November 16, 2018

আসন্ন মার্কিন নির্বাচনঃ ডেমোক্রেটদের ইতিহাস গড়ার সুযোগ

আসন্ন মার্কিন নির্বাচনঃ ডেমোক্রেটদের ইতিহাস গড়ার সুযোগ

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বিশেষ সংবাদদাতাঃ   আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি রডহাম ক্লিনটন। হিলারি নির্বাচিত হলে টানা ১২ বছর ক্ষমতা দখলে রাখার গৌরব অর্জন করবে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটরা। হোয়াট হাউজে যাওয়ার হাতছানি পাচ্ছেন হিলারি। ১৭৯ বছর আগে ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট টানা ১২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তার ক্ষমতার পরিসমাপ্তি ঘটে।পরবর্তীতে মার্কিন সংবিধানের সংশোধনী এনে ক্ষমতার সীমানা টানা হয়। সংশোধনীতে বলা হয় টানা ২ বারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা যাবে না। ১৯৮৮ সালে রিপাবলিকান দলের হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে হ্যাট্রিক করেন।

হিলারির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বর্তমান ওবামার প্রশাসনের সমর্থন ধরে রাখা। গত ৮ বছর ধরে চলা ওবামা প্রশাসনের কি ব্যতিক্রম আনবেন হিলারি। ওবামা টানা দুইবার হোয়াইট হাউজে রয়েছেন। এই শক্তি না নিয়ে নিজের মতো রেকর্ড তৈরি করতে হবে হিলারিকে। ইতিমধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন চালানোর মতো শারীরিক সামর্থ নেই তার।গত মাসে বাইডেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। বয়স্কদের মধ্যে ২০০০ সালে আল গোর ও ২০০৮ সালে জন ম্যাককেইন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তবে হিলারি তাদের মধ্যে ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। কারণ হিলারির পায়ে হেঁটে কাজ করার মতো শারীরিক সামর্থ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাইস ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্সিয়াল হিষ্ট্রিয়ান ডগলাস ব্রিংলি বলেন, নাগরিকরা এক দলকে পছন্দ করলেও অন্য দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসেন। মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে রিপাবলিকানরা ওবামা প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করছেন। এই দায় হিলারির ওপর বর্তায় কারণ মধ্যপ্রাচ্যের দায়িত্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। আর ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন হিলারি।

পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে চ্যালেঞ্জের মধ্যে পরবেন হিলারি ক্লিনটন। হিলারির নেতৃত্বে সিরিয়ায় মার্কিন পেশীশক্তি কাজে আসেনি। সিরিয়ায় যদি তার নেতৃত্বে মার্কিন প্রশাসন সফল হতো তাহলে তার জন্য এটি আরো সহজ হতো।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হিলারির জন্য চ্যালেঞ্জ হবে। আর চ্যালেঞ্জ হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে হিলারিই একমাত্র নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যিনি দেশটির বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের হয়ে এত বড় অবস্থানে লড়ছেন। কঠিন হওয়া সত্ত্বেও কিছু সুবিধাও পাবেন হিলারি। দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিকের  পালন করেছেন তিনি। এছাড়া তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিটনের স্ত্রী।

ওবামা ও হিলারির মধ্যে জনপ্রিয়তার পার্থক্যে দেখা যায় ওবামার চেয়ে হিলারি এগিয়ে রয়েছেন তৃতীয়বার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য। আগস্টে মনমাউন্ট ইউনিভার্সিটির এক জরীপে দেখা যায়, তৃতীয়বার নির্বাচনের জন্য ২৭ শতাংশ ভোটার ওবামাকে ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আর ডেমোক্রেটদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ ভোটার ওবামাকে তৃতীয়বারও প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করতে চায়। বাকিরা ভোটাররা হিলারিকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চায়।২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারির জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনীতির বিষয়টি। বিশ্ব মহামন্দার পরে আর্থিক ও অর্র্থনৈতিকভাবে যে পিছিয়ে পরেছিল তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি মার্কিন সরকার। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।

মন্দার প্রভাবে এখনো মার্কিন সরকারের ৫ শতাংশ নাগরিক বেকার রয়েছে।ব্রাংলি বলেন, মার্কিনিরা তাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন। হিলারি কি পারবে তাদের নিরাশা দূর করতে। সম্প্রতি এনবিসি নিউজ ও ওয়ালষ্ট্রিট জার্নালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করে তারা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেছে। ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করে দেশের অর্থনীতি ভুল পথে চলছে। এই বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে আমলে নিতে হবে হিলারিকে। ডেমোক্রেটরা অযৌক্তিকভাবে অর্থনৈতিক মন্দার জন্য ৮ বছর আগে অফিস ত্যাগ করা বুশকে দোষারোপ করছে।ওবামার দুইটি নির্বাচনে আফ্রিকান মার্কিন নাগরিকরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। রিপাবলিকানরা শ্বেতাঙ্গের ভোট পেলেও কৃষ্ণাঙ্গরা ওবামাকে ভোট দিয়েছিল। হিলারি ক্লিনটনকে বিজয়ী হওয়ার জন্য এই জনসংখ্যাকে কাজে লাগাতে হবে। শ্বেতাঙ্গ হিলারি কি তার পূর্বসূরির সমর্থকদের ধরে রাখতে পারবে? ওবামা যে সুযোগটি কাজে লাগিয়েছিল হিলারিকে সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে হবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য।

ওবামা প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে হিলারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার পররাষ্ট্র নীতির কারণেই সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকানরা। হিলারির ভুল পররাষ্ট্র নীতির কারণে ওবামা প্রশাসনে দুর্নাম হয়েছে। রাশিয়া, লিবিয়া ও সিরিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts