September 26, 2018

আমি দ্বিতীয়বার মা হারা হয়েছি—তারানা হালিম

অনেকটা দুঃখ নিয়ে চলে গেলেন আসমা কিবরিয়া। কারণ তিনি তার স্বামীর হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেননি। তিনি সুষ্ঠু বিচারের ব্যাপারে সোচ্চার ছিলেন এবং একটি ব্যতিক্রিম ধর্মী প্রতিবাদও করে গেছেন জীবিত থাকা অবস্থায়। স্বামী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার হত্যার বিচার দেখে যেতে না পারার কষ্ট তাকে যেমন ব্যতিত করেছে তেমনি আমরাও ব্যতিত।

শুক্রবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর এমিরেটাস আনিসুজ্জামান নিজের আক্ষেপের কথাটি এভাবেই প্রকাশ করেন।

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আসমা কিবরিয়া তার স্বামী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার অগ্রগতি সর্ম্পকে জানতে আমাকে দুইবার উচ্চতর আদালতে পাঠিয়েছেন। তিনি জানতে চাইতেন- সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে কি না বা বিচার প্রক্রিয়া কেমন হচ্ছে? সে সময় আমরা বার বার বলেছি হামলাকারীর সাথে সাথে যারা গ্রেনেড সংগ্রহ করেছে, অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছে এবং নেপথ্যে কলকাঠি নেরেছে তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় আদৌ তা হয়নি।’

পিএসসির চেয়ারম্যান একরাম আহমেদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘শান্তির স্বপক্ষে নীলিমা কর্মসূচির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবেও আন্দোলন করা যায় আসমা কিবরিয়া তা আমাদের শিখিয়ে গেছেন।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ‘আমি আমার খালার (আসমা কিবরিয়া) মৃত্যুর পর বুঝতে পেরেছি আমি দ্বিতীয়বার মা হারা হয়েছি। অসুস্থ থাকা অবস্থায়ও তিনি আমাদের খোঁজ খবর নিতেন। তবে খালু হত্যার বিচার দেখতে না পারার কষ্ট তার মাঝে সব সময় ছিল।’

আসমা কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া মা সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানান, আমেরিকাতে একবার চিত্র প্রর্দশনীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামী শিল্পীদের আঁকা পনেরশ ছবির প্রর্দশনী হয়। কিন্তু সেখান থেকে মাত্র তিনটি ছবি বিক্রি হয়েছিল তার মধ্যে একটা ছিল আমার মা আসমা কিবরিয়ার।

স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক সামসুজ্জামান খান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালী উর রহমান, শাহিনা আনাম, শরিফা মোসাব্বির, আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার, আসমা কিবিরয়ার মেয়ে ড. নাজলী কিবরিয়া, পুত্রবধূ সিমি কিবরিয়া, নাতনি মাধুরী কিবরিয়া ও গ্রেটার লন্ডন নবীগঞ্জ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তুহিন চৌধুরী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, আসমা কিবরিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৯ নভেম্বর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। আসমা কিবরিয়ার জন্ম ১৯৩৭ সালে। তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার সহধর্মিনী ছিলেন। ছেলে রেজা কিবরিয়া একজন অর্থনীতিবিদ এবং মেয়ে নাজলী কিবরিয়া বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের চেয়ারম্যান। স্বামী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার কবরের পাশে দাফন করা হয় বরণ্যে এই শিল্পীকে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts