December 19, 2018

আরো টার্গেট কিলিং-এর আশংকা সরকারের,দায়ী মীর কাসেম আলী!

ঢাকাঃ  আরও টার্গেট কিলিং ঘটতে পারে বলে মনে করছে সরকার। ওই সব হত্যাকান্ড বন্ধ করার জন্য তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যদিও এটা এখনই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে কিনা এই ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছে না সরকার। তারা দায়ী করছে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীকে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরের সময় ঘনিয়েছে। এই সময়ে জামায়াত-শিবির আরও কিলিংয়ের ঘটনা ঘটিয়ে সারাদেশে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এই ব্যাপারে আমরা গোয়েন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়েছি। তারা জামায়াত শিবিরের দিকে নজর রেখেছে।

মন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতাদের বিচার ও রায় কার্যকর শুরু করার সময় থেকেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। একটা একটা করে ফাঁসির আদেশ কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকান্ডও বেড়েছে। কারণ নেতাদের ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার পর তারা নানা দিকে থেকে সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে।

তিনি বলেন, মীর কাসেম তার জন্য বিদেশে লবিষ্টও নিয়োগ করেছেন। বহু টাকা খরচ করেও কোনো কাজ হয়নি। এই কারণে শেষ লড়াই হিসেবে তারা মানুষ হত্যা করছে। মীর কাসেমের রায় হওয়ার পর থেকে গুপ্ত ও টার্গেট কিলিং হত্যার ঘটনা বেড়েছে। গত বছর কিলিং হলেও সংখ্যা ছিল কম। মীর কাসেমের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হওয়ার পর লাগাতার টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটছে। আমরা আশংকা করছি এই ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে পারে।

মীর কাসেমের রায় আপিল বিভাগে হলেও এখনও রিভিউ করা বাকি। এই ক্ষেত্রে তারা আরও সময় পাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা সময় পাবে ঠিকই তবে তা বেশি দিন নয়। কারণ তাদেরকে রিভিউ করতে হলে সেটা করতে হবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী। এই ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে। আমরা আশাবাদী এই জন্য যে, মীর কাসেম আলীর ব্যাপারে আপিল বিভাগ মৃত্যুদন্ডের আদেশ বহাল রাখার কারণে রিভিউতে তা বহাল থাকবে। যত দ্রুত সম্ভব আমরা রায় কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেব।

তার মতে, ষড়যন্ত্র কেবল জামায়াত একা করছে বিষয়টা এমন নয়; করছে বিএনপিও। বাংলাদেশের সরকার উৎখাত করতে তারা ইসরায়েলের মোসাদের সঙ্গেও ষড়যন্ত্র করেছে।

সূত্র জানায়, জামায়াত নেতাদের ফাঁসির আদেশ কার্যকর করতে গেলেই গুপ্তহত্যার ঘটনা বেড়েছে। আর যখনই এই ধরনের টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটেছে তখনই আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠি ইসলামিক স্টেট বা আইএসের পক্ষ থেকে হত্যার দায় স্বীকার করা হয়েছে। যদিও সরকার সবসময় দাবি করে আসছে, প্রচারণা পাওয়ার জন্য দেশের ভেতর নাশকতাকারীরা আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠির নাম প্রকাশ ও প্রচার করছে। এসবের আড়ালে আছে জামায়াত-শিবির।

সূত্র জানায়, জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার রায় ঘোষণার আগ থেকেই সারাদেশে সহিংস অবস্থান নিয়েছিল জামায়াত-শিবির। এরপর জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় হওয়ার পর জামায়াত অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সব মিলিয়ে প্রাণ হারায় ৭০ জনেরও বেশি। কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পরও ব্যাপক সহিংসতা চালায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। সাবেক আমির গোলাম আযম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির আবদুস সুবহান, আমির মতিউর রহমান নিজামী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল বা আপিল বিভাগের রায়ের পর জামায়াত প্রকাশ্যে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে রায়ের প্রতিবাদে হরতাল ডেকেছে। সেসব হরতাল খুব একটা সফল ছিল না।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আপিল বিভাগ ৫ জুন মীর কাসেম আলীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে। ওইদিন সকালে হতাকান্ডের শিকার হন বাবুল আক্তারের স্ত্রী। এরপর হত্যাকান্ডের শিকার খ্রিস্টান ব্যবসায়ী সুনীল গোমেজ। এরপর ৭ জুন ঝিনাইদহে খুন হন হিন্দু পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলি। ১০ জুন পাবনার হেমায়েতপুরে খুন হন নিত্যরঞ্জন পান্ডে। একটি ছাড়া সব ঘটনায় অপরাধীরা পালিয়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত ওই সব ঘটনায় সবাইকে চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।

জঙ্গি দমন সংশ্লিষ্ট একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, জামায়াত-শিবির এবং জঙ্গি একাকার হয়ে দেশে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটাচ্ছে। অনেক ঘটনা ঘটার আগেই আমরা প্রতিহত করেছি। কিন্তু এরপরও কিছু কিছু ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে; এটা সত্য। তবে হত্যাকারীরা রক্ষা পাবে না। তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সব ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বাঁচানোর জন্যই করা হয়েছে। এখন মীর কাসেম আলীর রায় কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত আরও ঘটনা ঘটতে পারে। তবে, তার রায় কার্যকর করা হলে এই ধরনের ঘটনা কিছুটা কমবে বলেও তিনি মনে করেন।

উৎসঃ আমাদের সময়

Related posts