December 11, 2018

আমিরের প্রথম স্ত্রী রীনা যেমন দেখতে হয়েছেন

fবিনোদন ডেস্ক ::এক সময়ে রীতিমতো সুন্দরী ছিলেন। বলিউডের সঙ্গে সামান্য সংযোগও ছিল। সুপারহিট সিনেমা ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এ ছোট্ট একটি রোলে তাকে অভিনয় করতেও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু বলিউড তাকে চিনত অন্য পরিচয়ে।

শুধু তাই নয় বলিউড কাঁপানো সুপারস্টারের স্ত্রী তিনি। আমির খানের প্রথম স্ত্রী সেই রিনা দত্ত এখন একেবারে বদলে গিয়েছেন। তার আগের চেহারার সঙ্গে বর্তমান চেহারার প্রায় কোনো মিলই নেই।

আমির ছোটবেলা থেকেই বলিউডের সঙ্গে যুক্ত। বড় হওয়ার পর নতুন করে তৈরি হচ্ছিলেন বলিউডে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে। সেই সময়েই রিনার প্রেমে পড়েন আমির। ১৯৯৯ সালে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই প্রেমকাহিনি সবিস্তার জানিয়েছিলেন খোদ আমির। জানিয়েছিলেন, রিনা ছিলেন আমিরের প্রতিবেশী-কন্যা। দুই পরিবারের বাসস্থান ছিল পাশাপাশি। আমিরের ঘর আর রিনার ঘরের জানালা ছিল একেবারে মুখোমুখি। রিনাকে দেখার জন্য জানলায় দাঁড়িয়ে থাকতেন আমির। দেখতে দেখতে কখন যে মেয়েটিকে ভালবেসে ফেললেন! প্রোপোজ করলেন রিনাকে। কিন্তু রিনা আমিরের ভালবাসা স্বীকার করতে নারাজ। বারবার অনুরোধেও মেয়েটির ম‌ন গলল না। শেষে নিজের রক্ত দিয়ে প্রেমপত্র লিখলেন আমির। সেই প্রেমপত্রই রিনার মন জয় করে ফেলল।

আমিরের প্রথম উল্লেখযোগ্য অভিনয় ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এ। সিনেমাটি রিলিজ করে ১৯৮৮ সালে। তার দু’বছর আগেই রিনাকে বিয়ে করেছিলেন আমির। সেই বিয়ের গল্পও প্রায় সিনেমার মতোই। বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের অফিসে পৌঁছান দু’জনে। বিয়ের করে আবার ফিরে যান যে যার বাড়িতে। আমিরের বয়স তখন ২১ বছর। আর রিনার ১৯। রিনা তখনও পড়াশোনা করছেন। আমিরের রোজগারও সামান্য। ফলে সে সময়ে বিয়ের খবরটা বাড়িতে গোপন রাখবেন বলেই স্থির করেছিলেন আমির-রিনা। বিয়ের পর বহু দিন পর্যন্ত দু’জনের বাড়িতে কেউ জানতেই পারেননি যে, আমির আর রিনা বিয়ে করেছেন।

১৯৮৮-তে ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ আমির খানকে রাতারাতি সুপারস্টার করে তোলে। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চাও শুরু হয়। বলিউড জেনে ফেলে, দু’বছর আগেই বিয়ে করেছেন আমির খান। ‘পাপা ক্যাহতে হ্যায়’ গানে ক্যামেরার সামনে সামান্য সময়ের জন্য মুখও দেখিয়ে ফেলেছেন রিনা। কিন্তু ওইটুকুই, ‘কেয়ামত…’-এরপরে ক্যামেরার সামনে আর দেখা যায়নি রিনাকে।আমির-রিনার দাম্পত্যের প্রথম কয়েকটা বছর সুখেই কাটে। জুনেইদ নামের পুত্রসন্তান এবং ইরা নামের কন্যাসন্তানের বাবা-মা হন দু’জনে। তারপর আস্তে আস্তে দু’জনের দূরত্ব বাড়তে থাকে। ২০০১ সালে রিলিজ করে আমিরের ছবি ‘লগান’। শোনা যায়, এই সময়েই বর্তমান স্ত্রী কিরণের সঙ্গে পরিচয় হয় আমিরের। আলাপ ক্রমশ ভালবাসায় গড়ায়। কিরণের সঙ্গে লিভ-ইন শুরু করেন আমির। ২০০২ সালে রিনাকে ডিভোর্স দেন আমির। দুই সন্তান থেকে যায় রিনার কাছেই। ২০০৫-এ আমির কিরণকে বিয়ে করেন।

তারপরেও কেটে গেছে বেশ কয়েকটা বছর। মুম্বাইয়ের বান্দ্রার নার্গিস রোডের একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকেন রিনা দত্ত। সম্প্রতি কোনো সংবাদমাধ্যমের এক চিত্রগ্রাহকের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে রিনা দত্তের বর্তমান চেহারা। রিনার সেই ছবির সঙ্গে তরুণী রিনার মিল পাওয়া কঠিন। দেখা যাচ্ছে, বেজায় মুটিয়ে গিয়েছেন রিনা। মাথার চুলে পাক ধরেছে। চেহারায় এসেছে বার্ধক্যের ছাপ। এখন তার বয়স ৫০ বছর। কিন্তু দেখে বয়স যেন আরও বেশি বলেই মনে হয়।

সংবাদমাধ্যমে রিনার এই ছবি প্রকাশিত হওয়ার পরে নতুন জল্পনা দানা বেঁধেছে। অনেকেই বলছেন, একাকিত্বের কারণে আসলে ডিপ্রেশানে ভুগছেন রিনা। সেই কারণেই এককালের তন্বী রিনা এভাবে মুটিয়ে গিয়েছেন। প্রকৃত সত্যটা যে কী, তা একমাত্র রিনাই জানেন।

Related posts