September 22, 2018

আপেল সিডার ভিনেগারের স্বাস্থ্য উপকারিতা

hআপেল সিডার ভিনেগারে রয়েছে আরো অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। কিছু মানুষ স্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত এটিকে ব্যবহার করেন যেমন- ডায়াবেটিস, ক্যানসার, হার্টের সমস্যা, হাই কোলেস্টেরল ও ওজন কমানো ইত্যাদি। সুস্বাস্থ্যে রক্ষায় আপেল সিডার ভিনেগারের রয়েছে নানা উপকারিতা। চলুন জেনে নেয়া যাক, আপেল সিডার ভিনেগারের নানা ব্যবহার-

পেটের সমস্যা নিরাময়ে : পাকস্থলী পীড়ায় কাতর! তাহলে পানিতে একটু আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে নিন। ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশনজনিত ডায়রিয়াতেও সাহায্য করে এই সিডার। এতে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক গুণ রয়েছে। অনেক আগে থেকেই প্রচলিত যে, আপেল সিডার ভিনেগারে রয়েছে পেকটিন, যা বাস্তবিকই অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করে। সরাসরি জুস হিসেবে বা দুই থেকে তিন টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার পানিতে মিশিয়ে পান করা যায়।

হেঁচকি থেকে মুক্তি পেতে : এক চা-চামচ আপেল সিডার ভিনেগার খেয়ে ফেলুন। এর টক স্বাদ হেঁচকি বন্ধ করবে। অতিরিক্ত উত্তেজিত স্নায়ু হেঁচকির জন্য দায়ী। তাই আপেল সিডার খেয়ে নিয়ে গুডবাই জানান হেঁচকিকে।

গলাব্যথা দূর করতে : গলাটা খুব খুসখুস করছে? তাহলে আপেল সিডার ভিনেগারকে আপনার সেবায় লাগিয়ে দিন। ইনফেকশন ছড়িয়ে যাওয়াকেও প্রতিরোধ করবে এটি। কারণ অ্যাসিডযুক্ত পরিবেশে জীবাণুগুলো টিকতে পারে না। ১/৪ কাপ কুসুম গরম পানিতে ১/৪ কাপ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে এক ঘণ্টা পর পর কুলকুচা করলে উপশম পাওয়া যাবে।

কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমাতে : অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, আপেল সিডার কোলেস্টেরল কমায়। ২০০৬ সালে জাপানের এক গবেষণাতে দেখা যায়, ভিনেগার এর অ্যাসিটিক অ্যাসিড রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল ধ্বংস করতে সাহায্য করে। গবেষণায় আরো দেখা যায় যে, আধা আউন্স আপেল সিডার ভিনেগার নিয়মিত সেবন কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

বদহজম প্রতিরোধে : যে খাবারগুলো গ্রহণের পরে আপনার কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তা খাওয়ার আগে এক চুমুক আপেল সিডার খেয়ে নিন। প্রাচীন এই পন্থানুসরণ করতে পারেন- এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চা-চামচ মধু আর এক চা-চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খাবারের আধা ঘণ্টা আগে খেয়ে নিলে বদহজম থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

বন্ধ নাক পরিষ্কারে : এরপর যখন আপনি নাক বন্ধ সমস্যায় ভুগবেন তখন আপেল সিডার ভিনেগার এর শরণাপন্ন হতে পারেন। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, যা মিউকাসকে পাতলা করতে সাহায্য করে এবং অ্যাসিটিক অ্যাসিড জীবাণুগুলো ধ্বংস করে, যা আপনার নাক বন্ধ হওয়া সমস্যা দূর করবে। এক গ্লাস পানিতে এক চা-চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করুন, যা আপনার সাইনাস সমস্যাজনিত নাক দিয়ে পানি পড়া বন্ধ করবে।

ওজন কমাতে : আপেল সিডার ভিনেগার আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে। এর অ্যাসিটিক অ্যাসিড খাওয়ার ইচ্ছাকে দমন করে, মেটাবলিজম বাড়ায়। বিজ্ঞানীরা এই তত্ত্ব প্রদান করেন যে, এটি স্টার্চকে পরিপাকে সাহায্য করে, ফলে রক্তপ্রবাহে ক্যালরির পরিমান কম হয়।

দাঁতের যত্নে : প্রতিদিন সকাল বেলা অ্যাপেল সিডার ভিনেগার পানির সাথে মিশিয়ে গার্গেল করুন। এটি দাঁত এ জমে থাকা দাগ ও হলদে ভাব দূর করে সাথে মুখে জমে থাকা অনুজীব দূর করে থাকে। তারপর সাধারণ নিয়মে দাঁত ব্রাশ করে ফেলুন।

হাঁচি রোধ করতে: ১ চা চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার আপনার হাঁচি রোধ করতে পারে। ভিনেগার এর টক স্বাদ হাচির উদ্রেক প্রতিহত করে।

দুর্বলতা কমায় : যখনি কোন ব্যায়াম বা জিম করার পর পেশিগুলোতে শক্তির প্রয়োজন পরে বা অতিরিক্ত পরিশ্রম এর পর যখন শক্তি চাহিদা বেড়ে যায় তখন অ্যাপেল সিডার ভিনেগার শক্তির সঞ্চয় করে, এতে রয়েছে পটাসিয়াম ও বিভিন্ন রকম এনজাইম যা দুর্বলতা থেকে মুক্তি দেয়।

পটাসিয়ামের উৎস : অনেকেরই পায়ের নিচের দিকে ব্যথা হয় যাকে লেগ ক্রাম্পস বলে, এটি মুলত পটাসিয়ামের ঘাটতির কারণে হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে উচ্চ পটাসিয়াম যুক্ত হয়ায় ভিনেগার খুব উপকারী। তাই ২ চা চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার, ১ চা চামচ মধু গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

Related posts