। শেখ হাসিনা বর্তমানে একনায়কতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। আমাদের দলের মধ্য থেকে গণতন্ত্র বিকশিত করে আওয়ামীলীগকে দেখিয়ে দিতে হবে গণতন্ত্র কাকে বলে। আমরা কচুয়া উপজেলা ও পৌরসভার কাউন্সিলরদের মাধ্যমে কচুয়াকে আরো শক্তিশালী করে সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিতারিত করে গণতন্ত্র রক্ষা করবো। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন দিতে তাদের কে বাধ্য করবো। কচুয়া উপজেলা বিএনপিসহ অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের এখনো রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় হাজিরা দিতে চাঁদপুর আদালতে আসতে হচ্ছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপির কোন নেতা কর্মীকে দাবিয়ে রাখা যাবেনা।

গনতন্ত্র হত্যাকারী জুলুমবাজ এই সরকারের পতন হবেই হবে। আমাদের জাতীয়তাবদী দলের গঠনতন্ত্র রয়েছে সে গঠনতন্ত্র মোতাবেক কচুয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছে। আপনাদের মতামতের ভিত্ততেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতদিন যারা এই ত্যাগী নেতাদের বিরোধীতা করেছেন আজকে তারাই মতমত দিয়ে নেতা নির্বাচিত করেছেন। এখন থেকে তাদের কথা মতোই কচুয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ অংগ সংগঠন পরিচালিত হবে। পৌর কমিটির সকল কিছুই উপজেলা কমিটিকে জানাতে হবে। উপজেলা কমিটি সকল কিছু জেলা কমিটিকে অবহিত করতে হবে। এখনথেকে যারা নেতা নির্বাচিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত তারা মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি নেতা কর্মীর খোঁজ খবর রাখতে হবে। কোন প্রকার ব্যর্ত্যয় হলে সরা সরী আমাকে ফোন কওে যানাবেন।

তিনি আরো বলেন, কচুয়া উপজেলায় জাতীয়তাবাদী দলের যে সকল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা রয়েছে তারা আদালতে হাজিরা দিতে আসার পূর্বে জেলা বিএনপিকে অবগত করবেন। এখানে আপনাদের আইনী ঝামেলা থেকে রক্ষা পেতে সকল ব্যায় জেলা কমিটি বহন করবে। কচুয় পৌর বিএনপরি ৯টি ওয়ার্ডের কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে গঠন করতে হবে।  ওয়ার্ড কমিটি গঠনের পর পৌর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো পূর্বের ন্যায় কচুয়া বিএনপকে জাগ্রত করা। কচুয়ায় সাড়ে ৩ লক্ষ ভোটর রয়েছে যার ৭০ভাগ ভোটারই বিএনপির পক্ষে।

তিনি উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে আমাদের দেশ নেত্রী ও তারুন্যের প্রতিক তারেক জিয়া ধানেরশীষ প্রতীক যাকে দিয়ে পাঠাবে আপনারা তার পক্ষেই কাজ করবেন। তিনি উদাহর টেনে বলেন, এক সংসারে ভাইয়ে ভাইয়ের মধ্যে দ্বিধাদন্দ থাকতে পাওে কিন্তু বাবা সন্তানদের ফেলে দিতে পারে না। কচুয়া উপজেলা ছাত্রদল কমিটিকে শক্তিশালী করতে হলে প্রকৃত ছাত্রদের দিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। ছাত্রদলরে পুরুনো নেতাদের যুবদলে স্থান দিতে হবে। পৌর কমিটি মহল্লা ও ওয়ার্ড কমিটির ছবি এবং মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে উপজেলা কমিটি ও জেলা কমিটির কাছে জমা দিতে হবে। তাই পুরুনো নেতাদের বাদ দিয়ে কোন কমিটি গঠন করা যাবে না। আওয়ামীলীগের ভয়ে বিএনপি নেতাদের পালিয়ে থাকলে চলেব না। কচুয়া উপজেলা বিএনপিকে শক্তিশালী করে আমারা বুঝিয়ে দিব বিএনপি নিস্কৃয় নয়।

বিশেষ অতিথি জেলা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক অ্যাড. সেলিম উল্লা সেলিম, মাহবুব আনোয়ার বাবলু, দেওয়ান মোহাম্মদ সফিকুজ্জামান, মনির চৌধুরী, কাজী গোলাম মোস্তফা, খলিলুর রহমান গাজী। প্রধান বক্তা যুগ্ম আহবায়ক সলিমুস সালাম, বিশেষ বক্তা আক্তার হোসেন মাঝি, কচুয়া উপজেলা বিএনপির সমন্বকারী শাহজালাল মজুমদার, অ্যাড. হারুরুন রশিদ। সভাপতিত্ব করেন কচুয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক হুমায়ুন কবির প্রধান। পরিচালনা করেন কচুয়া পৌর বিএনপির আহবায়ক নাছির আহমেদ মিলন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাড. জাহাঙ্গীর হোসেন খান, সদস্য সচিব হযরত আলী ঢালী, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মানিকুর রহমান মানিক, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ বাহার, কচুয়া উপজেলা বিএনপির  যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমান পাঠান, দেওয়ন মনিরুজ্জামান মানিক,  এড. মকবুল হোসেন প্রমুখ।

পরে প্রধান অতিথি কচুয়া উপজেলার বিএনপির কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে হুমায়ন কবির প্রধান কে সভাপতি, শাহহাজাল প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক ও মোঃ মুকবুল হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক ঘোষণা দেন। অপরদিকে কচুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি পদে মোঃ নাছির আহমেদ মিলন ও সাধারণ সম্পাদক পদে তাজুল ইসলাম তাজিনের নাম ঘোষণা করা হয়।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts