November 14, 2018

আবারো নিরপেক্ষ নির্বাচনের তাগিদ দিল ইইউ

318
ঢাকাঃ   একের পর এক বিদেশি দেশগুলো বাংলাদেশে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছেন। তার বারবারই বলে এসেছেন ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন এখনও তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না।

এছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনাররা বলেছিলেন, আমরা নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন দেশবাসিকে উপহার দেব। কিন্তু কমিশন সেরকম কোন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে পারেন নি। এজন্য নির্বাচন কমিশনও বিদেশিরা ঢেলে সাজাতে বলেছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আবারো সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন। আমাদের এখন সময় হয়েছে ঐক্যবদ্ধ হবার। ১৬ জানুয়ারি পুরানা পল্টনে ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন মিলনায়তনে যুব জাগপার ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংলাপ আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই বর্তমান অস্থিরতার নিরসন করতে পারে বলেও অভিমত দিয়েছেন নাগরিক সমাজ।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে এখনই একটি গ্রহণযোগ্য ‘নির্বাচনী পন্থা’ (মেকানিজম) বের করার তাগিদ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ঢাকা সফররত ইরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দল তাদের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে এ তাগিদ দেন।

এর আগেও জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ সকল আন্তর্জাতিক ফোরাম সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলো।

বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া ব্লুম বার্নিকাট। ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি উঠে এসেছে। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কোন আলোচনা হয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা সরকারের ব্যাপার। সরকার চাইলে নির্বাচন দিতে পারে। তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, গণতন্ত্র ছাড়া টেকসই উন্নয়ন হবে না। বাংলাদেশে বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়নি।

এরূপ নির্বাচনে বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও সন্তুষ্ট হতে পারেনি। সকলে সংলাপ, সংলাপ করে মুখে ফেনা তুললেও সরকার এখনও সেদিকে যাচ্ছে না।

বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা মামলা হামলায় পর্যুদস্ত হয়ে এখনও ফেরারি জীবন যাপন করছেন।

রাজনৈতিক কারণে বিরোধীদলের বড় বড় অনেক নেতাকর্মীরা জেলে আছে।

রাজনীতিবিদরা মানুষের সেবার ব্রত নিয়ে রাজনীতিতে আসেন। দেশে সুষ্ঠু রাজনীতি চালু থাকলে কাউকে রাজনৈতিক কারণে হয়রানির শিকার হতে হতো না।

অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এখনই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পন্থা (মেকানিজম) খুঁজে বের করার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকা সফররত ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদল।

৩ দিনের সফরের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার বিকালে প্রতিনিধি দলের প্রধান ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (ইপি)’র দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক কমিটির চেয়ার জ্যঁ ল্যাম্বার্ট এ তাগিদ দেন।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নিজের উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, আমি মনে করি একটুকু বলাই আমার জন্য সঠিক হবে যে, এখানে সংবাদপত্রের কয়েকজন সম্পাদকের বিষয়ে যা ঘটছে তা নিয়ে ইইউ উদ্বিগ্ন। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন ল্যাম্বর্টি।

এ সময় প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্য এবং ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে ইপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে তারা বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পোশাকশিল্পের কর্ম-পরিবেশ, ব্লগার ও মুক্তমনা লেখকদের নিরাপত্তা, ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সেখানে প্রতিনিধিরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন জানিয়ে প্রতিনিধিদলের প্রধান বলেন, মুক্তমত প্রকাশের কারণে এখানে অনেকের জীবন হুমকিতে পড়েছে, অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। আমরা তাদের রক্ষার আহ্বান জানিয়েছি। বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সংবাদমাধ্যমের ‘স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া’ নিয়ে গত ২৪ শে নভেম্বর ইউরোপীয় পার্লামেন্টে যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে তা সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন বলে জানান, প্রতিনিধিদলের প্রধান। ওই রেজুলেশনে বাংলাদেশে বন্ধ সব মিডিয়া হাউজ খুলে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনের সূচনা বক্তৃতায় ইপি প্রতিনিধি দলের প্রধান বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের মারাত্মক উদ্বেগ রয়েছে। এখানে বেশ কজন ব্লগার ও লেখককে হত্যা করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছি। শুক্রবারই তারা ফিরে যান নিজ দেশে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts