September 22, 2018

‘আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই’

ঢাকাঃ  বাটকেখালির সুমন স্ত্রীকে ফিরে পেতে চান। কিন্তু পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এক সময় প্রশ্নপত্র ফাঁস করে সমালোচিত হওয়া সাতক্ষীরার মুন্সিপাড়ার স্বঘোষিত পীর আবু আয়ুব আনসারী ওরফে জীবন স্যার। নিজের দাওয়াখানা টিকিয়ে রাখতে তিনি তাঁর সংসারকে বিচ্ছেদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সাতক্ষীরা পৌরসভার বাটকেখালির আহাজউদ্দিন সুমন এই অভিযোগ করেন।

সুমন অভিযোগ করেন, গরিব পরিবারের ছেলে হওয়ায় সাতক্ষীরা শহরের কথিত পীর আবু আয়ুব আনসারী ওরফে জীবন স্যারের দাওয়াখানায় পেটে ভাতে কাজ করতেন তিনি। একই স্থানে সেখানে কাজ করতেন জীবন স্যারের ধর্মবোনের মেয়ে কুসুম খাতুন। কাজ শুরুর প্রায় চার বছর পর সুমন ও কুসুমের মধ্যে ঘনিষ্টতার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে জীবন স্যারই তাঁকে কুসুমের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

একই সঙ্গে জীবন স্যারের শর্ত ছিল বিয়ের পরও স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই তাঁর দাওয়াখানায় থাকতে হবে এবং দেনমোহর হবে দেড় লাখ টাকা। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হলেও জীবন স্যারের শর্তে রাজি হননি সুমন। তখন জীবন স্যার বলেছিলেন, তাঁরা চলে গেলে তাঁর দাওয়াখানা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই নতুন লোক ঠিক করা পর্যন্ত তাঁদের থাকতে হবে। এরপর কেউই পরিণত বয়সের না হলেও ব্রহ্মরাজপুরের রেজিস্ট্রার রওশন আলমের সহযোগিতায় ২০১৪ সালের ১০ নভেম্বর ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে তাঁদের বিয়ে দেন জীবন স্যার।

সুমন জানান, বিয়ের কিছুদিন পর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে কুসুম। আর এতেই বাধা হয়ে দাঁড়ান জীবন স্যার। ছেলের বউ কুসুমের অনুরোধে সুমনের বাবা তাঁদের নিতে এলে জীবন স্যার কুসুমকে না দিয়ে বলেন তালাকনামা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর থেকে চার মাস আলাদা সুমন ও কুসুম। সুমনের পরিবার অনেক চেষ্টা করেও কুসুমকে আর শ্বশুরালয়ে ফেরাতে পারেনি। কুসুমের বাবার বক্তব্য জীবন স্যার বললেই তারা কুসুমকে শ্বশুরালয়ে পাঠাবে, অন্যাথায় নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে সুমন বলেন, ‘দুই বছর পর বলে আমি নাকি পাগল। এজন্য আমার কাছে মেয়ে পাঠাতে চায়না কুসুমের বাবা। আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই।’

এদিকে জীবন স্যারের পরামর্শে কুসুমের বাবা অজিহার সম্প্রতি তাঁর মেয়ের দেনমোহর আদায়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিচ্ছেন। এ নিয়ে কয়েকবার শালিস হলেও সেখানে উপস্থিত হন না জীবন স্যার। কুসুমের পরিবার এখন চায় দেনমোহরের টাকা। আর সেজন্য সুমনকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে তারা। অথচ সুমন তাঁর স্ত্রীকে ফেরত চান। এ ব্যাপারে জীবন স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু বলতে পারব না। কুসুমের আব্বার সঙ্গে কথা বলেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘ওরা ঝামেলা করছিল। তাই বাড়ি থেকে সরিয়ে দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে কুসুমের বাবা সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও মুঠোফোনে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পরীক্ষার ইংরেজি প্রশ্নপত্র ফাঁস করে একসময় প্রাইভেট পড়াতেন জীবন স্যার। তাঁর প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি আগাম ফাঁস হয়ে গেলে প্রাইভেট পড়ানোর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। এর কিছুদিনের মধ্যেই নতুন রূপে পীর হিসেবে আবির্ভাব ঘটে তাঁর।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১১ মে ২০১৬

Related posts