September 20, 2018

আমি দুঃখিত মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’

Shariair Kabir

‘আমি দুঃখিত মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তাদের এজেন্ট ও দোসরদের দিয়ে এদেশে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আইএসআই পাকিস্তানের সরকারের চেয়েও শক্তিশালী। আইএসআইর সন্ত্রাসী ক্ষমতাকে খাটো করে দেখবেন না। তারা পাকিস্তানে জঙ্গি উৎপাদন করছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি করছে।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে সম্প্রতি বিদেশি নাগরিক, মুক্তচিন্তার লেখক, প্রকাশক হত্যা ও পুলিশের ওপর হামলার দিকে ইংগিত করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম জেলা নির্মূল কমিটি আয়োজিত ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং চলমান সন্ত্রাস: সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি প্রধান আলোচক ছিলেন।

নাশকতা রোধ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবির বলেন, আইএসআই’র প্রধান এজেন্ট সাকা চৌধুরীসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করা এবং একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই আইএসআই, জামায়াত-বিএনপি নাশকতা সৃষ্টি করছে। ছয় মাসে পাকিস্তান থেকে ২০০ জঙ্গি এসেছে। এর মধ্যে মাত্র চারজন গ্রেফতার হয়েছে। বাকিরা চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে।

১ হাজার ১০০ মানুষের বিপরীতে ১ জন পুলিশ অপ্রতুল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, সংখ্যা বাড়াতে হবে, সামরিক ট্রেনিং দিতে হবে। জামায়াত-জঙ্গিরা এখন ‘আক্রমণ করো, হত্যা করো, পালিয়ে যাও’ নীতি গ্রহণ করেছে। এখন সরকারকে বলবো আত্মরক্ষা নয় পাল্টা আক্রমণ করতে হবে।

অ্যামেনেস্টি টাকা খেয়ে জামায়াতের বিবৃতি দিচ্ছে মন্তব্য করে শাহরিয়ার কবির বলেন, বিএনপির স্বাধীন সত্তা নাই। জামায়াত যা বলছে বিএনপি তা-ই করছে। দেশ, সংবিধান, বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

একাত্তরে চট্টগ্রামের আহমদ শফী মুজাহিদ বাহিনী গঠন করেছিল উল্লেখ করে শাহরিয়ার বলেন, তার বিচার কেন হবে না? একাত্তরে মন্দিরকে মসজিদ বানিয়েছেন তিনি। ৮৪ জনের তালিকা শফীরা দিয়েছিল। তিনি হুকুমের আসামি। কেন ব্লগার খুনের আসামি হিসেবে তার বিচার হবে না। প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার উৎসব সবার বলার পর শফী ফতোয়া জারি করেছিলেন, এ ধরনের কথা বললে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে। শফীদের সঙ্গে তোয়াজ, সমঝোতা, আপস করে হবে না।

তিনি অবিলম্বে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল পুনরুজ্জীবিত করার এবং জামায়াতকে দল হিসেবে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

সংগঠনের জেলা আহবায়ক অ্যাডভোকেট সীমান্ত তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল। সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি।

আলোচনায় অংশ নেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রাম সভাপতি ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডার মো. সাহাবুদ্দীন, নারীনেত্রী নূরজাহান খান, শিক্ষাবিদ প্রফেসর হাসিনা জাকারিয়া বেলা ইসলাম ও যুদ্ধাপরাধী সাকার মামলার অন্যতম সাক্ষি মোরশেদ আনোয়ার।

প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, ১৯৭৩ সালে জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ’৭১-এর গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য বঙ্গবন্ধুর সরকার সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনালস) আইন’ প্রণয়ন করেছিলেন-যে আইন অনুযায়ী প্রায় চার দশক পর বাংলাদেশে ’৭১-এর ঘাতক দালালদের বিচার আরম্ভ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকান্ডের পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়া ’৭২-এর সংবিধান পরিবর্তন করে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানাবার জন্য ধর্মের নামে রাজনীতি চালু করেছেন, যার মাশুল এখনও জাতিকে দিতে হচ্ছে।

কাজী মুকুল বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজ সব সময় মহাজোট সরকারের পাশে আছে। জামায়াত-বিএনপির চলমান সন্ত্রাস গৃহযুদ্ধের নামান্তর। সরকারকে অবিলম্বে দেশ ও জাতি বিরোধী এই অপশক্তিকে সর্বাত্মক আক্রমণে যেতে হবে। এখন আর আত্মরক্ষার সময় নেই।

শওকত বাঙালি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশে যাবতীয় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল ধর্মের দোহাই দিয়ে। বর্তমানেও একই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমাজ ব্যবস্থা গঠন ও কায়েম।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সীমান্ত তালুকদার বলেন, সময় এখন প্রতিরোধের এবং প্রতিশোধের। দেশকে রক্ষার একমাত্র অতন্দ্র প্রহরী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে যেকোনো মূল্যে শক্তিশালী রাখতে হবে।

উৎসঃ   বাংলানিউজ24

গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts