December 13, 2017

আড়াই হাজার বছরের মানব সভ্যতার ইতিহাসের ঐতিহ্য বঙ্গবন্ধুর ৭’মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন : ডা. দীপু মনি

3

এ কে আজাদ, চাঁদপুর : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’ এ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। যারা এতোদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অসত্য বলেছেন, তারা এবার তাদের ভুল বুঝতে পাবরেন।

৭১’এর ২৫ মার্চ রের্সকোর্স ময়দানে সর্ব কালের সর্ব শ্রেষ্ট বাঙালী আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক অবিস্যরনীয় ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। মানব সভ্যতার দালিলিক ঐতিহ্যের এটি একটি তালিকা যা পৃথিবীর নিপিড়িত, নির্যাতিত মুক্তিকামী মানুষের প্রেরনার উৎস হয়ে থাকবে।

আমাদের ইতিহাস জানতে হবে, আমাদের দুঃক্ষ, কষ্ট, পরাধীনতার ইতিহাসকে জানতে হবে। তা হলেই আমরা আমাদের স্বাধীনতার মূল্য দিতে পারবো, আমাদের সার্বভৌমত্ত রক্ষায় সর্বচ্ছ ত্যাগ শিকার করতে পারবো।

1শনিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় চাঁদপুর হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’ এ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানব সভ্যতার ইতিহাসে আড়াই হাজার বছরের যতগুলো ভাষন নানানভাবে সংঙ্কলনে সংঙ্কলিত হয়েছে সেই ভাষন গুলোর অধিকাংশই ছিল লিখিত, ১০ লক্ষ মানুষের সামনে এই একটি ভাষনই ছিল অলিখিত। তাই সারা বিশ্বে এটি একটি বিরল ভাষন, বঙ্গবন্ধু এ ভাষনের মাধ্যমে সাধারন মানুষের ধমনিতে শিহরন জাগিয়ে তুলেছেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, তিনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন ১৮ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের ভাষনে জাতীর জনক ১১০৮ শব্দের যে ভাষন দিযেছেন তা বিশ্বে অন্যতম। এ ভাষনের মাধ্যমেই তিনি বাঙ্গালী জাতীকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমে, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওচমান গণি পাটোয়ারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল ও চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শরিফ চৌধুরী।

শোভাযাত্রার পূর্বে চাঁদপুর শহরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন পেশাজীবী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। শোভাযাত্রাটি চাঁদপুর শহরের স্টেডিয়াম থেকে বের হয়ে স্টেডিয়াম রোড ও মিশন রোড হয়ে হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসে শেষ হয়। এরপর মঞ্চে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় দেশাত্মবোধক সঙ্গীতানুষ্ঠান, পূর্বে হয়ে যাওয়া চিত্রাঙ্কণ, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সবশেষে জেলা তথ্য অফিসের ব্যবস্থাপনায় মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল ও সঞ্চালনায় ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আয়েশা আক্তার ও সাংবাদিক শাহ মাকসুদুল আলম।

Related posts