December 12, 2018

আমড়া ফলের পুষ্টিগুণ

Captureবিনোদন ডেস্ক ::

টক-মিষ্টি ফল আমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ফাইবার। আমড়া মাঝারি আকারের দেশি ফল। কাঁচা ফল টক বা টক মিষ্টি হয়, তবে পাকলে টকভাব কমে আসে এবং মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়। আমড়া জুলাই-আগস্টে বাজারে আসে আর থাকে অক্টোবর পর্যন্ত।

গোল্ডেন আপেলখ্যাত আমড়ার বৈজ্ঞানিক নাম Stondia Dulcis। এটি Anacardiaceae পরিবারভুক্ত। আমড়ায় জলীয় অংশ ৮৩.২, খনিজ ০.৬, লৌহ ০.৩৯, আঁশ ০.১, চর্বি ০.১, আমিষ ১.১, শর্করা ১৫, ক্যালসিয়াম ০.৫৫ শতাংশ।

এছাড়া ভিটামিন ডি, সি ও ক্যারাটিন থাকে। আমড়া দিয়ে চাটনি ও আচার তৈরি করা হয়। আমড়ার ডাল ও তরকারি দিয়ে রসনাবিলাস করেন অনেক মানুষ।

# আমড়ার গুণাগুণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ খুব একটা জানে না। কফ ও পিত্তের সমস্যা নিরাময় এবং কণ্ঠস্বর পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে আমড়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

# বর্ষার স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে কিছু রোগজীবাণু বাতাসে ভেসে বেড়ায়, নোংরা পানিতে বাসা বাঁধে। আমড়ার ভিটামিন ‘সি’ এমন জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

# চর্বি বা কলস্টেরল কমিয়ে, হৃৎপিণ্ডে সঠিকভাবে রক্ত চলাচলে সাহায্য করে আমড়া। ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে সালাদের বাটিতে অনায়াসে স্থান পাবে আমড়া। এতে চিনির পরিমাণ খুব কম। তাই উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিসের রোগীরা খেতে পারেন নিশ্চিন্তে।

# দাঁতের মাড়ি শক্ত করে, দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত, পুঁজ, রক্তরস বের হওয়া প্রতিরোধ করে আমড়া। এর ভেতরের অংশের চেয়ে বাইরের খোসাতে রয়েছে বেশি ভিটামিন সি আর ফাইবার বা আঁশ, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে দ্বিগুণ শক্তিশালী। আর আঁশজাতীয় খাবার পাকস্থলী (স্টমাক), ক্ষুদ্রান্ত, গাছহদন্ত্রের (পেটের ভেতরের অংশবিশেষ) জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।

# আমড়া খাবারের অরুচি দূর করে। শরীরের অতিরিক্ত উত্তাপ দূর করতে আমড়া অনেক কাজে লাগে। এ ছাড়া রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সর্দি কাশির ক্ষেত্রেও এটি বেশ উপকারী ফল।

# ডায়াবেটিসের রোগীরা পাকা আমড়া পরিহার করুন। কারণ পাকা আমড়ায় সুগারের পরিমাণ কাঁচার তুলনায় বেশি থাকে। আমড়ায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা ক্যান্সার এবং কিছু মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে অনেক সহায়তা করে থাকে।

Related posts