November 17, 2018

আবারো স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধন হচ্ছে

Municipal Election

ডেস্ক রিপোর্ট: ডিসেম্বরের মধ্যে দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকারের পৌরসভা নির্বাচন করতে সব দিক থেকে প্রস্তুত ইসি। তার মধ্যেই বাধ সেজেছে আইন মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা ভেটিং ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনে আবার সংশোধন আনা নিয়ে। বাদ দেয়া হচ্ছে পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ। শুধুমাত্র মেয়র পদেই দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হচ্ছে।

৫ অক্টোবর (গত বৃহস্পতিবার) নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতে মন্ত্রী-এমপিদের সরকারি সুবিধা ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় সফর ও প্রচারণার সুযোগ রেখে প্রস্তাবটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত বিধিমালা পাঠাতে পারেনি ইসিতে।

সরকার পৌরসভা নির্বাচনে কী ধরনের বিধিমালা চাচ্ছে এ বিষয়ে এখনও অন্ধকারের মধ্যে আছে ইসি কর্মকর্তারা। বিধিমালা হাতে না পাওয়ায় ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য পৌর নির্বাচনে তফসিলও ঘোষণা করতে পারছে না ইসি।

জানুয়ারিতে নির্বাচন টেনে নেয়ার সম্ভাবনা’ আছে কি না জানতে চাইলে ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখনও পর্যন্ত ডিসেম্বরে পৌর নির্বাচন করতে আগ্রহী। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিক পর্যন্ত বিধিমালার জন্য অপেক্ষা করব। এরপর অন্য ডিসিশন নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মনে করেছিলাম এ সপ্তাহের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিধিমালা পাব। সে হিসেবে এ সপ্তাহেই পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতিও ছিল। যেহেতু বিধিমালা আসেনি, সেহেতু আশা করছি আগামী সপ্তাহে বিধিমালা পাব। আর বিধিমালা পেলেই তফসিল ঘোষণা করা হবে।

তবে পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে জটিলতার মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আইনে আবার সংশোধনীর ইঙ্গিত দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এই আইনে পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, সব ধরনের সংশোধনী শেষে ১৮ নভেম্বর এ সংক্রান্ত আইন সংসদে পাস হবে। তখনই সবাই জানবে কীভাবে পৌরসভা নির্বাচন হচ্ছে। একবার সংসদে বিল পাস হলে আর কোনো বাধা নেই। স্থানীয় সরকারের মেয়র পদে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আগের মতো নির্দলীয়ভাবে প্রার্থিতার সুযোগ পাবেন বলেও জানান কর্মকর্তারা।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, আইন সংশোধনের প্রক্রিয়ার কারণে আবারো বিধিমালার ভেটিং আটকে রয়েছে। বিধিমালা জারির সব প্রক্রিয়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদি বুধ-বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন, বিধিমালা জারি হয় তবে দ্রুত তফসিল দিয়ে ২৯-৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট শেষ করা যাবে। তাহলে তফসিল ঘোষণার পর সময় পাওয়া যাবে অন্তত ৪০ দিন।

ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পৌরসভা নির্বাচন অধ্যাদেশ অনুযায়ী মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে দল মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে অংশ নেবেন। বাকিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন।

এ অধ্যাদেশের আলোকে ইসির পাঠানো নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনী আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য রয়েছে।

তথ্যমতে, বর্তমানে সারাদেশে পৌরসভার সংখ্যা ৩২৩টি। এর মধ্যে ২০১১ সালে ২৬৯টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল সাবেক ড. শামসুল হুদা কমিশন। তবে এবার স্থানীয় সরকারের দেয়া তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন হবে ২৪৫টি পৌরসভার।

গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts