September 25, 2018

আমার কাছে নানা প্রেরণা ও খালা রোল মডেল: টিউলিপ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সামনে থেকে না দেখলেও ছোটবেলায় মা-খালার কাছে তার গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হয়েই রাজনীতিতে আগ্রহী হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার নাতনি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক।বুধবার ঢাকার উত্তরায় ‘ইন্সপিরিশনাল উইমেন’ শীর্ষক এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা তুলে ধরেন তিনি।

ব্যবসা, সাংবাদিকতা ও রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের সফল নারীদের সঙ্গে স্কুল ছাত্রীদের যোগাযোগ ঘটাতে প্রথমবারের মতো এই কর্মসূচির আয়োজন করে স্কলাসটিকা স্কুল কর্তৃপক্ষ, যাতে রাজধানীর নয়টি স্কুলের ছাত্রীরা অংশ নেয়।
স্কলাসটিকা স্কুলের এক সময়ের ছাত্রী টিউলিপ অনুষ্ঠানের শুরুতে আজকের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকে জানতাম রাজনীতি করতে চাই, এমপি হতে চাই।

“সবাই রাজনীতি করবে না, যা করতে চান মনোযোগ দিয়ে করবেন।”বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে শেখ রেহানার সন্তান টিউলিপ সিদ্দিক ২০১৫ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের এমপি নির্বাচিত হন। এরইমধ্যে বিরোধী দলে থাকা লেবার পার্টির ছায়া সরকারেও জায়গা করে নিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ।
নির্বাচনে জয়ের পর এক সাক্ষাৎকারে টিউলিপ বলেছিলেন, তার খালা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেই তিনি ‘রাজনীতি শিখেছেন’।

লন্ডনে ১৯৮২ সালে টিউলিপের জ্ন্ম হয়। তার জন্মের বেশ কয়েক বছর আগে ১৯৭৫ সালে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিদেশে থাকায় সে সময় প্রাণে বেঁচে যান টিউলিপের মা শেখ রেহানা ও খালা শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে টিউলিপ বলেন, “বড় হয়ে নানার কথা শুনে, যুদ্ধের কথা শুনে রাজনীতি করব বলে ভেবেছি। নানা মানুষের জন্য কী কী কাজ করতেন, দেশের জন্য কী কী ভাবতেন- এসব গল্প শুনেছি মা-খালার কাছে।”বঙ্গবন্ধুর গল্প থেকে অনুপ্রেরণা পেলেও খালা শেখ হাসিনাকেই নিজের রাজনীতির ‘রোল মডেল’ মনে করেন এই ব্রিটিশ এমপি।
“মা-খালাকেও সব সময় দেখেছি, বাংলাদেশের মানুষের ভালো-মন্দ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে। খালা আমার রোল মডেল ছিলেন সব সময়।”ঢাকার স্কলার্সটিকা স্কুলে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন টিউলিপ সিদ্দিক, সঙ্গে স্বামী ক্রিস পার্সি ঢাকার স্কলার্সটিকা স্কুলে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন টিউলিপ সিদ্দিক, সঙ্গে স্বামী ক্রিস পার্সি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা আছে কিনা- এমন প্রশ্নে টিউলিপ বলেন, “ভবিষ্যতে কী হয় বলা যায় না। মাত্র তো এমপি হলাম, পাঁচ বছর পর জিজ্ঞেস করেন কী হয়।
“আমি এখান থেকেও রাজনীতি শুরু করতে পারতাম। রাজনীতি হচ্ছে মানুষকে সাহায্য করার জন্য, যে কোনো দেশ থেকেই মানুষকে সাহায্য করা যায়।”

সুযোগ পেলে যুক্তরাজ্যে থেকেও বাংলাদেশের জন্য কাজ করার আগ্রহের কথা জানান বঙ্গবন্ধুর নাতনি।লন্ডনে জ্ন্ম হলেও কৈশোরে কিছু দিন বাংলাদেশে কাটিয়েছেন টিউলিপ। সে সময় স্কলাসটিকায় পড়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি স্বপ্নেও ভাবি নাই, আমি এখানে ফেরত আসব। খুব ভালো লাগছে।”এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরে আমার স্বামীকে বলেছি- যখন প্রথম যাব, স্টুডেন্টদের সঙ্গে কথা বলব।”

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরে ছাত্রীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ায় উৎসাহ দেন টিউলিপ।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীসহ সংসদের স্পিকারও নারী। তোমরা ভুলে যেও না, ব্রিটেনেও এটা নাই।”

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts