September 20, 2018

আবহাওয়া পরিবর্তনে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত প্রচুর শিশুরোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি

Matlab-Haspatal-e1এ কে আজাদ, চাঁদপুর : চাঁদপুর আড়াই’শ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগ ও মতলব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমছে না শিশুরোগীর চাপ। নিউমোনিয়া, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে একের পর এক হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে বিভিন্ন বয়সের শিশুরোগীরা।

চিকিৎসকরা মনে করছেন আবহাওয়া পরিবর্তনে দিনে গরম ও রাতে শীতজনিত কারণে নিউমোনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। তবে চিকিৎসকরা এ ব্যাপারে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্যে সবাইকে পরামর্শ দিচ্ছেন ।

খবর নিয়ে জানা যায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একের পর এক বিভিন্ন বয়সের শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গুলোতে ভর্তি হয়েছেন। এদের বেশির ভাগ শিশুর বয়সই দুই বছরের নিচে বলে জানা গেছে।

এসব রোগীদের চাপের কারণে এদদিকে যেমন চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ডাক্তার ও নার্সরা অন্যদিকে বেড সংকটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ভর্তিকৃত রোগী ও অভিভাবকদের।

গত ক’দিন ধরেই চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের তৃতীয় তলায় শিশু বিভাগে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই বিভাগের নার্সদের রুমের সামনে ভিড় জমিয়ে চিকিৎসা সেবার জন্য অপেক্ষা করছে অভিবাবকরা। এবং হাসপাতালের শিশু বিভাগের সবক’টি বিছানা পূর্ন হয়ে মেঝেতে ও রোগীদের জন্য বিছানা পাতা হয়েছে ।

অপরদিকে জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলা ও উত্তর উপজেলায় শিশুদের মাঝেও ব্যাপক হারে নিউমোনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা গেছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ শিশু ভর্তি হচ্ছে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এছাড়া প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে দেখা যায়।

খবর নিয়ে জানাযায় চাঁদপুর সদর হাসপাতালে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ৫ দিনে প্রায় আড়াই’শ জন শিশুরোগী ভর্তি হয়েছে। শহর এবং জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এসব রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ডাক্তার ও নার্সরা।
চাঁদপুর আড়াই’শ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের রেজিস্টেশন খাতা দেখে ডিউটিরত নার্সরা জানায়, গত ৪ অক্টোবর থেকে ৭ অক্টোবর ২’শ ১৪ জন শিশুরোগী ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে গত ৩ অক্টোবর ৬০ জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। ৪ অক্টোবর ভর্তি হয়েছে ৫৫ জন, ৫ অক্টোবর ভর্তি হয়েছে ৩৯ জন, ৬ অক্টোবর শুক্রবার ২৭ জন এবং ৭ অক্টোবর শনিবার দুপুর ২ টা পর্যন্ত ৩৪ জন শিশুরোগী ভর্তি হয়েছে বলে তারা জানান।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বেশীরভাগ শিশু রোগীরা নিউমোনিয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি বমিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়াও অনেক শিশু রোগীকে অভিভাবকরা হাসপাতালে নিয়ে এসে ডাক্তার দেখিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে চলে যান।

হাসপাতালের বেডের চাইতে অনেক বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় তাদেরকে ফেøারে ও মেঝেতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিছানা সংকটের কারনে মেঝের একটি বিছানাতে দু’জন করে রোগীকে চিকিৎসাসেবা হচ্ছে।

এদিকে একেই অবস্থা মতলবেও, মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন্ ইউনিয়ন থেকে আসা শিশু রুগীরা প্রতিদিনই নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎিসা সেবা নিচ্ছে। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে এ যাবতপর্যন্ত নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে প্রায় আড়াই শতাধিক শিশু চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে।

চাঁদপুর আড়াই’শ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের শিশু সহকারী রেজিস্ট্রার (শিশু বিশেষজ্ঞ) ডাঃ বিপ্লব দাসের সাথে এ বিসয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারনে শিশুরা হঠাৎ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দেখা যাচ্ছে দিনে গরম, আবার শেষ রাতের দিকে কুয়াসা পড়ার কারনে শিশুদের পুসপুষে ঠান্ডা লেগে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আবার অনেক শিশু নিউমেনিয়া, জ্বর, সর্দি, কাশ, বমি, পাতলা পায়খানাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে । তবে এ ব্যাপারে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্যে সবাইকে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

Related posts