September 19, 2018

আসছে আশরাফ চমক!

আশরাফ

২৩ অক্টোবর, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছিলো উত্তেজনা। টান টান উত্তেজনা। একটি নাম ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছিলেন সবাই। আর এর পরই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। কারণ তারা দুঃসময়ের এক কাণ্ডারিকে স্বপদ থেকে হাসি মুখে বিদায় নিতে দেখেছেন।
বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও সাবেক রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সানন্দে তার পদটি তুলে দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হাতে। সেদিনই সেই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী বললেন, আশরাফ আমার ছোট ভাইয়ের মত। প্রধানমন্ত্রীর স্নেহমাখা এমন বক্তের পরও চোখের জল বাধ মানেনি আশরাফ ভক্তদের। তাদের কানে বাজছিলো, সম্মেলনে দেয়া আশরাফের আবেগঘন বক্তব্য।
আওয়ামী লীগের ২০ তম সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ বিদায়ী ভাষণে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দলই নয়, হাজার হাজার নেতা-কর্মী, জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের অনুভূতি। বঙ্গবন্ধু কন্যা পিতৃহারা। আমিও হারিয়েছে আমার পিতাকে। কোনো ষড়যন্ত্র এই দলকে ধ্বংস করতে পারবে না। আবেগঘন কণ্ঠে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক যখন বঙ্গবন্ধু হত্যা, জাতীয় চার নেতা হত্যাসহ আওয়ামী লীগের সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরেন, সম্মেলন স্থলে তখন নিস্তব্ধতা নেমে আসে। শেখ হাসিনাসহ মঞ্চে উপস্থিত সবার চোখ ছলছল করে ওঠে। মঞ্চে বসে নিজের অজান্তেই কেঁদেছেন প্রধানমন্ত্রী।
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির জন্য নেতা-কর্মীদের কাছে নন্দিত। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তাকে ঘিরে ছিল অনেক আগ্রহ ও গুঞ্জন। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সৈয়দ আশরাফের স্থানে চমক হিসেবে আসে ওবায়দুল কাদের। আর সেই সম্মেলনেই আশরাফকে সু বার্তার ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী। এর একটু পর বিদায়ী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশরাফ আমার ভাই, আমি তাকে ছোট ভাইয়ের মত দেখি।
আওয়ামী লীগের কাউন্সিল শেষ হওয়ার পরে নীরবেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন সৈয়দ আশরাফ। উপস্থিত সাংবাদিকরা কমিটি গঠন নিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলেও তিনি সংবাদ মাধ্যমকে এড়িয়ে যান। তার এ নীরবতাও অনেক জল্পনার সৃষ্টি করে। জল্পনার বিষয় ছিল, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য থেকে আগামী বছরেই সৈয়দ আশরাফ দেশের রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন। দলের কয়েক জন শীর্ষ নেতা তখনই গণমাধ্যমকে এ ইঙ্গিত দেন।
আসছে আশরাফ চমক!এরপরই রাজনৈতিক পাড়ায় আলোচিত হয় আশরাফের দক্ষতা ও প্রজ্ঞার কথা। আলোচনায় আসে হেফাজতে ইসলাম ও বিএনপি’র আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা এবং জাতীয় নির্বাচন করার দক্ষতায় তার ওপর আস্থা রাখেন বঙ্গবন্ধু কন্যা ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। এছাড়া দলের কঠিন সময়ে তার কথায় আসে সমাধান। যত বাধাই আসুক, বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে। জঙ্গিবাদ দূরের কথা, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ‘জ’ও থাকবে না।’জাসদ থেকে মন্ত্রী করার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে আওয়ামী লীগকে। চরম সত্য কিছু বাণী সময়ের আলোকে উচ্চারণ সব সময় থাকেন সবার হৃদয়জুড়ে।
সংশ্লিষ্ট ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন ২০১২ সালের ২১ই মার্চ। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী বছরের ২০ মার্চ। আর হাতে আছে ৫ মাস । চার মাস আগেই চূড়ান্ত করতে হবে কে হবেন রাষ্ট্রপতি। আর এ বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এ নিয়ে ভাবছেন না। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপরই ছেড়ে দেবেন।
জানা যায়, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য শেখ হাসিনা প্রবীণ নেত্রী সাজেদা চৌধুরীর কথা পূর্ববতী মেয়াদেই ভেবেছিলেন। কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে বিষয়টি এগিয়ে নেয়া হয়নি। সাজেদা চৌধুরী এখন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। এর সঙ্গে প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমুর দীর্ঘ লালিত আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদটি ঘিরে।তবে তিনি বেশ কিছু কারণে এখন চাপা পড়ে আছেন।
আসছে আশরাফ চমক!রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের আগলে রেখেই শেখ হাসিনা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিনকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে দিয়ে যে ভুল করেছিলেন, তেমনটি যাতে না হয়, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন শেখ হাসিনা। তাই সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে নতুন রাষ্ট্রপতি পদে বেছে নেয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
সেক্ষেত্রে কাউন্সিলে সৈয়দ আশরাফকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রেসিডিয়ামে নেয়া হয়েছে । চরম দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতা মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব নগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র সৈয়দ আশরাফ বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও মমতার বন্ধনে আবদ্ধ। দুঃসময়ে তিনি শেখ হাসিনার পাশে দৃঢ়তার সঙ্গে ছিলেন সকল লোভ লালসার ঊর্ধ্বে থেকে। সহিষ্ণু, উদার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ লালনকারী হিসেবে বিরোধীদের কাছেও তিনি সমাদৃত। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মতো পিতৃহারা সৈয়দ আশরাফেরও চাওয়া পাওয়ার উদগ্রবাসনা নেই। সৈয়দ আশরাফ পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হলে হাওড় বেষ্টিত জেলা কিশোরগঞ্জ হবে পরপর তিন মেয়াদে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসন লাভকারী জেলা। জিল্লুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদও কিশোরগঞ্জের অধিবাসী।
এনিয়ে দলটির একাধিক নেতার মন্তব্য জানতে চাইলে কেউ ই কিছু বলতে চাননি।

Related posts