November 16, 2018

”আল্লাহ আমার মায়ের (মেয়ে) হত্যার বিচার কর”

মো. আলা উদ্দিন, জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা: আল্লাহ আমার মায়ের (মেয়ে) হত্যার বিচার কর, আমার মাকে যারা খুন করেছে তুমি তাদের বিচার কর, এভাবেই আহাজারি করে মূর্ছা যাচ্ছেন নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার শিকার সোহাগী জাহান তনুর বাবা ইয়ার হোসেন।
কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ধর্ষনের পর হত্যা করা কলেজছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর গ্রামের বাড়ি জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সোমবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যায় মির্জাপুর বাজার মোড়ে জানাজা শেষে মির্জাপুর কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

নিহত সোহাগী জাহান তনু কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ও জেলার মুরাগনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের ইয়ার হোসেনের কন্যা। তারা দুই ভাই এক বোন ছিল। তনুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করতে বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে তার পরিবারে কাছে ছুটে যান মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) আজগর আলী।

এ সময় জেলা প্রশাসন ও মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দশ হাজার করে বিশ হাজার টাকা তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন এবং জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এক খন্ড খাস জমি শোকাহত পরিবারটিকে প্রধানের ঘোষনা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। পরে নিহত তনুর কবর জিয়ারত করেন ইউএনও। এসময় ইউএনও জানান সোহাগী জাহান তনু হত্যার বিচারের জন্য কুমিল্লা জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান কল্লোল আশ্বাস প্রদান করেছেন।

নিহতের স্বজনরা জানায়, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইতিহাস বিভাগের ¯œাতক (সম্মান) ২য় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী ও ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সদস্য সোহাগী জাহান তনু গত রবিবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় টিউশনি করার জন্য বের হলে পরে বাসায় ফিরে না আসায় তাকে খোঁজা খোঁজি শুরু করে পরিবারের সদস্যরা। পরে রাতে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন কালভার্টের পাশে ঝোপের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়।

Displaying Sohagi Jahan Tonu News Picture-2.jpgDisplaying Sohagi Jahan Tonu News Picture-2.jpg

এ ব্যাপারে নিহতের পিতা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে পরদিন কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যাক্তিদের নামে হত্যা মামলা করেন। এদিকে এ ঘটনার ৫দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত ঘাতকদের শনাক্ত করতে না পারায় পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সোহাগীর বাবা ইয়ার হোসেন জানান, তনুকে যখন খুজে পাওয়া যায় তখন মাথার পেছন দিকে আঘাতের চিহ্ন ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তিনি আরও জানান, পরিবার পরিজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি তাই আমরা গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। এসময় তিনি তার মেয়ে তনু হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

মো. আলা উদ্দিন
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি

Related posts