November 17, 2018

আমেরিকাকে প্রতিহত করবে রাশিয়া

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ  ইউরোপে আমেরিকার মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে উত্তেজনা। আমেরিকার এই মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনকে রাশিয়ার জন্য হুমকিস্বরূপ উল্লেখ করে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, তার দেশকে লক্ষ্য করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আমেরিকা এবং ন্যাটো যেসব মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে, সেগুলো নিষ্ক্রিয় করবে মস্কো।

এদিকে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে উত্তর ইউরোপে সামরিক আগ্রাসন চালানোর অভিযোগ এনেছে আমেরিকা। এ অবস্থায় আমেরিকা-রাশিয়া পরমাণুযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। সংবাদসূত্রঃ পার্স নিউজ, আরটি, রয়টার্স, এপি বার্তা সংস্থাগুলো বলছে, মধ্য ইউরোপের দেশ রোমানিয়ায় আমেরিকা এবং ন্যাটোর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে একটি আমেরিকান মিসাইলঘাঁটির উদ্বোধন করা হয়।

ইরানের মতো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের হুমকি মোকাবেলায় এই অঞ্চলে মিসাইলব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

তবে রাশিয়া এ ধরনের পদক্ষেপকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। গত শুক্রবার রাশিয়ার সোচিতে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিন। ইউরোপে মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রাশিয়া-আমেরিকা অস্ত্রচুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পুতিন বলেন, ‘এটি কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়। পূর্ব ইউরোপে পরমাণু কর্মসূচি বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু এতে স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উত্তেজনাও বাড়বে। তারা রাশিয়াকে লক্ষ্য করে যেসব মিসাইলব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার কথা ভাবতে আমরা বাধ্য হচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘সামরিক শক্তির টেকসই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে মস্কো সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। সম্ভাব্য বিশাল সামরিক সংঘাতের বিরুদ্ধে কৌশলগত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার এটাই হচ্ছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা।’ তবে রাশিয়া কোনো অস্ত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে ওয়াশিংটন পরমাণু সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করছে। পোল্যান্ড ও রাশিয়ার পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশে এ ধরনের মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে আমেরিকা স্বল্প ও মধ্যপাল্লার মিসাইল ব্যহারের সুবিধা নিতে চাইছে।

রাশিয়া আগ্রাসন চালাচ্ছেঃ ওবামা

এদিকে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে উত্তর ইউরোপে সামরিক আগ্রাসন চালানোর অভিযোগ তুলে এ ব্যাপারে মস্কোকে সতর্ক করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে আইসল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান তিনি। ওবামা বলেন, ‘ইউক্রেনকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাখার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। মিনস্ক চুক্তি বাস্তবায়ন করার আগ পর্যন্ত রাশিয়ার ওপর আমাদের চাপ অব্যাহত থাকবে। বাল্টিক নর্ডিক অঞ্চলের দেশগুলোতে রুশ সামরিক সরঞ্জাম সমাবেশের বিষয়টি নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। তাদের উচিত, আন্তর্জাতিক আইন মেনে যে কোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।’ উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়াকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করে নেয়ার পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে আমেরিকার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়।

আমেরিকা ও রাশিয়ার এই মিসাইল বিতর্কের ধারাবাহিকতায় যে কোনো সময় দুই দেশের মধ্যে পরমাণুযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন আমেরিকান বিশ্লেষক স্টিফেন লেন্ডম্যান। আমেরিকা শান্তির পরিবর্তে সব সময় যুদ্ধ চায় উল্লেখ করে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাশিয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

রুশ মিসাইল ‘মুহূর্তে’ ধ্বংস করবে একটি দেশ!

এদিকে, ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতার অধিকারী পরমাণু মিসাইল চালানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে রাশিয়া। বলা হচ্ছে, এই মিসাইল কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি দেশকে ধ্বংস করে দিতে পারবে।

রাশিয়ার টিভি চ্যানেল ‘আরটি’ জানিয়েছে, আরএস-সারমাট মিসাইলকে সোভিয়েত আমলের আর-৩৬এম মিসাইলের জায়গায় বসানো হবে। ন্যাটোবাহিনী নতুন এই মিসাইলকে ‘সাটান’ বা ‘শয়তান’ বলে থাকে।

জানা গেছে, আন্তঃমহাদেশীয় এই ব্যালিস্টিক মিসাইলের ওজন হবে কমপক্ষে ২ হাজার ৭০০ মণ। ধারণা করা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত যত পরমাণু অস্ত্রবাহী মিসাইল তৈরি করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আকারের দিক দিয়ে আরএস-সারমাট সবচেয়ে বড়। এই মিসাইল একসঙ্গে কয়েক ডজন পরমাণু ওয়্যারহেড বহন করতে সক্ষম। আর আরএস-সারমাট মিসাইলের পাল্লা হবে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার; এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এটি টেক্সাস কিংবা ফ্রান্সের মতো এলাকাকে পৃথিবী থেকে মুছে দিতে পারবে। এ ধরনের মিসাইল স্টিলথ প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে; এবং রাডারের সাহায্য ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে তাতে আঘাত হানতে পারবে।

চলতি গ্রীষ্মকালে রাশিয়া এই মিসাইলের পরীক্ষা চালাবে বলে আশা করছে মস্কো। ২০০৯ সাল থেকে মিসাইলটি তৈরির কাজ চলছে এবং ২০২০ সাল নাগাদ তা রুশ সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করা হবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১৫ মে ২০১৬

Related posts