September 25, 2018

আয়লানকে নিয়ে ‘চার্লি এবদো’র ব্যঙ্গচিত্র, তোলপাড়

28

বহুল আলোচিত ফরাসি বিদ্রূপাত্মক ম্যাগাজিন চার্লি এবদোর সামপ্রতিক একটি কার্টুন/ ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে খোদ ইউরোপে। ওই ব্যঙ্গচিত্রে বুঝানো হয়েছে, গত বছর তুর্কি সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসা তিন বছর বয়সী সিরিয়ান শিশু আয়লান কুর্দি বড় হলে যৌন হেনস্থাকারী হতো! বৃহস্পতিবার এ নিয়ে তীব্র নিন্দার ঝড় বয়ে যায় অনলাইনে। অনেকের মতে এ ব্যঙ্গচিত্র বর্ণবাদী। এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট। সমপ্রতি জার্মানির একটি শহরে বিপুল সংখ্যক নারী যৌন হেনস্তার শিকার হয়। অনেকে এর পেছনে শরণার্থীদের দায়ী করেন। ফলে শরণার্থী ইস্যু নিয়ে জার্মানিতে চলমান বিতর্ক আরও উস্কে উঠে। দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে, যা ইউরোপের অন্য যে কোন দেশের চেয়ে বেশি। ওই সূত্র ধরে ২০১৪ সালে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার শিকার হওয়া চার্লি এবদো একটি কার্টুন ছেপেছে।

এতে দেখা যায়, দুই পুরুষ এক আতঙ্কিত নারীকে তাড়া করছে। কার্টুনের শিরোনামে লেখা: ‘ছোট্ট আয়লান বড় হলে কী হতো? জার্মানির যৌন হেনস্তাকারী।’

প্রসঙ্গত, গত বছর জানুয়ারিতে প্যারিসে চার্লি এবদো কার্যালয়ে জঙ্গি হামলায় ১২ জন নিহত হয়। ম্যাগাজিনটির পরবর্তী সংস্করণে প্রধান শিরোনাম ছিল ‘আমিই চার্লি’। এ বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে লুফে নেয় অনলাইন। তবে এবার অনেকেই একমত হতে পারছেন না ম্যাগাজিনটির বক্তব্যের সঙ্গে। উস্কানিমূলক আচরণের কারণে এর আগেও অভিযুক্ত হয়েছিল চার্লি এবদো। অপরদিকে গত সেপ্টেম্বরে সমুদ্রপথে ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায় আয়লান কুর্দি। তার লাশ তুর্কি সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসে। ওই সময়কার কয়েকটি ছবি সারা দুনিয়ার অনলাইন এবং গণমাধ্যমের প্রথম পাতায় স্থান করে নেয়। বিশ্বজুড়ে উপচে উঠে সিরিয়ান শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতি। হৃদয়স্পর্শী ছবিটির প্রভাব এত গভীর ছিল যে,শরণার্থী গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় ইউরোপিয়ান সরকারগুলো।

মানবজমিন
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts