September 21, 2018

আ’লীগ-বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া গুলি বর্ষণ

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জ:   নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের প্রচারণা নিয়ে আওয়ামীলীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে জাহাঙ্গীর মিয়া (৪০) নামে এক জন নিহত হয়েছেন। এসময় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন । প্রায় শতাধীক রাউন্ড ফাকা গুলি বর্ষণ করে এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করা হয়। সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার মধ্যে রাতে উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের বড়ভিটা এলাকায় ঘটে এ সংঘর্ষের ঘটনা। নিহত জাহাঙ্গীর মিয়া বড়ভিটা এলাকার ইলিয়াছ মিয়ার ছেলে। তিনি আওয়ামীলীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছের সমর্থক ছিলেন। এছাড়া গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মঙ্গলখালী এলাকার বাতেন মিয়ার ছেলে ফয়সাল মিয়া (২২) ও মুড়পাড়া এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে মিলন মিয়া (২০)।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মুড়াপাড়া ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পান তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছ। একই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা  করছেন আব্দুল জাব্বার মেম্বার। আগামী ২৩ এপ্রিল নির্বাচন নিয়ে তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছের সঙ্গে আব্দুল জাব্বার মেম্বারের চরম দ্বন্ধ চলে আসছিলো। সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে মুড়াপাড়া ইউনিয়নের বড়ভিটা এলাকায় ওই দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে তাদের কর্মী-সমর্থকরা প্রচারণায় নেমে প্রচারণা চালান। এসময় প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে দুই প্রার্থীর সমর্থকরা রামদা, চাপাতিসহ বিভিন্ন অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এসময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গ্রামের সাধারন মানুষ আতঙ্কে ছুটাছুটি করতে শুরু করে। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে প্রায় শতাধীক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে তোফায়েল আলমাছ সমর্থক বড়ভিটা এলাকার ইলিয়াছ মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (৪০), আনোয়ার হোসেনের ছেলে মাসুদ মিয়া (২৫), রজব আলীর ছেলে রাজু মিয়া (২২) ও শাহজাহান মিয়ার ছেলে শাকিল মিয়া (২৭)  কে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে গুরুতর জখম করে আব্দুল জাব্বার মেম্বার সমর্থকরা। খবর পেয়ে থানার বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল পৌছে আহতদের উদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এছাড়া বিপুল পরিমান পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।  সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন।এদিকে, হত্যা মামলার বাদী ও নিহত জাহাঙ্গীর মিয়ার মামি মাসুদা বেগম ও আওয়ামীলীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছ মঙ্গলবার বিকেলে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুদা বেগম বলেন,  আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল জাব্বার মেম্বার ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুইয়া আমাকে ডেকে নিয়ে যান। এসময় ভাগ্নি জামাতা জাহাঙ্গীর মিয়া ও জামাতার ভাই তারা মিয়াকে তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছের পক্ষে নির্বাচন না করার জন্য বলেন এবং নির্বাচন করলে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। আব্দুল জাব্বার মেম্বার ও শাহজাহান ভুইয়াসহ তাদের লোকজন নির্মম ভাবে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে জামাতা জাহাঙ্গীর মিয়াকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছ বলেন, আব্দুল জাব্বার মেম্বার একজন কসাই। আর এ জন্যই কসাইর মতো গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা ও আহতের ঘটনা ঘটায়। অবিলম্বে খুনি কসাই জাব্বারকে গ্রেফতার পুর্বক ফাঁসির দাবি জানান।

এ বিষয়ে শাহজাহান ভুইয়া তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা দাবি করে বলেন, আমি এ ঘটনার ব্যপারে কিছুই জানিনা। আমাকে রাজনৈতিক ভাবে হয়রানি করতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, হত্যাকান্ডের জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১২ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts