September 21, 2018

আমি হাসি সেটাও আমার দোষ—-নূর হোসেন

510

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় করা দুটি মামলার মধ্যে আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যা মামলাটির অভিযোগ (চার্জ) গঠন ১১ জানুয়ারি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এ ছাড়া আদালত র‌্যাব-১১-এর সাবেক সিও লে. কর্নেল তারেক সাঈদসহ ১৩ জনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। অন্যদিকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও তার চার সহযোগীসহ পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় সেলিনা ইসলাম বিউটির করা মামলাটির বিচারকাজ শুরু করার জন্য তা জেলা জজ আদালতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। গতকাল পৃথক এ দুই আদালত এসব আদেশ দেন। এদিকে আদালতের প্রবেশের পথে নূর হোসেন গতকাল প্রথমবারের সাংবাদিকদের উদ্দেশে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি তো হাসলেও দোষ।’ আদালতে নেওয়ার পর কাঠগড়ায় প্রথমবারের মতো দেখা হয় নূর হোসেনের সঙ্গে র‌্যাব-১১-এর সাবেক সিও তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ ও কোম্পানি কমান্ডার এম এম রানার।

কাঠগড়ায় এ চারচজন হঠাৎ কথায় মশগুল হয়ে ওঠেন। চারজনই এ সময় মুচকি হাসছিলেন। আদালতকে সাত খুন মামলার বাদী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, ‘আদালতের পিপি এ মামলা নিয়ে নীরবতা পালন করছেন। তার আচারণে সরকারি পক্ষ থেকে যে সুবিধা পাওয়ার কথা, তা আমরা পাচ্ছি না।’ এদিকে নূর হোসেনকে কারাগারে নেওয়ার পথে আদালতের বারান্দায় নূর হোসেন সাত খুন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের নাম নিয়ে বলেন, ‘সাখাওয়াত আমার কাছ থেকে অনেক সুবিধা নিয়েছে। এখন আমার বিরুদ্ধে কথা বলছে।’ অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন জানান, নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় ফতুল্লা থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়। আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় চন্দনের জামাতা ডা. বিজয় কুমার পালের করা মামলাটি অভিযোগ গঠনের জন্য ১১ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। গতকাল বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন এ আদেশ দেন।

আদালতে আসামীপক্ষে র‌্যাব-১১-এর সাবেক সিও লে. কর্নেল তারেক সাঈদসহ ১৩ জনের জামিনের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট ছরোয়ার মিয়া। অ্যাডভোকেট ছারোয়ার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি এবং বঙ্গবন্ধু যুব আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব। শুনানী শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। এ সময় আদালতে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা, নূর হোসেনসহ ২৩ আসামি উপস্থিত ছিলেন। যে ১৩ জনের জামিনের আবেদন করা হয়েছে তারা সবাই র‌্যাবের সদস্য। নূর হোসেনের পক্ষে আদালতে কোনো জামিনের আবেদন করা হয়নি। এর আগে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও তার চার সহযোগীসহ পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় সেলিনা ইসলাম বিউটির করা মামলায় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রধান আসামি নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামিকে হাজির করা হয়। বিচারক আশোক কুমার দত্ত বিচারের জন্য মামলাটি জেলা জজ আদালতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। মামলাটি শুনানির জন্য ১১ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

র‌্যাব-১১-এর সাবেক সিও লে. কর্নেল তারেক সাঈদসহ ১৩ জনের পক্ষে জামিনের আবেদন করা আইনজীবী ছরোয়ার হোসেন জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুর রহমান বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১১ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয়েছে। নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, ‘হত্যার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উচ্চ আদালতে আমরা আবেদন করেছি। এ আবেদনের শুনানি হচ্ছে। মঙ্গলবার (আজ) এ ব্যাপারে আদেশ পাব বলে আশা করছি।’ ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লা স্টেডিয়াম এলাকা থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts