September 22, 2018

আমি মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি

ঢাকাঃ  কানাডা থেকে শুক্রবার সকালে বাংলাদেশে পরিবারের কাছে আসেন তাহমিদ খান। বিকালে বন্ধু মাজহারুল ইসলাম তরুকে নিয়ে যায় গুলশানের ওই রেস্টুরেন্টে। কিন্তু ভাগ্যে এমন লেখা ছিল তা ভাবতেই পারেননি। জঙ্গিদের জিম্মি হয়ে পড়েন তারা। সারারাত মৃত্যুর প্রহর গুনেন। পৃথিবীর আলো আর দেখতে পাবেন না প্রায় নিশ্চিতই ছিলেন তাহমিদ ও তরু। ওদিকে সন্তানের এমন পরিস্থিতিতে একেবারে ভেঙে পড়েন তাহমিদের পিতা শাহরিয়ার খান। সারারাত রেস্টুরেন্টের পাশের গলির একটি বাসার নিচে বসে ছিলেন শাহরিয়ার ও রুনা দম্পতি।

মাঝে-মধ্যে রাস্তায় নেমে যাচ্ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে দেখতে পেলে তার ছেলেকে উদ্ধারের জন্য মিনতি করছিলেন। সকাল ৯ টা ২০ মিনিটে শাহরিয়ার খানের মোবাইল ফোনে একটি মেসেজ আসে। তাতে তাহমিদ লিখে তারা সুস্থ রয়েছেন। নিরাপদে রয়েছেন। এ সময় ওই দম্পতি কান্নায় ভেঙে পড়েন। শাহরিয়ার খান জানান, তার একমাত্র ছেলে তাহমিদ খান (২২)। কানাডায় জীববিজ্ঞানে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে। শুক্রবার ভোরে সে কানাডা থেকে দেশে আসে। তাদের বাসা বসুন্ধরার কূটনৈতিক এলাকায়। তাহমিদ দেশে এসেই কোনো বিশ্রাম না নিয়ে সে তার বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় দেখা করতে যায়। তিনি জানান, কয়েকদিন বিশ্রাম নেয়ার পর বাসার বাইরে যাওয়ার জন্য তাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু, সে আমাদের কথা শোনেনি। বিকাল বেলায় তাহমিদ তার বন্ধু তরুকে নিয়ে গুলশানের ওই হোটেলে খেতে যায়।

রাত ৯ টার সময় তাকে মোবাইলে ফোন দিলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। প্রথমে মনে করেছিলাম যে, হয়তো ফোন এমনিতেই বন্ধ আছে। কিন্তু, পরে ধারণা সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। তিনি আরও জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাহমিদ আমাকে মোবাইলে একটি বার্তা পাঠায়। ওই বার্তায় সে উল্লেখ করে কয়েকজন সস্ত্রাসী হোটেলে হামলা করেছে। তাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য সে এবং তার বন্ধু এবং অন্যরা একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়েছে। এরপর টেলিভিশনের স্ক্রলে দেখতে পায় ওই হোটেলের ভয়াবহ হামলার খবর। উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা বেড়ে যায়। তিনি জানান, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে যাই। তাহমিদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। রাত যতো বাড়তে থাকে ততো শংঙ্কা বাড়তে থাকে। কমান্ডো অভিযানের সবাই তাহমিদের বাবা ও মা আত্মীয়-স্বজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তাহমিদ তার বাবাকে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মোবাইল ফোনে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে সে নিরাপদে আছে বলে জানায়।

তাহমিদের বন্ধু তরুর ভাই তানজীব আহমেদ জানায়, তরু অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশুনা করে। কয়েক মাস আগে সে দেশে এসেছে। তরু এবং তাহমিদ খান একসঙ্গে তারা গুলশানের একটি ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে পড়াশুনা করেছে। সেই সূত্র ধরে তারা ভালো বন্ধু। তাহমিদ দেশে এসে তরুকে ফোন দিয়ে ওই হোটেলে নিয়ে যায়। এরপর তারা সেখানে আটকাপড়ে। সকালে অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাদের উদ্ধার করে তাদের মধ্যে তাহমিদ ও তরুও রয়েছে। তাদের পেয়ে পিতা মাতা জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আর তাহমিদ বলেন, আমি মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি।

Related posts