September 20, 2018

‘আমার কষ্ট লাগছে না, সিলডা তারাই মারইরা দিছে’

ঢাকাঃ  সুফিয়া আক্তার বয়স পঞ্চাশের কোটায়। হতাশার ছাপ নিয়ে ভোট কেন্দ্র থেকে বের হলেন তিনি। কেমন ভোট হলো এমন প্রশ্ন করতেই দীর্ঘ নি:শ্বাস নিয়ে বলেন, ‘আমার আর কষ্ট করুন লাগছে না, নৌকায় সিলডা তারাই মাইরা দিছে।’

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের লংগাইর ইউনিয়নের চার বাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন সুফিয়া আক্তার।

সকাল থেকে গফরগাঁও উপজেলায় ৪ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোটাররা ঢোকার পর আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা চেয়ারম্যান পদের ব্যালটটি ভোটারদের কাছ নিয়ে নৌকায় সিল দিয়ে তারাই ব্যালট বাক্সে ফেলছেন। আবার কিছু কেন্দ্রে আওয়মী লীগ নেতাকর্মীদের সামনে নৌকা মার্কায় সিল দিচ্ছে সাধারণ ভোটাররা।

পরে ভোটাররা শুধু ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা পদের ব্যালট পেপারটি গোপন বুথে গিয়ে ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্সে ফেলতে পারছেন। এসব কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর কোন এজেন্টকে দেখা যায়নি।

হাতেমতাই উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়েও একই অবস্থা দেখা যায়। সেখানে তাজউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠই তবে তারা নিয়ম করছে যে নৌকায় সিলডা খালি হেগর সামনে দিয়ন লাগবো। কি আর করমু হেগর সামনেই মারছি সিল।’

এসব ইউনিয়নের প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন, আমরা নিরুপায় আমাদের কিছুই করার নেই।

ভোট বর্জনঃ
নৌকার পক্ষে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল, অনিয়মের অভিযোগে লংগাইর ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল হামিদ, যশোরা ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী ইমাম খসরু, পাইতল ইউনিয়নে মো. নুরুজ্জামান, বারবাড়িয়া ইউনিয়নে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন।

লংগাইর ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল হামিদ অভিযোগ করেন, ১০টি ভোটকেন্দ্রে ভোট শুরু হওয়ার পরই স্থানীয় সাংসদ বাবেলের নির্দেশে এপিএস মাসুদুর রহমান সোহেলের নেতৃত্বে আ’লীগ প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনের সমর্থকরা অস্ত্র নিয়ে আ’লীগের ক্যাডাররা আমার এজেন্টদের বের করে জাল ভোট দিয়েছে। এসময় এজেন্ট কামাল উদ্দিনকে কেন্দ্র রেখে বের করে দিয়ে তাকে বেধে রেখে মারধরও করা হয়।

Related posts